আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রাজনীতি > নেতা নির্বাচনে ‘বয়স’ বিতর্কে ছাত্রলীগ

নেতা নির্বাচনে ‘বয়স’ বিতর্কে ছাত্রলীগ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচন ছাড়াই গত ১১-১২ মে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন। সংগঠনটির সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। তাই অপেক্ষায় দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এ ছাত্রসংগঠনের লাখ লাখ নেতাকর্মী।

এদিকে, এই অপেক্ষার মাঝেই দেখা দিয়েছে বয়স নিয়ে বিতর্ক। নতুন নেতার বয়স ২৮ নাকি ২৯ হবে এ নিয়েই চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের প্রথম দিনে ২৮ বছর বয়সী নেতা নির্বাচন করার কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যদিও পরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ২৮ বছর ৩৬৪ দিন হলেও নেতা হতে পারবেন বলে জানান আওয়ামী লীগ প্রধান।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্রে ২৭ বছর বয়সসীমা থাকলে বিগত দিনে সকল কমিটিতেই ২৯ বছর বয়সী নেতাই নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলনের আগে এই বয়সসীমা বৃদ্ধি করে ৩০ বছর করার দাবিও উঠেছিল। তবে ওই সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ নেতা হয়েছিলেন ২৮ বছর ১০ মাস বয়সে। এই বয়স বিতর্কের মাধ্যমে ছাত্রলীগ কথিত সিন্ডিকেট যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিজেদের প্রার্থীকে নেতা বানাতে বয়স নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। একই সঙ্গে কমিটি ঘোষণার বিলম্বের সুযোগে পদপ্রত্যাশীদের অযোগ্য করতে চরিত্র হননের চেষ্টা বলেও মনে করেন কেউ কেউ।

ছাত্রলীগের সম্পাদকমণ্ডলী সূত্রে জানা গেছে, অতীতের সকল সম্মেলনে ছাত্রলীগের বয়স কাঠামো ছিল অনূর্ধ্ব ২৯ বছর। এ সম্মেলনের প্রথমে তিনি (শেখ হাসিনা) ২৮ বছর নির্ধারণ করলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ্য প্রার্থী বাচাইয়ে অনূর্ধ্ব ২৯ বছর করেন।

সূত্র আরো জানায়, ছাত্রলীগ কথিত সিন্ডিকেট যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিজেদের প্রার্থীকে নেতা বানাতে বয়স নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। নেতৃত্ব যদি ফের সিন্ডিকেটের হাতে চলে যায় তাহলে ছাত্রলীগে গুণগত কোনো পরিবর্তন হবে না। ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে এ সিন্ডিকেট নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করবে।

তিনি বলেন, তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য একজন মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানাচ্ছেন। যা আমাদের চেতনাকে খাটো করছে।

ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আজকে যারা ২৮ বছর বয়স নিয়ে বিতর্ক তুলছেন। তারা কেউ ২৮ বছর বয়সে নেতা হন নাই। তাদের সবাই ২৯ বছরে পা দিয়েই নেতা হয়েছেন। আমরাও ওই বয়সে নেতা হয়েছি। আর ২৯ বছর পূর্ণ না করলে তো তাকেই ২৮ বছরই ধরা হয়।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহমান বলেন, ২৮ বছরের কথা নেত্রী বলেছেন। ২৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পর্যন্ত সেটা ২৮ বছরই থাকে আমাদের প্রচলিত যুক্তি অনুযায়ী। এ বিষয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। এবারের সম্মেলনে যেহেতু ভোট হয়নি সেহেতু কোনো কায়েমী স্বার্থ গোষ্ঠী তাদের উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করার জন্য এ বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।

বয়স নিয়ে বিতর্ককে ইতিবাচক মনে করেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। তিনি বলেন, নেত্রী আমাদের গঠনতন্ত্রের ঊর্ধ্বে। ছাত্রলীগের নেতৃত্বে যেন প্রকৃত ছাত্র ও মেধাবীরাই আসে, সেজন্যেই এই বয়সসীমা ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে যুক্ত আছে এবং নেত্রী এই নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে