আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > রোজা রেখে যা কখনোই করবেন না

রোজা রেখে যা কখনোই করবেন না

রোজা রেখে যা কখনোই করবেন না

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

রমজানের রোজা পালন করা আল্লাহর হুকুম। আল্লাহ আমাদের জন্য রহমত, বরকত ও মাগফিরাত হিসেবে রোজাকে ফরজ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি রমজানে আমরা কোন কোন কাজ করব; আবার কোন কোন কাজ পরিহার করে চলব তাও আল্লাহ তায়ালা নিরধারণ করে দিয়েছেন।

চলুন জেনে যাক সিয়াম সাধনার মাস রমজানে আমাদের করণীয় ও বর্জণীয় কি কি রয়েছে-

>>> ভোর রাতে সেহরি খাওয়ার পর আমরা যদি ভালোভাবে কুলি না করি; সে ক্ষেত্রে দাঁতের ফাঁকে খাদ্যাংশ আটকে থাকতে পারে; পরবর্তীতে এই খাবার যদি মুখের ভিতর থেকেই পেটে চলে যায় তবে কোনো ক্ষতি নেই; কিন্তু দাঁতের ফাঁক থেকে বের করে তা আবার মুখে দিয়ে খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

বাস্তব বিষয় হচ্ছে- সেহরির পরপরই আমরা ভালোভাবে কুলি, গড়গড়া করে মুখের ভিতরের অংশ এবং মেসওয়াকের মাধ্যমে দাঁত পরিষ্কার করবো। যাতে করে মুখের ভিতর কোনো খাদ্যাংশ জমা না থাকে। যার দ্বারা রোজার ক্ষতি হতে পারে।

>>> রোজা অবস্থায় কুলি করার সময় গড়গড়া করা যাবে না এবং নাকে পানি দেয়ার সময় পানি যেন নাকের নাসারন্ধ্রে পৌঁছে না যায়। যদি কেউ গড়গড়ার সহিত কুলি করে এবং নাকের ভিতরাংশে তথা নাসারন্দ্রে পানি টেনে নেয় তবে তার রোজা মাকরুহ (ক্ষতিগ্রস্ত) হবে।

হজরত লাকিত রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘নাকে পানি দেয়ার (অযু তথা পবিত্রতা অর্জনে) সময় ভালোভাবে নাকে পানি দাও, তবে রোজাদার অবস্থায় নাকে পানি দেয়া যাবে না।’ (তিরমিজি)

>>> বিনা প্রয়োজনে রোজা অবস্থায় খাবারের স্বাদ গ্রহণ করা; যদি কেউ খাবারের স্বাদ নেয় বা খাবার চিবায় তবে তার রোজা মাকরুহ হয়ে যাবে। (ফতোয়ায়ে জাওয়াহির; ফতোয়ায়ে হিন্দ)

>>> হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা-প্রতারণা ও গোনাহের কাজ ত্যাগ করে না আল্লাহতায়ালার নিকট তার পানাহার থেকে বিরত থাকার কোনো মূল্য নেই।’ (বোখারি)

>>> হাদিসে রয়েছে, ‘কোনো রোজাদার যেন কোনো প্রকার গর্হিত অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত না হয়।’ (আবু দাউদ); রোজা অবস্থায় বকা-বকি, গালি-গালাজ, গীবত বা পরনিন্দা করা, অশ্লীল ভিডিও, টিভি-সিনেমার বেহায়াপনামূলক অনুষ্ঠান দেখা; গাণ-বাদ্য শ্রবণ করা এবং এগুলো ছাড়াও বড় ধরনের খারাবিতে লিপ্ত হলে রোজা মাকরুহ (ক্ষতিগ্রস্ত) হবে। আর এ কাজগুলোতো এমনিতেই বরাবর খারাপ।  তা বর্জন করা আবশ্যক করণীয় কাজ।

কুদসিতে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যখন কোনো ব্যক্তি রোজা রাখে, তখন যেন সে অশালীন কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকে ও উচ্চ আওয়াজে শোরগোল বা গণ্ডগোল না করে।’ (বোখারি)

>>> রোজা অবস্থায় এমন কোনো কাজ না করা যার দ্বারা রোজাদার ব্যক্তি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যায়। সিঙ্গা লাগানো; কাউকে রক্ত দেয়া; বদ রক্ত বের করা এ জাতীয় অন্যান্য কাজও বর্জন করে চলা উচিত। যদি কেউ এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে তবে তার রোজা মাকরুহ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ কাজগুলো মাকরুহ বা ক্ষতিগ্রস্ত নয় কিন্তু এ কাজগুলোর কারণে যদি কেউ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে সে ক্ষেত্রে তার রোজা মাকরুহ হবে।

>>> কোনো রোজাদার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে থুথু জমা করে তা গিলে ফেললে। সেক্ষেত্রে তার রোজা মাকরুহ তথা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার কেউ যদি রোজা থাকাবস্থায় গুল ব্যবহার করেন; এবং এই অযুহাত দাঁড় করান যে, দাঁতের ব্যথায় তিনি অস্থির। সেক্ষেত্রে সত্যিকারার্থে কারো দাঁতের ব্যথা হলে এবং উপায়ান্তর না দেখলে গুল ব্যবহার করা যাবে। পক্ষান্তরে যদি এ গুলের ঝাজ বা স্বাদ মুখের লালার সাথে কিয়দাংশ পেটের ভিতরে চলে সেক্ষেত্রে রোজা ভেঙে যাবে। (ফতোয়ায়ে আলমগীরী, বাহরুর রায়েক)।

তথ্যসূত্র : সহিহ বুখারি, জামে আত-তিরমিজি, ফতোয়ায়ে আলমগীরি, বাহরুর রায়েক, ফতোয়াযে জাওয়াহির।

রোজা থাকা অবস্থায় আমরা এমনি অগণিত অসংখ্য খারাপ কাজ; কথা-বার্তা; ইশারা-ইঙ্গিত; চাহনি; চলা-ফেরা; উঠা-বসা, অগণিত অসংখ্যা খরাবির কাজে লিপ্ত হয়ে থাকি। রোজাকে উপলক্ষ করে আমরা যদি এই সকল প্রকার বেহুদা কথা ও কাজ থেকে নিজেদেরকে মুক্ত রাখতে পারি তবেই রোজা রাখা আমাদের জন্য সার্থক হবে।

এই রোজা হবে আমাদেরে জন্য জাহান্নামের আগুনের ঢালস্বরূপ। তবেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজে থেকে আমাদেরকে অফুরন্ত নেয়ামত ও প্রতিদান দিবেন।

সর্বোপরি সবচেয়ে বড় পাওয়া- রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতের প্রবেশ সুযোগ পাব এবং আল্লাহ তাআলা দিদার লাভে সিক্ত হব। আল্লাহ আমাদের রোজাকে কবুল করুন। সবাইকে সঠিকভাবে রোজা পালন করার সুযোগ দান করুন। আমীন।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে