আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান নিয়ে মহাকাশে ছুটবে স্যাটেলাইট

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান নিয়ে মহাকাশে ছুটবে স্যাটেলাইট

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান নিয়ে মহাকাশে ছুটবে স্যাটেলাইট [১]

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এরপরই মহাকাশে যাত্রা হবে বাংলাদেশের। এখন শুধুমাত্র এই স্বপ্নযাত্রার অপেক্ষা। ইতোমধ্যে কাউন্ট-ডাউনও শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১০ মে) বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে মহাকাশে ডানা মেলবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিটে এটির যাত্রা হবে মহাকাশে।

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান নিয়ে মহাকাশে ছুটবে স্যাটেলাইট [২]

যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় ১০ মে বিকেল ৪টা ১২ মিনিট থেকে ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ এর উৎক্ষেপণ হবে। বাংলাদেশ সময় তখন শুক্রবার রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিট।

মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য অপেক্ষমান দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১-এ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সংযুক্ত কোনো ছবি কিংবা পতাকার নকশাও থাকছে না। পতাকার বদলে স্যাটেলাইটের গায়ে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান লেখা থাকবে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তারানা হালিম আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পতাকাওয়ালা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের যে ছবিটি ঘুরছে সেটা প্রকৃত ছবি নয়।

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান নিয়ে মহাকাশে ছুটবে স্যাটেলাইট [৩]

১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের সময় বিকেল ৪টা ১২ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশে এই সময়টি হচ্ছে ১১ মে রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিট। স্পেসএক্স-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া এক তথ্যে এ খবর জানা গেছে।’

তারানা হালিম বলেন, ‘আমি যখন স্যাটেলাইটটি সর্বশেষ (নির্মাণ শেষে) দেখতে আসি তখন থ্যালেস অ্যালেনিয়া বলে স্যাটেলাইটের গায়ে নাম লিখে সই করতে। আমি তাদেরকে বলি সই করার একমাত্র অধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কিন্তু তারা আমাকে কিছু একটা লিখতে বলেন। তখন আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে এটি (জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু) হাতে লিখে দেই। সেই লেখাটি স্যাটেলাইটের গায়ে থাকছে।’

তারানা আরো বলেন, ‘যেখানে মানুষ পৌঁছাতে পারে না, যা অসীম মহাশূন্য সেখানেও পৌঁছে যাবে বঙ্গবন্ধুর নাম।

শতভাগ পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এবং পরীক্ষগুলোয় সফল হয়েই স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা বলছেন দেরি হয়েছে, তারা আসলে না বুঝেই বলছেন। কারণ কারিগরি বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাটা আগে।’

কেনেডির স্পেস সেন্টারের ৩৯এ প্যাডে থেকে ৩ দশমিক ৯ মেইল বা ৬ দশমিক ২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অ্যাপোলো বা সাটার্ন ভি সেন্টার থেকে দেখা যাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপণের দৃশ্য। এ ছাড়া সাড়ে সাত মাইল বা ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেইন ভিজিটর কমপ্লেক্স থেকেও দেখা যাবে একই দৃশ্য। এ জন্য কাউকে কোনো অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে না বলে জানিয়েছে স্পেসএক্স।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা বিডার্স ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ব্যয় সংকুলান হয়েছে। এদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে প্রাথমিক এবং রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র দ্বিতীয় গ্রাউন্ড স্টেশন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি দেশে ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। এছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে