আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ঢাকা > বিশ্বব্যাপী একই তারিখে ঈদ ও রোজা পালনের দাবি

বিশ্বব্যাপী একই তারিখে ঈদ ও রোজা পালনের দাবি

নতুন চাঁদ

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

সারা বিশ্বের মুসলমানরা যাতে একই দিনে ঈদ ও রোজাসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে পারে তার দাবি জানিয়েছে মুসলিম উম্মাহ্ নামের একটি সংগঠন। তারা দাবি করেছে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ ছাড়া প্রায় সারা বিশ্বে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে একই দিনে ঈদ পালিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়।

তবে উল্লিখিত তিন দেশের কিছু কিছু মানুষ সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ পালন করে থাকে। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও যাতে ঈদ ও রোজার মতো ফরজ ইবাদতগুলো একসঙ্গে পালন করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। শনিবার থেকে ৪৫তম ওআইসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে ঢাকায়। এই সম্মেলনকে সামনে রেখে বিশ্ব মুসলিমদের এই সংগঠনটিকে মুসলমানদের ফরজ ইবাদতের বিষয়ে থাকা মতদ্বৈততা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম উম্মাহ।

সংবাদ সম্মেলনে ওআইসি ফিকহ্ একাডেমিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ আল মারুফ আল-মাদানী আল-আযহারী বলেন, বিশ্বের প্রায় বেশিরভাগ দেশে পবিত্র মাহে রমজান কোন দিন শুরু হবে এবং ঈদ কোন তারিখে পালন করা হবে সে বিষয়ে বিতর্কের সমাধান হলেও বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানে সেই বিতর্কের অবসান হয়নি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রমজান যেদিন শুরু হয় বাংলাদেশে তার একদিন পরে শুরু হয়। এমনিভাবে ঈদও একদিন পরে পালিত হয়। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে চাঁদ দেখে রোজ এবং ঈদ পালনের কথা বলা হয়েছে।

আমাদের পবিত্র এই গ্রন্থে ‘সকল মুসলিমদের’ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। সেখানে কোন মহাদেশে কখন চাঁদ দেখা যাবে, আর সেইভাবে ঈদ পালন করতে হবে তা বলা হয়নি। যুক্তি উত্থাপন করে আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ বলেন, একটি দেশের সব মানুষ চাঁদ দেখে ঈদ কিংবা রোজা পালন করেন না। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী করেন। আমাদের সরকার ১৯৮৬ সালে ওআইসিভুক্ত ৫৭টি মুসলিম দেশের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে ঈদ ও রোজা পালনের সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়নি। সরকারের উচিত অবিলম্বে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনের প্রধান অতিথি ও মুসলিম উম্মাহর  উপদেষ্টা ড. সৈয়দ জিলানী মাহবুবুর রহমান সচিত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে রোজা ও ঈদসহ মুসলিমদের ফরজ ইবাদতগুলো একইরকম সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পালনের যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব কবে ঈদ বা রোজা পালন করছে তার ভিত্তিতে নয়। বৈজ্ঞানিক রীতিতে সৌদিসহ সব মুসলিম ব্যক্তি ধর্মীয় রীতি পালন করবেন এটাই স্বাভাবিক। বিজ্ঞান সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন বিষয় আবিষ্কার করছে। কিন্তু আমাদের পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ১৪শ বছর আগেই আল্লাহতায়ালা সেসব বিষয়ে ফয়সালা দিয়ে রেখেছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আরও জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তারা এসব বিষয়ে ইতিবাচক কথা বললেও সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। মুসলিম উম্মাহর সংগঠকরা আরও জানান, এই বিতর্ক ফয়সালা করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দুই দফা আলোচনার আয়োজন করেছিল। আমরা সেসব আলোচনায় যুক্তি প্রদর্শন করেছি। কিন্তু ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সেই আলোচনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।

মুসলিম উম্মাহ্ মনে করে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা অনেকবার চেষ্টা করেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি। তারা চান, বাংলাদেশের মুসলমানরা যাতে কুসংস্কারে না থেকে প্রকৃত ইসলামিক রীতিনীতি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুসলিম উম্মাহ সভাপতি মুফতি সাইয়্যেদ আবদুছ সালাম। এছাড়া বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদগণ উপস্থিত ছিলেন।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে