আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ক্যাম্পাস > উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস বর্জন-মহাসড়ক অবরোধ

উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস বর্জন-মহাসড়ক অবরোধ

উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস বর্জন-মহাসড়ক অবরোধ [১]

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

কোটা সংস্কারের পাঁচ দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা, বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্দোলনে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি একটাই- কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনতে হবে। মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়ন এবং কোটার নামে অমেধাবীদের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অন্যায্য পন্থা বন্ধের দাবিতে অনড় তারা।

উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস বর্জন-মহাসড়ক অবরোধ [২]

এছাড়া কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দফায় দফায় হামলার ঘটনায় ফের বিক্ষোভ মিছিল করছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দোয়েল চত্বর থেকে মিছিল সহকারের টিএসসির হয়ে কার্জন হলের সামনে অবস্থান নেয়।

এখানে অন্যান্য দিকে থেকেও ছাত্ররা জড়ো হয়ে পড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সড়ক হয়ে আবারো দোয়েল চত্বর দিকে যান। মিছিলে অংশ নিয়েছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সময় ব্যবধানে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর প্রথমে পুলিশ বাধা দিলেও বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

এসময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ‘শাহবাগে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ছাত্রলীগের হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই,’ ‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মেনে নাও,’ ‘কোটা দিয়ে কামলা নয়, মেধা দিয়ে আমলা চাই,’ ‘১০% এর বেশি কোটা নয়’ এসব স্লোগান দিতে থাকে।

উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস বর্জন-মহাসড়ক অবরোধ [৩]

সংসদে কোটা সংস্কারের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বেন না বলে তারা ঘোষণা দিচ্ছেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা, আবার কোনো ক্যাম্পাসে ক্লাস বর্জন করে মহাসড়কে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীরা। তাদের দাবি কোটা বাতিল নয় বরং যৌক্তিক সংস্কার। আর সারাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একডেমিক কার্যক্রম মূলত অকেজো হয়ে পড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক তাণ্ডব ও পুলিশের হামলার পর সোমবার ভোর নাগাদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ফিরতে দেখা গেছে। এরপরই পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে। সোমবার সকালে দোয়েল চত্বর ও টিএসসি ঘুরে দেখা গেছে সেখানে আন্দোলনকারীরা নেই। তবে পুলিশের সতর্ক অবস্থান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফাঁকা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

এদিকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি নগরীর ষোলশহর এলাকায় জড়ো হয়ে ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভও করেন শিক্ষার্থীরা।

উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস বর্জন-মহাসড়ক অবরোধ [৪]

কোটা সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও (ইবি) ক্লাস বর্জন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবন থেকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান সড়কে উঠতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বাধা দেয়। এ সময় তারা মিছিল নিয়ে আবারও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষদ প্রদক্ষিণ করতে থাকেন।

অপরদিকে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে এবং ঢাকায় বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে দিনব্যাপী ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া ফের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল ১০টায় তারা সড়ক অবরোধ করে সেখানে অবস্থান নেন। কোনো বিভাগে ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা গেছে। এর আগে রোববার বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৮টা এবং রাত দেড় টায় দুই দফায় মহসড়ক অবরোধ করেন রাবির বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস বর্জন-মহাসড়ক অবরোধ [৫]

এদিকে একই দাবিতে সারা দেশে চলমান আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরাও সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করেছেন। সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরে জমা হতে থাকেন তারা। এ সময় বিভিন্ন প্লের্কাড ও ফেস্টুন হাতে তারা কোটা সংস্কারের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আয়োজনে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের এ অবস্থান কর্মসূচি চলছে।

একই প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শতাধিক শিক্ষার্থী পুরান ঢাকার রাই সাহেব বাজার মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

উত্তাল ক্যাম্পাস, ক্লাস বর্জন-মহাসড়ক অবরোধ [৬]

এছাড়া ক্লাস বর্জন করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল পৌনে ১০টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী থেকে মিছিল নিয়ে গিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। প্রায় ৪ ঘণ্টার শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। রাত ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের হামলা চালায় পুলিশ।

পুলিশের লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের কারণে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থেকে সরে এসে চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা আন্দোলনকারীরা টিএসসির সামনে অবস্থান নেয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রলীগ।

টিএসসি এলাকা পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশের টিয়ারশেল, কাদানে গ্যাস, জলকামান নিক্ষেপ ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫০ জন।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে