আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > লাল-সাদার ‘পয়লা বৈশাখ’

লাল-সাদার ‘পয়লা বৈশাখ’

জোহরা সিজন:

লাল-সাদার বাঙ্গালিয়ানার ‘পয়লা বৈশাখ’। লাল চুড়ি, টিপ, আলতা রাঙা পা, খোঁপায় দেশি ফুল আর লাল পাড়ের সাদা শাড়িতে অনন্য বাঙালি ললনা! এ যেন বর্ষবরণের চিরাচরিত রূপ।

গতকাল উদযাপিত হলো বাংলা ১৪২৫ সালের প্রথম দিন। তবে এবারের উদযাপন যেন একটু ভিন্নই ছিল। নববর্ষ উদযাপনে এবছর ছিল না বরাবরের সেই প্রানবন্ততা। ছুতো ধরেই বারবারই যেন ভাটা পড়ে যাচ্ছিল উৎসব মুখরতায়।

সকাল ৯টার চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রাটিও যেন প্রাণহীন ছিল। অন্যান্যবারের তুলনায় শোভাযাত্রায় এবার জনসমাগমও ছিল কম।

তবে শুধু শোভাযাত্রা নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও জনসমাগম ছিল তুলনামূলক কম। সাধারণ দর্শনার্থীরা বলছেন, পয়লা বৈশাখের আগে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আনন্দের যে আমেজ বিরাজ করতো, এবার সেটাও তেমন ছিল না।

মঙ্গল শোভাযাত্রা

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকেই জানান, তারাও লক্ষ করেছেন এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় জনসমাগম গতবারের তুলনায় কিছুটা কম। শুধু তা-ই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়ও মানুষ কম এসেছেন।

পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব মঞ্চ বানিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো, এ বছর সেসব স্থানের কয়েকটি ফাঁকা পড়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সামনের মাঠে কোনও আয়োজন নেই। এছাড়া টিএসসির সামনে ডাচেও কোনও আয়োজন দেখা যায়নি। সেখানে দর্শনার্থীদের বসে জিরিয়ে নিতে দেখা গেছে। তবে মল চত্বর, কলাভবনের সামনে এবং চারুকলা অনুষদ এলাকায় মঞ্চ বানিয়ে উৎসব করতে দেখা

অপূর্ণতা যেন রইলো না! স্বয়ং কালবৈশাখীও চলে এলো বাংলা ১৪২৫ কে বরণ করে নিতে। সারাদিন রোদের দাবদাহ থাকলেও শেষ বিকেলের কালবৈশাখী এনে দিয়েছিল ভিন্ন স্বাদ। তবে এক দলের কাছে ব্যাপারটা সুখকর হলেও কিছু মানুষের কাছে তা ভোগান্তির কারন হয়ে দাঁড়ায়।

সকাল থেকে মূল গন্তব্য রমনা পার্ক ও শাহবাগ এলাকা হলেও বিকেলে মানুষ ছড়িয়ে পরে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র এবং খোলা জায়গার উদ্দেশ্যে। এমন সময় বৃষ্টি শুরু হয় এবং পরে তা কালবৈশাখীর রূপ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টার এ বৃষ্টিতে মহানগরীর বেশকিছু সড়কে পানি জমে। শ্যামলী, মানিক মিয়া এভিনিউ, রামপুরা, শ্যামপুর, কমলাপুর, মিরপুর, বাড্ডার নামা এলাকা ও যাত্রাবাড়ীর কিছু এলাকার সড়ক ডুবে যায়। এতে করে ওইসব এলাকায় যানচলাচল কমে যায়। যারা পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বের হয়েছিলেন তাদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। গণপরিবহনের সংকট দেখা দেয়।

কালবৈশাখীতে ভাসল পহেলা বৈশাখ

এ ধরনের বিশেষ দিনগুলোতে এমনিতেই রিকশা ও অটোরিকশায় ছিল বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রবণতা থাকে তার ওপর বৃষ্টি হওয়ায় ভাড়া আরও বেড়ে যায়। অনেককে রিকশা চালকদের সঙ্গে তর্কেও জড়াতে দেখা গেছে। কেউ কেউ কোন প্রশ্ন না করেই রিকশায় উঠে গেছেন বৃষ্টির হাত থেকে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে।
অনেকে বৈশাখের প্রথম দিন আবহাওয়ার দ্বৈত চরিত্রে অবশ্য খুশিও হন। অনেকে ইচ্ছে করেও বৃষ্টিতে ভিজেছেন।

অন্যদিকে, সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রার র‌্যালির পরে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মিছিল করেছে একদল শিক্ষার্থী। ৮ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলায় বিচার চেয়েছেন তারা।

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি

মিছিল শেষে পুলিশের হামলায় আহত হওয়া শিক্ষার্থীদের ছবিগুলো কালো কাপড়ের সঙ্গে টাঙিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসিতে) ঝুলিয়ে চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেছে শিক্ষার্থীরা।

জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে