আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > ঐতিহাসিক ঐক্যমত: শান্তির পথে দুই কোরিয়া

ঐতিহাসিক ঐক্যমত: শান্তির পথে দুই কোরিয়া

কোরিয়ার ঐতিহাসিক ঐক্যমত

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাড়ে ছয় দশকের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ঐতিহাসিক ঐক্যমতে পৌঁছেছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন ঘোষণা দিয়েছেন, কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে একসঙ্গে কাজ করবেন তারা।

এ বছরই একটি শান্তি চুক্তিতে সই করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার এসেছে দুই নেতার কাছ থেকে।

দুই দেশের সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজমে শুক্রবার এক ঐতিহাসিক বৈঠকের পর কিম ও মুনের এই যৌথ ঘোষণা আসে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর।

শুক্রবার সকালে দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিক অঞ্চল পানমুনজমে বৈঠক হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করেন কিম জং-উন। পরে দুই নেতা বৈঠকে বসেন পানমুনজমের ‘পিস হাউস’ এ।

দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন আর উত্তেজনার অচলায়তন পেরিয়ে উত্তরের নেতা দুই দেশের মিলিটারি লাইনে পৌঁছালে  দক্ষিণের নেতা মুন তাকে স্বাগত জানান।

কিমের অভাবনীয় এক তাৎক্ষণিক আমন্ত্রণে মুনও সীমারেখা টপকে উত্তরের মাটিতে পা রাখেন।

করমর্দনের পর কিমের হাত ধরে ফের তাকে সীমান্ত পার করে দক্ষিণে নিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট মুন। সামরিক কায়দায় গার্ড অব অনার দিয়ে অভিবাদন জানানো হয় উত্তরের নেতাকে।

১৯৫৩ সালে কোরিয়া যুদ্ধের অবসানের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতার দক্ষিণে পদার্পণ।

প্রথম দফা বৈঠকের পর দুই নেতাই ভোজনের জন্য চলে যান এবং কিম কড়া পাহারার মধ্য দিয়ে লিমোজিন গাড়িতে করে উত্তরে ফিরে যান।

বিকালে আবার তিনি ফিরে আসার পর দুই নেতাই সীমান্তে শান্তির প্রতীক হিসাবে একটি গাছ রোপন করেন। দুই দেশের মাটি দিয়েই গাছটি লাগিয়ে এর গোড়ায় ঢালা হয় দুই দেশেরই পানি।

এরপর চিহ্নস্বরূপ একটি পাথরের ওপর লেখা হয় দুই নেতার নাম এবং বার্তামূলক ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির বৃক্ষ রোপন’ কথাটি।

এরপর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন সযত্নে তৈরি ভোজে অংশ নেন। এ ভোজে খাবারের প্রতিটি গ্রাসই ছিল প্রতীকী। কোনো খাবার এসেছে নেতাদের নিজ শহর থেকে; কোনটার উৎস ছিল অসামরিক এলাকা, যেখানে দুই পক্ষ বৈঠকে বসছে।

সংবাদ মাধ্যমে বিবৃতির পর দেওয়া যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, ‘পুরোপুরি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মাধ্যমে পরমাণুমুক্ত কোরিয়া উপদ্বীপ গড়ে তোলার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া দৃঢ়ভাবে একমত। কোরীয় উপদ্বীপে আর কখনও যুদ্ধ হবে না। শান্তির নবযুগের সূচনা হলো।’

এসএইচ/ জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে