আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > নির্বাচন > খুলনা সিটি করপোরেশন > রাত পোহালেই ভোট, শেষ মুহুর্তেও দুই মেয়র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাত পোহালেই ভোট, শেষ মুহুর্তেও দুই মেয়র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাত পোহালেই ভোট, শেষ মুহুর্তেও দুই মেয়র প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রতিচ্ছবি খুলনা প্রতিনিধি:

রাত পোহালেই ভোট। তাই শেষ দিনে সংবাদ সম্মেলন এবং নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনার মধ্য দিয়ে সময় কাটছে প্রধান দুই দলের মেয়র প্রার্থীর। শেষ মুহূর্তেও ছিল একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

টানা নির্বাচনী প্রচারণা শেষে খুলনায় এখন ভোটের জন্য ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে প্রার্থীদের। ভোটের আগের দিন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে শেষ করল প্রধান দুই দলের প্রার্থী।

আবারো পুলিশ হয়রানির কথা জানালেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পুলিশ এখনো বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার করছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। নেতাকর্মীরা ঘরে থাকতে পারছেন না। এজেন্টদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। সরকারি দল ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

মঞ্জু বলেন, একটি সুন্দর নির্বাচনের ফলকে নিজেদের অনুকূলে নিতে মরিয়া সরকারি দল। সে জন্য নানা কৌশল নিচ্ছে তারা। রাতে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

মঞ্জু আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোটের দিন সকালে রাস্তায় দৌড়ঝাঁপ করবে। মানুষের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক ছড়াবে। তারপর কেন্দ্র অন্যরা সিল মারবে। ভোটের দিন মাঠ খালি রাখতে আজ রাত থেকে ব্লক রেইড দিয়ে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হবে বলেও তাঁর কাছে খবর থাকার কথা জানান মঞ্জু।

অন্যদিকে নির্বাচনকে বানচালের উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, পরাজয়ের ভয়ে মঞ্জু এসব কথা বলছেন।

তিনি বলেন, আগে খুলনার মেয়র থাকাকালীন নগরীর যে উন্নয়ন কাজ করেছি, সেই কাজের ধারাবাহিকতার জন্য মানুষ এবারও আমাকে ভোট দেবে। ২০১৩ সালে খুলনার মানুষ মেয়র নির্বাচনে ভুল করেছে। তার খেসারতও দিয়েছে। পাঁচ বছরে খুলনায় কোন কাজ হয়নি। তাই এবার আর খুলনার মানুষ ভুল করবে না। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই মঞ্জু এসব অভিযোগ করে নির্বাচন বানচাল করতে চাইছেন।

তিনি বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং তো আমি করি না। ইঞ্জিনিয়ারিং করে গতবার আমাকে হারানো হয়েছে। সেটা আজও দৃশ্যমান। ২০১৩ সালের নির্বাচনে আমার ছিল তালা মার্কা। বিএনপি ওই মার্কা ঝুলিয়ে সব জায়গায় ভোট দিয়েছে। এবারও শুনেছি তারা নৌকার ব্যাজ তৈরি করেছে। ওই ব্যাজ পরে তারা ভোটের দিন কাজ করবে।’

খালেকের দাবি, যদি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করা হতো তাহলে ২০১৩ সালে তিনি হারতেন না। ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং আওয়ামী লীগ কখনো করে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মানুষের ভোটে বিজয়ী না হলে জবাবদিহি থাকে না বলে মনে করেন তিনি। এ কারণে তিনি জবাবদিহিতে বিশ্বাস করেন।

খুলনাবাসীর উদ্দেশে তালুকদার খালেক বলেন, ভোট মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রতি পাঁচ বছর পর পর মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়। সুষ্ঠুভাবে ভোট দেবে। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন যেন হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি সে দাবি জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাত পোহালেই খুলনার নগরপিতা নির্বাচনে শুরু হবে ভোট। নির্বাচনে যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তৎপর রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনে মেয়রসহ ৩১ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ১০ জন মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে