আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > রমজানকে ঘিরে বেড়েছে আমদানি, দাম স্থিতিশীল থাকার আশা

রমজানকে ঘিরে বেড়েছে আমদানি, দাম স্থিতিশীল থাকার আশা

রমজানকে ঘিরে বেড়েছে আমদানি, দাম স্থিতিশীল থাকার আশা

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

সংযমের মাস রমজানকে কেন্দ্র করে খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা প্রচুর পরিমাণে চিনি, মসুর ডাল, মটর, ছোলা, ভোজ্যতেল ও খেজুরের মতো অত্যাবশকীয় পণ্য আমদানি করছে। হাজার হাজার মেট্রিক টন ভোগ্যপণ্য বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভোগ্যপণ্যের বাজার গত বছরের এ সময়ের তুলনায় নিম্নমুখী। তাই মিল মালিক ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের নজরদারিতে আনা গেলে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই। এছাড়া আন্তর্জাাতিক বাজারে ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলের দামও কম রয়েছে।

এদিকে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং, টিসিবির ভোগ্যপণ্য বিক্রি ও খোলা বাজারে (ওএমএস) পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানা গেছে।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্য ছোলা, মসুর, মটর ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের আমদানি ও সরবরাহ বেড়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের দাম পাইকারী বাজারে সহনীয় পর্যায়ে আছে। তবে খুচরা বাজারে এসব পণ্য এখনো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

গত বছর এ সময়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত ছোলা গত বছর পাইকারী বাজারে বিক্রি হয়েছিলো কেজিপ্রতি ৬৩ টাকা। এ বছর সেটি কেজিতে ৫৪ টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে কমেছে মিয়ানমারের ছোলার দাম। বর্তমানে মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০ টাকায়। মটর গত বছর বিক্রি হয়েছে কেজি ৩৪ টাকায়, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২৯ টাকা দরে। চিনি গত বছর বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা দরে বতর্মানে কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়। অস্ট্রেলিয়ার মশুর ডাল গত বছর ছিলো ৭২ টাকা, এ বছর বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

অন্যদিকে দেশীয় মসুর ডাল গত বছরের এই সময়ের চেয়ে কেজিতে ১৮ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮২ টাকায়। খেসারি ডাল গত বছর বিক্রি হয় ৭২ টাকায়, সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। চিড়া গত বছর এসময়ে বিক্রি হয়েছে ৫৪ টাকা দরে, তা এখন কমে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩৫ টাকায়। সয়াবিন তেল গত বছরের তুলনায় কেজিতে ৫ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকায় এবং পাম তেল ৬ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকায়। রমজান উপলক্ষে প্রচুর পরিমাণ খেজুর ইরাক, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে আমদানি করা হচ্ছে। গত বছর প্রতি কার্টন খেজুর বিক্রি হয়েছে ৯৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায়। এবছর তা বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, পণ্যভেদে এবার আমদানি গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এরমধ্যে গত বছর প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টন অবিক্রিত ছোলা ব্যবসায়ীদের গুদামে রয়েছে। একইভাবে প্রচুর পরিমানে চিনিও মজুদ রয়েছে। তাই সরকারের নজরদারি থাকলে এ বছর ছোলা ও চিনির দাম না বাড়ার কথা। তবে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুদদার নানা অজুহাতে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। তাই সরকারের নজরদারি থাকলে এ বছর ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি আসবে।

আবদুল ওহাব নামের এক ব্যবসায়ী জানান, পাইকারী বাজারে চিনির দাম কম। এখনো পর্যন্ত বাজারে সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। গত বছরের এসময়ের তুলনায় চলতি বছর সবগুলোর পণ্যের দাম কম রয়েছে। তাই সামনে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না।

টিসিবি চট্টগ্রামের উপ–উর্ধতন কার্যনির্বাহী জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে সবকিছু করা হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছুই নেই। টিসিবি রমজানে পণ্যবিক্রি কার্যক্রম শুরু করবে। তবে কোন কোন পয়েন্টে বিক্রি হবে সেটি এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

উলেখ্য, সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এবার রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে জানানো হয়, রমজান উপলক্ষে টিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২ হাজার মেট্রিকটন চিনি, ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মশুর ডাল , ১ হাজার মেট্রিক টন তেল, ১ হাজার ৯৫৫ মেট্রিক টন ছোলা এবং ১০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ছোলা ও মসুর ডাল অতিদ্রুত চট্টগাম বন্দরে এসে পৌঁছবে। তা খালাস করে টিসিবির সব আঞ্চলিক কার্যালয়ে গুদামজাত করা হবে। রমজান উপলক্ষে সব বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে ১৮৭টি ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য ভোক্তাসাধারণের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। রমজান মাসে পণ্যসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম জোরদার করবে।

কমিটির সভাপতি জাতীয় পার্টির প্রধান হুইপ মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে