আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > গ্রিনফেল ট্র্যাজেডি: ভয়াবহতার গল্প

গ্রিনফেল ট্র্যাজেডি: ভয়াবহতার গল্প

_96484317_hi040049303প্রতিচ্ছবি ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:  তারএ এক ভয়ানক অগ্নিকান্ড। মনের মধ্যে বেঁচে যাবার আনন্দের পাশাপাশি সবকিছু হারানোর দুঃখ ভর করেছে যেন পুরো শহর জুড়ে। আবাসহীনরা দিকভ্রান্তের মত ঘুরছেন পথে পথে।

২৪ তলা থেকে বেঁচে ফিরা এক নারী জানাচ্ছিলেন, মারাত্বক অভিজ্ঞতার কথা। কিভাবে যে বেঁচে ফিরবেন ভাবতেও পারেননি তিনি। এখনো আতঙ্কে নীল হয়ে আছেন তিনি।

হাদিল আলামিলি নামের একজন বাসিন্দা জানালেন, কিভাবে যে মানুষজন আগুনের বিরুদ্ধ্বে লড়াই করছেন তা চোখে দেখা যায়না। ২৪ তলা থেকে ঝাঁপ দিলেন এক জন। তার আগে টর্চ নাড়িয়ে উদ্ধারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কাঁপতে কাঁপতে হাদিল বলে যান,সাহায্যের জন্য চিৎকারও শুনতে পান তিনি। কিন্তু সেই মূহুর্তে সবাই এত অসহায় যে কারো উপকার করার সুযোগ নেই। পরে আগুন লেগে যায় তার পুরো শরীরে। সেই আগুন নিয়েই ঝাঁপ দেন তিনি।

কেউ কেউ তোয়ালে , পর্দার কাপড়, কম্বল গাঁয়ে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বেড়িয়ে আসেন। ১১ তলার মৌনা এলোগবানি বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে নিজে শুতে যাবেন ঠিক ওই সময়ে আগুনের খবর পেয়ে  ঘুমন্ত বাচ্চাদের নিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে যান। তবে দরজার কাছে গিয়েই আঁতকে উঠেন ,সামনে শুধু আগুন আর আগুনের হল্কা। পরে ইমার্জেন্সী সিঁড়ি দিয়ে কোনরকম বেঁচে ফিরেন।

২১ তলা থেকে নিজের ছয় সন্তানকে নিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছিলেন আর এক মা। নীচ অবধি এসে দেখেন চার জন আছে। বাকি দুই সন্তানকে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছেন। কাঁদতে কাঁদতে দিশেহারা হয়ে বলছিলেন সে সব কথা।

_96484729_hi040047364রাত একটার দিকে ঘুম ভেঙ্গে যায় ওয়াহাবি নামের এক মহিলার। ওই বিল্ডিংয়ের ৯ তলায় থাকতেন তিনি। দেখতে পান দ্রুত গতিতে ধোঁয়া ঢুকছে ঘরে। নিঃশ্বাস বন্ধ হবার জোগাড়। আবার তার সাথে রয়েছে ভাইয়ের চিন্তা। তিনিও ওই একই বিল্ডিংয়ে থাকেন। তবে ভাইকে ফোন করলে তিনি জানালেন ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা শান্ত থাকতে বলেছেন, তাই বের হচ্ছিনা। কিন্তু পরে রাত ২ টার দিকে ফোন দিলে তাদের আর খোঁজ পাননি তিনি।

১৬ তলার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ আগুনে হারিয়েছেন সব মূল্যবান কাগজ। বলছেন, ‘‘কিছু নেই। সৌদি আরবে হজে যাব কী করে? পাসপোর্টটাই হারিয়ে গেল।’’

এছাড়া বাংলাদেশী এক পরিবার ওই টাওয়ারে থাকতেন । তারা হলেন কমরু মিয়া ও তার স্ত্রী ছেলে মেয়ে। বিয়ের কেনাকাটাও শেষ করেছেন কিছুদিন আগে,তার মেয়ের বিয়ে।  কিন্তু নির্মম পরিনতি সিনেমাকেও হার মানায়। এখনো নিখোঁজ রয়েছে পরিবারের সবাই।

মাত্র পনেরো মিনিটে আগুন এত আগ্রাসী হয়ে উঠবে বুঝে উঠতে পারেননি কেউ। কে কোথায় ছিটকে গিয়েছেন জানেন না কেউ। যাঁরা কোনওমতে বেঁচে গিয়েছেন, তাঁদেরও নিখোঁজ স্বজনদের কথা ভেবে উদ্বেগ কাটছে না।

১২০টি ফ্ল্যাটের প্রত্যেকটি ঘরে চলছে এমন ঘটনা। প্রিয়জন হারিয়ে অসহায় মানুষগুলোর কান্নায় ভারী হয়ে আছে লন্ডন শহর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে