আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আইন-মানবাধিকার > শিশু অংশুমান থাকবে খালার হেফাজতে

শিশু অংশুমান থাকবে খালার হেফাজতে

অংশুমান
প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

টাঙ্গাইলের আলোচিত ১৮মাসের শিশু অংশুমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক খালার হেফাজতে দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপন মায়ের করা রিট নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তলব করা টাঙ্গাইল-ক অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট নাহিদ ফারজানা, আলো মন্ডল ও স্নিগ্ধা সরকার। অন্যদিকে খালার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সুব্রত সাহা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে আইনজীবী অজি উল্লাহ, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

পরে আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন শিশু অংশুমান আপাতত খালার হেফাজতে থাকবে। মা শিশুটিকে দেখাশুনার সুযোগ পাবেন। মামলাটি এখন উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন দেওয়ানি আদালতে যাবে। দেওয়ানি আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে দত্তক বিষয়ে এই মামলায় রায় দেবেন। সেই পর্যন্ত শিশুটি খালার হেফাজতেই থাকবে।

শিশুকে খালার হেফাজতে দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন শিশুর মা। সেই আবেদেনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ এপ্রিল ১৮ মাসের শিশু অংশুমানকে খালার হেফাজতে দেয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট।একই সঙ্গে খালার হেফাজতে থাকা শিশু অংশুমান, তার খালা শোভা রানী গুহ ও স্বামী বিপ্লব গুহকে আদালতে হাজির করতে ঘাটাইল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। সে অনুযায়ী শিশুর খালা শুভা রানী গুহ, মা জেবা দে, বাবা বিপুল দেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আজ আদালতে উপস্থিত হন।

আদালতে শুনানিকালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদালত ১৮ মাসের শিশু অংশুমানকে খালার হেফাজতে দেয়ার পর মা তাকে কোলে নিতে চান এবং কোলে নেন। এ সময় শিশুটি কিছুটা ভয় পেলে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নাইমা হায়দার নিজেই শিশুটিকে কোলে নিয়ে পরে খালার হেফাজতে দেন। এরপর খালা শিশুটিকে নিয়ে চলে যান।

হাইকোর্টে করা মায়ের আবেদনে বলা হয়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বিপুল দে ও জেবা রানী দম্পত্তির একটি ছেলে হওয়ার পর নাম রাখা হয় অংশুমান দে। তার বয়স যখন এক বছর তখন খালা-খালু তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তারা নিঃসন্তান দম্পত্তি হওয়ায় ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর কয়েক দিনের জন্য শিশু অংশুমানকে নিয়ে যান। এরপর ওই শিশুর বাবা-মা নিজেদের সন্তান ফেরত চাইলে খালা-খালু অংশুমানকে না দিয়ে তাদের বাড়িতে আটকে রাখে।

এ অবস্থায় নিজ সন্তানকে ফেরত পেতে গত ১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ক-অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করেন অংশুমানের বাবা-মা। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘাটাইল থাকার ওসিকে খালাকে অংশুমানসহ হাজির করার নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক ১৮ জানুয়ারি শিশুটিকে হাজির করা হলে তাকে মায়ের কাছে ফেরত দেয় আদালত।

এরপর আবার ২১ মার্চ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উভয়পক্ষের শুনানি শেষে শিশুটিকে খালার হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে শিশুটির বাবা-মা হাইকোর্টে রিট করেন।

তবে শিশুর নানী রত্না রানী চন্দ্র সাংবাদিকদের জানান, গর্ভে থাকতেই সন্তানকে দত্তক দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মা জেবা রানী। সে অনুযায়ী শিশু জন্মের সময়ও সিজারের খরচ খালা বহন করে এবং সেই থেকেই অংশুমান তার হেফাজতে আছে।

এএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে