আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > স্মরণে রবি ঠাকুর

স্মরণে রবি ঠাকুর

স্মরণে রবি ঠাকুর

প্রতিচ্ছবি বিনোদন ডেস্ক:

‘অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে আদর্শ রবীন্দ্রনাথ’ এই কথা স্বরুন রেখে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ছিল নানা আয়োজন। গান, কবিতা ও কথনে বাঙালির সাংস্কৃতিক-সামাজিক জীবনে বিশ্বকবির প্রভাব নিয়ে হয়েছে বিস্তর আলোচনা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্যিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছায়ানটে শুরু হল দুদিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসব।

ছায়ানটের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা।

তিনি বলেন, “রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠান উদযাপনের মধ্য দিয়ে ছায়ানটের জন্ম। এরপর স্বাধিকার আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ প্রেমের গান আমাদের প্রেরণা যুগিয়েছে। আজও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠণের লক্ষ্যে রবীন্দ্র রচনা আমাদের আদর্শ হিসেবে পথ দেখায়।”

পূর্বাচলে রবীন্দ্রনাথ

এরপর ‘হে নূতন দেখা দিক আরবার’ সমবেত গান আর গীতি-নৃত্য দিয়ে শুরু হয় ছায়ানটের দুদিনের রবীন্দ্র উৎসব।

প্রথম দিনে ছিল রবীন্দ্র গীতি আলেখ্য ‘মহাবিশ্বে মহাকাশে’,  এটি গ্রন্থনা করেছেন অরুণাভ লাহিড়ী। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা গীতি নৃত্যে পরিবেশন করে ‘বিপুল তরঙ্গ রে’ ও ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’। সম্মেলক কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে’, ‘প্রথম আদি তব শক্তি’, ‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে’. ‘আনন্দধ্বনি জাগাও গগনে’, ‘বাঁধন ছেঁড়ার সাধন হবে’ ও ‘আপন হতে বাহির হয়ে’।

অনুষ্ঠানে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সেমন্তী মঞ্জরী, সাজেদ আকবর, সালমা আকবর, মহাদেব ঘোষ, মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না, লাইসা আহমদ লিসা, ফারজানা আক্তার পপি, সত্যম কুমার দেবনাথ, সিফায়েত উল্লাহ, ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, রোকাইয়া হাসিনা, মিতা হক, আসিফ আরমান, সুস্মিতা আহমেদ বর্ণা, মাকছুরা আক্তার, আব্দুল ওয়াদুদ,  ও সুমান্ত রায়। আবৃত্তি করেন মিল্পী জয়ন্ত রায়, সুমনা বিশ্বাস ও কৃষ্টি হেফাজ।

রবীন্দ্র মেলা ২০১৮

শিল্পকলায় ‘পূর্বাচলে রবীন্দ্রনাথ’

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয় দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। তৎকালীন পূর্ববঙ্গে কবিগুরু অবস্থানকালে তার রচিত সম্ভারের কিয়দংশ নিয়ে ‘পূর্বাচলে রবীন্দ্রনাথ’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন। এতে প্রধান আলোচক ছিলেন ড. হায়াৎ মামুদ। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

আলোচনা পর্ব শেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নিয়ে সুরে ধারার শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘আলো আমার আলো ওগো আলোয় ভুবন ভরা’ গানটি। সম্মেলক কণ্ঠে সুরের ধারার শিল্পীরা আরও গেয়ে শোনান ‘সব নিতে চাই’ ও ‘অন্তর মম বিকশিত কর’।

তামান্না রহমানের পরিচালনায় শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা ‘হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে’, ‘আমি চিনি গো চিনি’ ও ‘বিশ্ববীণা রবে বিশ্বজন মোহিছে’ গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন। ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এককভাবে পাঠ করেন ‘নববর্ষ’ এবং তামান্না তামান্না তিথির সঙ্গে যৌথভাবে আবৃত্তি করেন ‘দুই পাখী’ কবিতা।

একক কণ্ঠে স্বাতী বিশ্বাস গেয়ে শোনান ‘শুধু যাওয়া আসা শুধু  স্রোতে ভাসা’ ও ‘পূর্বাচলের পানে তাকাই’,  নীলোৎপল সাধ্য ‘ঝরো ঝরো বরিষে বারিধারা’, আজিজুর রহমান তুহিন ‘খাঁচার পাখী ছিল সোনার খাঁচাটিতে’, মহাদেব ঘোষ ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা’, সালমা আকবর ‘হৃদয়ের একূল ওকূল’, আদ্রিজা ‘ওলো সই ওলো সই’, শিউলী আশীষ সরকার ‘যদি বারণ করো তবে’, জলি রহমান ‘আমি কেবলই স্বপন’, বুলবুল ইসলাম ‘আজি ঝড়ের রাতে’ ও ছায়া কর্মকার ‘ভালবেসে সখী নিভৃতে যতনে’ গানগুলো শোনান।

চ্যানেল আই রবীন্দ্র মেলা

এক যুগের ধারাবাহিকতায় এবারও রবীন্দ্রজয়ন্তীতে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্র মেলা।

মেলায় রেজওয়ানা চৌধুরীর রবীন্দ্র সঙ্গীতের সিডি ‘বনে এমন ফুল ফুটেছে’, শিমু দে’র ‘সাগর পাড়ের সুর’ এবং কোনালের রবীন্দ্র সঙ্গীতের ভিডিও আর্ট ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে’র মোড়ক উন্মোচিত হয়।

এবারের রবীন্দ্র মেলায় আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্র গবেষক ড. আতিউর রহমানকে। তার হাতে আজীবন সম্মাননার ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট এবং উত্তরীয় তুলে দেন নাট্যজন আতাউর রহমান ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।

 

এএম/এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে