আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > রাতেই উৎক্ষেপণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

রাতেই উৎক্ষেপণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে স্যাটেলাইট ও ফ্যালকন-৯ রকেট। এখন কেবল ক্ষণ গণনার পালা। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১০ মে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ১০ মে, দিনগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে) ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর কেপ কেনেডি সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে মহাকাশে উড়বে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। আর এর মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট ওড়ানো রাষ্ট্রের তালিকায় নাম উঠবে বাংলাদেশের।

এই উৎক্ষেপণ উপলক্ষে বাংলাদেশিদের পদচারণায় উৎসবমুখর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যের মিয়ামি, কোকোয়া বিচ ও অরল্যান্ডো এলাকা। সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। শুধু ফ্লোরিডা নয়, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি ফ্লোরিডা যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) ইতিমধ্যে দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেছে। এখন শুধু মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে ফ্লোরিডা পৌঁছেছেন ৩০ সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতা তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তার সঙ্গে রয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও ইমরান আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদসহ অন্যরা।

তাদের বিমানবন্দরে স্বাগত জানান উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা সরকারী দল আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের নেতারা।

ড. সিদ্দিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ফ্লোরিডার কোকোয়া বিচ সংলগ্ন একটি হোটেলে উঠেছেন। তিনি জানান, উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর করতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য থেকে দলের নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে ফ্লোরিডা পৌঁছতে শুরু করেছেন। শুধু দলের নেতাকর্মীরাই নন, অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণে ফ্লোরিডাগামী হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষজন।

এদিকে উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানের পরের দিন কোকোয়া বিচ হোটেলে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস। সজীব ওয়াজেদ জয় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

নাসা’র সিডিউল অনুযায়ী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে গণমাধ্যম কর্মীরা নাসা’র গবেষণাস্থল কেনেডি স্পেস সেন্টারে প্রবেশ করতে পারবেন। নাসার কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে। নাসা সূত্রে জানা গেছে, শুধু সরকারের প্রতিনিধি দলের সদস্য ও গণমাধ্যম কর্মীরা খুব কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও কেনেডি স্পেস সেন্টারে আলাদা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা দলের নেতাকর্মীদের জন্য কেনেডি স্পেস সেন্টারের আশপাশে খোলা প্রান্তর থেকে উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান আরও জানান, ১০ মের অনুষ্ঠান স্মরণীয় করে রাখতে পুরো দিনটি ঘিরে ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকে কেনেডি স্পেস সেন্টারের আশপাশে নেতাকর্মীরা আনন্দ র‌্যালি বের করবেন। সন্ধ্যার পর থেকে ফ্লোরিডার আকাশজুড়ে আতশবাজির ঝলকানি দেখা যাবে। তিনি বলেন, ৯ মে থেকে কেনেডি স্পেস সেন্টারের পার্শ্ববর্তী কোকোয়া বিচের অধিকাংশ হোটেলে রুম খালি নেই। অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্সগুলোতেও আসন মিলছে না।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে গেলে নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এছাড়া এই স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেমন অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা কমবে, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায়ও আমূল পরিবর্তন আসবে।

স্পেস এক্স-এর উৎক্ষেপণযান বা রকেট ফ্যালকন-৯ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে মহাকাশে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত অরবিট প্লটে স্থাপন করবে। ফ্রান্সের কান টুলুজ ফ্যাসিলিটিতে নির্মিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ইতিমধ্যে ফ্রান্স থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কার্গো বিমানে করে উৎক্ষেপণস্থল ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর ক্যাপ ক্যানাভেরালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা বিডার্স ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ব্যয় সংকুলান হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে প্রাথমিক এবং রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র দ্বিতীয় গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণ কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর এটি পরিচালনা, সফল ব্যবহার ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কোম্পানিতে কারিগরি লোকবল নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট সংস্থা বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ খাতে ব্যয় করছে বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যাত্রা শুরু করলে এই বিপুল অর্থ দেশেই থেকে যাবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি দেশে ব্যবহারের জন্য এবং ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। এছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে