আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে চীনা মহাকাশ পরীক্ষাগার

পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে চীনা মহাকাশ পরীক্ষাগার

পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে চীনা মহাকাশ পরীক্ষাগার

প্রতিচ্ছবি ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:

অবশেষে পৃথিবীর বুকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ভেঙে পড়ল চীনা মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রটির একাংশ। চীনের তিয়ানগং-১ নামের ওই স্পেস ল্যাবটির একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে এসে পড়েছে আজ ০২ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার।

চীনা মহাকাশ পরীক্ষাগার

চীনের মহাকাশ কার্যালয়ের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার বেলা তিনটার দিকে স্পেস ল্যাবটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ে। ৮ টন ওজনের বিশাল এ মডিউলটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর অধিকাংশ পুড়ে যায়, এরপর তা টুকরো টুকরো হয়ে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ে।

বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, গবেষকরা আগেই জানিয়েছিলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পৃথিবীতে ভেঙে পড়বে চীনের মহাকাশ গবেষণাগার তিয়ানগং-১। তবে সঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারেননি তাঁরা। আজ সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ৮টা ১৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ২টা ১৬ মিনিট) এটি ভেঙে পড়েছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে।

চীনা এবং ইউরোপীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই ধারণা করছিলেন, সোমবার নাগাদ মহাকাশ কেন্দ্রটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। তবে সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হবেনা বলে আশ্বাস দিয়েছিল চীনের মহাকাশ প্রকৌশল দফতর।

পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছে চীনা মহাকাশ পরীক্ষাগার [2]

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মডিউলটির সঙ্গে চীনের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল বলে এর পতনের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তবে পৃথিবীতে ভেঙে পড়া নিয়ে বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন গবেষকরা।

যুক্তরাজ্যের মহাকাশ সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী রিচার্ড ক্রোথার বলেছিলেন, বিশাল ওজনের টিয়ানগং-১ মডিউলটি পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়লেও তা থেকে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কম। কারণ, এটি পৃথিবীতে প্রবেশের আগেই পুড়ে যাবে। এর টুকরো অংশগুলো সমুদ্রে পড়তে পারে। এটি কবে ও কখন পৃথিবীতে পড়বে, সঠিক সময় পরে জানা যাবে।

হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের গবেষক জোনাথান ম্যাকডোয়েলের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের তৈরি নিয়ন্ত্রণহীন ৫০তম বস্তু হিসেবে পৃথিবীতে পড়ল টিয়ানগং।

চীনের লক্ষ্য, ২০২২ সাল নাগাদ তারা মানুষের বসবাসের উপযোগী একটি মহাকাশ কেন্দ্র মহাশূন্যে পাঠাতে চায়। তিয়ানগং-১ ছিলো তারই পূর্ব প্রস্তুতি। ২০১১ সালে মহাকাশ কেন্দ্রটি কক্ষপথে প্রবেশ করতে সমর্থ হয়। প্রায় সাত বছর পর এটি এখন ধ্বংস হয়ে পৃথিবীতে আছড়ে পড়লো।

২০১৬ সালেই ১০ মিটার দীর্ঘ টিয়ানগং মডিউলটির সঙ্গে চীনা গবেষকেদের সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে এটি পৃথিবীর দিকে ফিরে আসছিল। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির নেতৃত্বে ১৩টি মহাকাশ সংস্থা রাডারসহ নানা অপটিক্যাল যন্ত্রপাতি দিয়ে ওই মডিউলটির গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

এদিকে, ২০১৬ সালের মার্চে তিয়ানগং ১ এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই তিয়ানগং -২ নামের আরেকটি স্পেস স্টেশন নির্মাণ শুরু করে চীন। সম্প্রতি সেটা মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে