আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রাজনীতি > ‘বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভুত’

‘বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভুত’

‘বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভুত’

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

বিএনপিকে অশোভন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার (১৯ মার্চ) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য বিকৃতি করে বিএনপির নেতাদের সাম্প্রতিক মিথ্যাচারের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গত শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের এমপি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আবারও জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে। আওয়ামী লীগ আবারও জয় লাভ করবে। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে জনগণের রায় পাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং এই প্রত্যয় ব্যক্ত করাটাই স্বাভাবিক। কারণ গত ৯ বছরের বেশি সময় ধরে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে। দেশের মানুষের মধ্যে শান্তি স্থিতি বিরাজ করছে। দেশের মানুষ আজকে সুখি। আমরা একসময় ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্যমুক্ত বাংলাদেশের কথা বললাম। এখন আর ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলার প্রয়োজন নেই। কারণ ক্ষুধাকে আমরা নির্মুল করেছি বাংলাদেশ থেকে। সে কারণেই আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক আগামী নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে; জনগণ আমাদের পক্ষে রায় দিবে সেই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। অথচ বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ ও খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই বক্তব্যকে বিকৃত করে নানা ধরনের বক্তব্য রেখেছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা ২০০৮-এর নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমনকী নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন আওয়ামী লীগ ৩০টি সিটও পাবে না। আল্লাহর কী বিধান নির্বাচনে বিএনপি ২৯টি সিট পেয়েছিল। আমরা চাই না বিএনপির মুখে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যে বক্তব্য আগামী নির্বাচনে তা বিএনপির ক্ষেত্রে ঘটুক। আমরা বিএনপি নেতৃবৃন্দকে বলবো- আপনারা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।

আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা এখন স্বল্প উন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছি। অথচ বিএনপি বলছে, বাংলাদেশ অন্ধকার টানেলে নিমজ্জিত। তাই তাদের এমন কথাতেই প্রমাণিত হয়, তারা যে সমস্ত বক্তব্য রাখেন তা রাজনৈতিক বিদেশমূলক বক্তব্য ছাড়া কিছুই না।

তিনি বিএনপি নেতৃবৃন্দকে প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশ যদি অন্ধকার টানেলের মধ্যেই নিমজ্জিত হয়, তাহলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে কীভাবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার চিঠি হস্তান্তর করলো। বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকে একটি স্বল্পোন্নত দেশ ছিল। যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন দেশের স্বাধীনতার দশ বছরের মাথায় বাংলাদেশ হতো উন্নত দেশ। পৃথিবীর মানুষ আরও তিন দশক আগেই বাংলাদেশের বদলে যাওয়ার গল্প শুনতো।

তিনি বলেন, জাতি আজ স্বল্পোন্নত দেশ কিংবা দরিদ্র্য দেশের তালিকা থেকে উঠে এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ায় বিএনপি অভিনন্দন জানাতে ব্যার্থ হয়েছে। তাই এটি তাদের রাজনৈতিক হীনমন্যতার পরিচয় ছাড়া কিছুই নয়। তাদের সমস্ত রাজনীতি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া, দুর্নীতিবাজ বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্রকে রক্ষা করার জন্য আবর্তিত হচ্ছে। এ ধারা থেকে তারা বেরিয়ে না আসলে বিএনপির রাজনীতি যেভাবে চোরাবালিতে আটকে আছে তা থেকে ভবিষ্যতে আর বেরিয়ে আসতে পারবে না।

এ সময় তিনি বিএনপির নেতাদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অশোভন কথা বলবেন না। আপনারা সমালোচনা অবশ্যই করবেন, কিন্তু তা হতে হবে গঠনমূলক।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের সাথে যে আচরণ করেছে। জনগণের প্রতি যেভাবে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে। মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। তার জন্য আপনারা জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রেজভীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তিনি বিকারগ্রস্থ ও ভারসম্যহীন। তিনি দীর্ঘদিন পরিবার ছেড়ে পার্টি অফিসে থাকায় তার মানসিক সুস্থ্যতা আছে কিনা তা বিএনপির নেতাদের খতিয়ে দেখতে হবে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামছুনাহার চাপা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

 

আইএম/এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে