আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > পরিবেশ > ঝিনাইদহের বারোবাজার হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র

ঝিনাইদহের বারোবাজার হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র

ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ বারোবাজারের প্রত্নত্তত স্থাপত্ত নিদর্শন

আবদুলাহ আল মাসুদ জুয়েল:

সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের বারোবাজার হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। ঝিনাইদহ জেলা শহর থেকে ৩০ মাইল ও কালীগঞ্জ শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত বারোবাজার।

১২ জন আউলিয়ার নামানুসারে এখানকার নামকরণ করা হয় বারোবাজার। আউলিয়ারা হলেন- এনায়েত খাঁ, আবদাল খাঁ, দৌলত খাঁ, রহমত খাঁ, শমসের খাঁ, মুরাদ খাঁ, হৈবত খাঁ, নিয়ামত খাঁ, সৈয়দ খাঁ, বেলায়েত খাঁ ও শাহাদত খাঁ।

শুধু বারোবাজার নয়, পার্শ্ববর্তী অনেক গ্রামগঞ্জের নামও এসব আউলিয়ার নামে রাখা হয়েছে।

ঝিনাইদহের বারোবাজারের প্রত্নত্তত স্থাপত্ত নিদর্শনকিংবদন্তি আছে, বঙ্গবিজয়ী বীর ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি নদীয়া দখলের পর নদীয়ার উত্তর দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। ফলে তার বিজিত রাজ্য উত্তর দিকে প্রশস্ত হতে থাকে।

ওই অঞ্চলে বিজয়ের গৌরব অর্জন করেন হজরত খানজাহান আলী। তিনি এক সময় নিজের আত্মরক্ষার্থে একটি ক্ষুদ্র সেনাবাহিনীর অধিনায়ক হয়ে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতগঞ্জ প্রবেশ করেন। সেখান থেকে বৃহত্তর যশোর জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার হাকিমপুর হয়ে বারোবাজার অভিমুখে রওনা দেন।

পথিমধ্যে জনসাধারণের পানীয় জলের তীব্র কষ্ট দেখে তিনি এ অঞ্চলে অগণিত দিঘি আর পুকুর খনন করেন। এ অঞ্চলে ৮৪ একর পুকুর ও দিঘি এখনো বিদ্যমান।

ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ বারোবাজারের প্রত্নত্তত স্থাপত্ত নিদর্শন হিসাবে মসজিদজানা যায়, পীরপুকুর ৪ একর, গোড়ার পুকুর ৫ একর, সওদাগর দিঘি ১১ একর, সানাইদার পুকুর ৩ একর, সাতপীরের পুকুর ৩ একর, ভাইবোনের দিঘি ৪ একর, আনন্দ ২ একর, গলাকাটা দিঘি ৪ একর, জোড়াবাংলা দিঘি ৩ একর, চোরাগদা দিঘি ৪ একর, মাতারানী দিঘি ৮ একর, নুনো গোলা দিঘি ৩ একর, কানাই দিঘি ৩ একর, পাঁচ পীরের দিঘি ৩ একর, মনোহর দিঘি ৩ একর, আদিনা দিঘি ৩ একর, শ্রীরাম রাজার দিঘি ১০ একর ও বেড় দিঘি ৮ একর।

খানজাহান আলীর এক যুগ সাধনার স্থাপত্য নিদর্শন রয়ে গেছে এই বারোবাজারে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নিদর্শন ৩২ গম্বুজবিশিষ্ট সাতগাছিয়া আদিনা মসজিদ ও বারোবাজার গলাকাটা দিঘির ৬ গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ। যে মসজিদটি মাত্র দুটি ভিত্তির ওপর দন্ডায়মান রয়েছে।

এ ছাড়াও এখানে রয়েছে অগণিত মসজিদ। যে কোনো মাটির ঢিপি সরালেই মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়। যার অনেকগুলো এরইমধ্যে আবিষ্কার করে আংশিক সংস্কারও করা হয়েছে।

এখনো অনেক মসজিদ মাটির নিচে রয়েছে বলে ধারণা করা যায়। কারণ এ পর্যন্ত যতগুলো মাটির ঢিপি সরানো হয়েছে ততগুলো মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ঝিনাইদহ জেলার বারোবাজারের প্রত্নত্তত স্থাপত্ত নিদর্শন, মসজিদকিংবদন্তি আছে, বহুকাল আগে এই বারোবাজার যুদ্ধে অথবা মহামারিতে জনশূন্য হয়ে পড়ে। এরপর এখানে বারোজন আউলিয়ার আগমন ঘটে এবং তখন থেকেই তৈরি হয়েছে অগণিত মসজিদ, খনন হয়েছে পুকুর আর দিঘি।

জলাশয়ের ঘটনাগুলো জনসাধারণ উপলব্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকারের খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কয়েক বছর আগে এখানে কিছু মসজিদ ও পাকা সিঁড়িগুলো আবিষ্কার করেছেন। এ ছাড়াও কয়েকটি মসজিদ সংস্কার করেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু জানান, বারোবাজারের এই প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনের তেমন প্রচার না থাকায় মূলত পর্যটকশূন্য।

এ ছাড়াও আবাসিক হোটেল না থাকায় পর্যটকদের নজর কাড়তেও ব্যর্থ হচ্ছে ফলে বর্তমান প্রজন্মের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কেও জানতে পারছে না। সরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে পর্যটকদের উৎসাহিত করলে এবং সরকারিভাবে মসজিদগুলোর শোভাবর্ধনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এটি আরো নান্দনিক ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে