আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > সুনামগঞ্জ সীমান্তে নাটকীয় ভাবে চলছে চোরাচালান

সুনামগঞ্জ সীমান্তে নাটকীয় ভাবে চলছে চোরাচালান

সুনামগঞ্জ সীমান্তে চলছে চোরাচালান

আল-হেলাল সুনামগঞ্জ থেকে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে নাটকীয় ভাবে চলছে চোরাচালান। একদিকে ২মে.টন চোরাই কয়লা জব্দ করেছে বিজিবি। আর অন্যদিকে ১৪মে.টন চোরাই কয়লা ও মদ ওপেন পাচাঁর করেছে চোরাচারালানীরা।

জব্দকৃত কয়লার মূল্য ২০হাজার টাকা আর পাচাঁরকৃত কয়লা ও মদের মূল্য ২লক্ষ ৪০হাজার টাকা। এব্যাপারে বিজিবি ও শুল্কষ্টেশনের ব্যবসায়ীরা জানায়, প্রতিদিনের মতো আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টায় লাকমা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে চোরাচালানী মোক্তার মিয়া,মঞ্জিল মিয়া ও শব্দর আলীর ছেলে আলম মিয়া গং বালিয়াঘাট সীমান্তের ১১৯৭পিলার সংলগ্ন লাকমা এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে কয়লা পাচাঁর করে পার্শ্ববর্তী বিন্দারবন্দ গ্রামের মন্নাফ মেম্বারের পানির পাম্পের পাশে নিয়ে মজুত করার সময় ২মে.টন চোরাই কয়লা জব্দ করে টেকেরঘাট ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা।

 কিন্তু চোরাচালানীদের আটক করেনি। মনাফ মেম্মার ও তার ছেলে আবু শামা প্রতিদিন রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে শতশত লোক দিয়ে ৮থেকে ১০মে.টন চোরাই কয়লা পাচাঁর করে ওপেন বিক্রি করে। সম্প্রতি টেকেরঘাট কোম্পানী কমান্ডার রাশেদ খান দুই বার অভিযান চালিয়ে মন্নাফ মেম্মারের পানির পাম্প থেকে ১৫মে.টন চোরাই কয়লা জব্দ করেছে।

অন্যদিকে চাঁরাগাঁও সীমান্তের চাঁরাগাঁও এলসি পয়েন্ট এলাকা দিয়ে আজ দুপুর ২টায় সোর্স পরিচয়ধারী নারী নির্যাতন মামলার আসামী শফিকুল ইসলাম ভৈরব,ফালান মিয়া,নজরুল মিয়া ও কাঞ্চন মিয়া গং ভারত থেকে ১৪মে.টন কয়লা ও ১২০বোতল মদ পাচাঁর করে বিজিবি ক্যাম্পের সামনের রাস্তা দিয়ে ক্যাম্পের দক্ষিণ দিকে ৮০গজ দূরে অবস্থিত শহিদ মিয়ার ডিপুতে নিয়ে মজুত করে। এর আগে গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় ৬মে.টন কয়লা ও ৪ বোতল মদ পাচাঁর করে। সম্প্রতি বীরেন্দনগর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অভিযান চালিয়ে চাঁরাগাঁও থেকে ১৬মে.টন চোরাই কয়লা ও মদ আটক করলেও চাঁরাগাঁও ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা এখনও পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

হাবিলদার রফিকের সহযোগীতায় গত এক সপ্তাহ যাবত উপরের উল্লেখিত চোরাচালানীরা লালঘাট,বাঁশতলা ও চাঁরাগাঁও এলসি পয়েন্ট এলাকা দিয়ে রাতে ভারত থেকে দেড় থেকে ২শত বস্তায় মদ ও কয়লা ভর্তি করে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় গর্ত করে বালি চাঁপা দিয়ে রাখে।

আর সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মদ ও কয়লার বস্তা বালির নিচ থেকে তুলে ট্রলি দিয়ে ওপেন পাচাঁর করে। আর কয়লা পাচাঁরের সময় হাবিলদার রফিক সরকারী মোবাইল নাম্বার বন্ধ রাখেন। অবৈধভাবে চোরাই কয়লা পাচাঁরের পর ১মে.টন কয়লা থেকে চাঁরাগাঁও ক্যাম্পের নামে ২৫০টাকা,হাবিলাদার রফিকের নামে ১০০টাকা,বালিয়াঘাট ক্যাম্পের নামে ২০০টাকা,থানার নামে ১৫০টাকা,ডিবি পুলিশের নামে ১০০টাকা,চাঁদা উত্তোলনকারী সোর্সের নামে ২০০টাকা,হাসান আলী মেম্বারের নামে ২০০টাকা,সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নাম ভাংগিয়ে ১০০টাকা, সাংবাদিকদের নাম ভাংগিয়ে আব্দুর রাজ্জাক নিচ্ছে ১০০টাকাসহ মোট ১৭০০টাকা চাঁদা নিচ্ছে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয়ধারী চাঁদাবাজি মামলার জেলখাটা আসামী দুধেরআউটা গ্রামের জিয়াউর রহমান জিয়া,কালাম মিয়া ও চাঁরাগাঁও ক্যাম্পের সোর্স শফিকুল ইসলাম ভৈরব।

এব্যাপারে মনাফ মেম্বার বলেন,আমি সবাইকে ডেকে এনে নিষেধ করে দেব আমি আজ থেকে আর চোরাই কয়লা কিনবা। চাঁরাগাঁও ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার রফিকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য দুপুর দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ক্যাম্পের সরকারী মোবাইলে বারবার ফোন করার পরও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন,সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধ করার জন্য আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আল-হেলাল/ ইএ/ জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে