আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি: বাবুল চিশতিসহ গ্রেপ্তার ৪

ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি: বাবুল চিশতিসহ গ্রেপ্তার ৪

মাহবুবুল হক চিশতী

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

ফারমার্স ব্যাংকের প্রায় ১৬০ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীসহ (বাবুল চিশতী) চারজনকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলমের নেতৃত্বে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় বলে দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), তার ছেলে রাশেদুল হক চিশতী, ব্যাংকের এসভিপি জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং ব্যাংকের জামালপুর বকশীগঞ্জ শাখার ফার্স্ট প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মাসুদুর রহমান খান।

এর আগে আজ মঙ্গলবার গুলশান থানায় দুদক পরিচালক কাজী শফিকুল আলম বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বাকি দুজন আসামি হচ্ছেন- মাহবুবুল হক চিশতীর স্ত্রী মিসেস রুজী চিশতী ও গুলশান শাখার এসইভিপি ও সাবেক ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ফারমার্স ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকিং নিয়মাচারের তোয়াক্কা না করে ব্যাংকটির অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী তার ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখার একটি সঞ্চয়ী হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ নগদে ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা ও উত্তোলন এবং বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী, ছেলে, মেয়েদের এবং তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন শাখায় মোট ২৫টি হিসাবে বেশিরভাগ অর্থ নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ১৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪২ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।

মামলার বিবরণীতে আরো বলা হয়, বর্ণিত হিসাবগুলোতে গ্রাহকদের হিসাব থেকে প্রেরিত অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করে এবং নিজেদের নামে ক্রয়কৃত ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এর আগে ফারমার্স ব্যাংকের জালিয়াতির ঘটনায় দুদক মাহবুবুল হক চিশতী এবং তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে গত সপ্তাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই তালিকায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নাম নেই।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকটির গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।

২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেয়া ফারমার্স ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর পরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। আস্থার সংকট তৈরি হলে আমানতকারীদের অর্থ তোলার চাপ বাড়ে। পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তারা।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে