আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিজ্ঞান প্রযুক্তি > ফেসবুকে পর্নোগ্রাফি দেখাই যাদের চাকরি

ফেসবুকে পর্নোগ্রাফি দেখাই যাদের চাকরি

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সম্প্রতি তাদের কনটেন্ট মডারেশনের নীতিমালা প্রকাশ করেছে। ওই নীতিমালার আওতায় ঠিক করা হয়, ফেসবুকে কোন কন্টেন্টগুলো থাকবে, কোনগুলো থাকবে না। এরপর থেকেই রিভিউয়ের কঠিন কাজগুলো যারা করেন, তাদের ভূমিকা প্রকাশিত হয়েছে।

সারাহ কাটজ  নামে ফেসবুকের এমনই এক সাবেক কর্মী বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইন্টারনেটে পাওয়া যায় এমন সব ধরনের কদর্যতম জিনিস তাকে এই চাকরিতে রোজ দেখতে হতো; যার বেশির ভাগই পর্নোগ্রাফি- আর এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল তার ব্যক্তিগত জীবনে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, তারা তাদের মডারেটরদের মনস্তাত্ত্বিক সাহায্য দিতে সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রেখেছে।

আসলে ফেসবুকে কাজ করেন এমন বেশকিছু কর্মী, রোজ যারা ইন্টারনেটের কুৎসিততম জিনিসগুলো দেখেন, যাতে আমার আপনার মতো সাধারণ লোকের সেগুলো দেখতে না-হয়।

ফেসবুকে কিছু আপত্তিকর চোখে পড়লে আপনি যদি সেটা রিপোর্ট করেন, তাহলে সেই অনুরোধ চলে আসে বার্লিনে ফেসবুকের এক লুকোনো অফিসে। ওই অফিসে কাজ করতেন, এমন এক কর্মী বলেন, আমাকে রোজ কাঁদতে হতো। ফেসবুকে বোধহয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এটা, আর সবচেয়ে খারাপও, কিন্তু কারও যেন সেটা নিয়ে মাথাব্যথা নেই।

তিনি বলেন, রোজ অসম্ভব সব খারাপ ও যন্ত্রণাদায়ক জিনিস দেখতে হতো … মাথা কেটে ফেলা, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি, পশুদের ওপর নির্যাতন এসব। একটা যেন যন্ত্রের মতো হয়ে গিয়েছিলাম। ওগুলো দেখে আঙুলের একটা ক্লিকে ঠিক করতে হতো জিনিসটা থাকবে কি থাকবে না।

এমনকি, তিনি বলছেন এই গভীর মানসিক সঙ্কটের সময় ফেসবুকও তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি। কোম্পানি আমাদের কোনো সাহায্যই করেনি। আমরা প্রায় রোজ অভিযোগ জানাতাম। প্রায় রোজই, কারণ আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছিল। আমাদের যে জিনিসগুলো দেখতে হতো সেগুলো আর নেয়া যাচ্ছিল না।

ফেসবুক অবশ্য দাবি করছে এই কর্মীদের সাহায্য করা হয় না, সেই অভিযোগ মোটেও ঠিক নয়। মনিকা বিকার্ট বলেন, কাজটা কঠিন ঠিকই। কিন্তু সেটা ঠিকমতো করার জন্য যা দরকার কর্মীদের সেটা দিতেও কিন্তু আমরা দায়বদ্ধ।

এসএইচ/এএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে