আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > ‘ছক্কা’ জাগিয়ে ছিল আশা, ‘ছয়ে’ স্বপ্নভঙ্গ

‘ছক্কা’ জাগিয়ে ছিল আশা, ‘ছয়ে’ স্বপ্নভঙ্গ

নিদাহাস ট্রফির ৬ষ্ঠ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের জয়

প্রতিচ্ছবি স্পোর্টস ডেস্ক:

নিদাহাস ট্রফির ৬ষ্ঠ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় পায় বাংলাদেশ। আর এই জয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল নিশ্চিত করে টাইগাররা। আর সেই ম্যাচে জয়ের নায়ক ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১ বল হাতে রেখেই পঞ্চম বলে ছয় মেরে বাংলাদেশকে জয় উপহার দেন। সেই ছয়টাই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলো একটি অধরা শিরোপা জেতার।

কিন্তু গতকাল নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে সেই ছয়ই কাল হয়েছে বাংলাদেশের। হয়েছে স্বপ্নভঙ্গ, সম্ভাবনা উঁকি তীরে এসে তরী ডুবল টাইগারদের। শেষ বলে ভারতের দরকার ছিল ৫ রান। ছক্কা মেরে ভারতকে জিতিয়ে দিয়েছেন দীনেশ কার্তিক। নিদাহাস কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ৮ বলে ৩ ছক্কা আর ২ চারে ২৯ রান করে ভারতের নায়ক কার্তিক।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে নিদাহাস কাপের ফাইনালে ভারতের জয় ৪ উইকেটে। বাংলাদেশের দেয়া ১৬৭ রানের লক্ষ্য তারা পেরেছেন একদম শেষ বলে। এই নিয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ৫টি ফাইনাল ম্যাচে গিয়েও শিরোপা জিততে পারল না বাংলাদেশ।

শেষ তিন ওভারে জিততে ভারতের দরকার ছিল ৩৫ রান। ওই সময় মোস্তাফিজুর রহমান করলেন মিলিয়ন ডলার ওভার। টানা চারটি ডট বলের পর একটি এক লেগবাই, তারপর শেষ বলে উইকেট। মেডেন উইকেট। ওই ওভারেই যেন ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ। ২ ওভার থেকে তাই ভারতের দরকার দাঁড়ালো ৩৪ রান। নাটকের তখন আরও বাকি। মোড় ঘুরল আবার। পরের ওভারে রুবেল দিলেন ২২ রান। ক্রিজে এসেই তাণ্ডব চালালেন দীনেশ কার্তিক। কার্তিকের ব্যাটের আঘাতে রুবেলের ছয়টি বল ছিল এরকম- ৬,৪,৬,০,২,৪।

শেষ ওভারে নাগালের মধ্যেই দাঁড়ালো ভারতের লক্ষ্য। ৬ বল থেকে দরকার ১২। সবচেয়ে বড় কথা এক মেহেদী হাসান মিরাজ বাদে নিয়মিত বোলারদের বোলিং কোটাই শেষ। স্পিনারদের নিয়ে শেষ ওভার করানো খুব কঠিন তাই বল পেলেন সৌম্য সরকার। অনিয়মিত বোলার হয়েও দারুণ বল করলেন সৌম্য। অসম্ভব চাপে প্রথম ৫ বল থেকে ৭ রান। শেষ বলে কার্তিক মেরে দেন ছক্কা। জিতে যায় ভারত।

১৬৭ রান, ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য মামুলিই। শুরুর ঝড়ে সেই রান আরও মামুলি বানিয়ে ছাড়লেন রোহিত শর্মা। চার ছয়ের ফুলঝুরিতে ওভারপ্রতি ১০ করে রান আনতে লাগলেন। আরেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান তাল পাননি বলে রক্ষা। ৭ বলে ১০ রান করে তিনি ফেরেন সাকিবের বলে।  ৩২ রানে প্রথম উইকেট হারায় ভারত। ওই রানেই সুরেশ রায়নাকে ফিরিয়ে দেন রুবেল হোসেন।

রুবেলের বলটা লেগ স্টাম্পের বেশ বাইরে ছিল। তাতে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রায়না। যদিও মাঠের আম্পায়ার প্রথমে দিয়েছিলেন ওয়াইড। রিভিউ নিয়ে সাফল্য পায় বাংলাদেশ।

চারে নামা লোকেশ রাহুল নেমেই শুরু করেন পিটানো। ১৪ বলে ২৪ করে তাকেও থামিয়েছেন রুবেল। যদিও ততক্ষণে ভারতের বোর্ডে উঠে গেছে ৮৩ রান।  ৩৫ বলে ফিফটি করা রোহিত। খানিক পরেই নাজমুল ইসলাম অপু বলে আউট হয়েছেন রোহিত। রোহিতের আউটে বদলে যায় ম্যাচের চেহারাও। দারুণভাবে ম্যাচে ফেরা বাংলাদেশ চেপে ধরে ভারতকে।

জমে উঠে ম্যাচ। সমীকরণ ক্রমশ ইঙ্গিত দেয় নাটকীয় সমাপ্তির। শেষে হয়েছেও তাই। তাতে আবার হৃদয় ভেঙেছে বাংলাদেশের।

এর আগে সাব্বির রহমানের ব্যাটে ভর করে ১৬৬ রান করে বাংলাদেশ। ভারতের দুই স্পিনার যুজভেন্দ্র চেহেল আর ওয়াশিংটন সুন্দরের তোপে বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। চাপের মধ্যে  ৫০ বলে ৭৭  রানের ইনিংস খেলেন সাব্বির রহমান।

টস হেরে ব্যাটিং পেয়ে শুরুটা দেখে শুনে করেছিলেন তামিম ইকবাল আর লিটন দাস। উইকেটে জমে না থাকায় বেরুচ্ছিলো রানও। আরও দ্রুত রান বাড়ানোর তাড়ায় গড়বড় করেন লিটন। এক ছয়ে ১১ রান করার পর আবার তার ঘাতক ওয়াশিংটন সুন্দর। অফ স্টাম্পের বাইরে সরে গিয়ে সুইপ করতে গিয়েছিলেন। টপ এজ হয়ে বল যায় স্কয়ার লেগে সুরেশ রায়নার হাতে। ১৩ বলে ১৫ করা তামিমের উইকেট গেছে শার্দুল ঠাকুরের দারুণ এক ক্যাচে। যুজবেন্দ্র চেহেলকে ছক্কাই মারতে গিয়েছিলেন তামিম। লং অনে লাইনের কাছে ভারসাম্য রেখে তা হাতে জমান শার্দুল।

এই ম্যাচেও বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে ছিল ডান-বাম কম্বিনেশন। ডান হাতি লিটনের আউটে আবার তিনে নেমেছিলেন সাব্বির। বাম হাতি তামিমের আউটে চারে সৌম্য সরকার। ফের হতাশ করেছেন তিনি। এবার মাত্র ১ রান করে চেহেলকে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন শর্ট লেগ ফিল্ডারের হাতে।

৩৩ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে তখন থতমত বাংলাদেশ। ছন্দ খুঁজে ফেরা সাব্বির রহমান নিলেন দায়িত্ব। চার-ছয়ে বাড়ালেন রান। তবে জুটিটা জমে উঠতেই কাটা পড়েন মুশফিকুর রহিম। লেগ স্পিনার চেহেলের বলেই তার ক্যাচ গেছে মিড অনে।

সাব্বিরের সঙ্গে ৩৫ রানে জুটে গড়ে আবারও আলো দেখাচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ১৬ বলে ২১ রান করে দিচ্ছিলেন বড় কিছুর আভাস। দুজনের অদ্ভুত ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। সঙ্গীকে রান আউট করিয়ে পরে প্রায়শ্চিত করেছেন সাব্বির। ২১ ইনিংস পর টি-টোয়েন্টি পেয়েছেন ফিফটি। ৭ বলে ৭ রান করে অধিনায়ক সাকিবও ফেরেন রান আউট হয়ে। ৭৭ রান করে সাব্বির বোল্ড হন উনাদকাতের বলে, এক বল পর ফেরেন রুবেলও। ওই ওভারে আসে মাত্র ৩ রান। শেষ ওভারে ১৮ রান নিয়ে কিছুটা পুষিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ থামে ৮ উইকেটে ১৬৬ রানে। ৭ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।

৪ ওভার বল করে ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের বোলিং হিরো চেহেল। আরেক স্পিনার সুন্দর ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট। এই দুজনের ৮ ওভারেই মূলত আটকে যায় বাংলাদেশের রানের চাকা। তবে ওই রান নিয়েও শেষ বল পর্যন্ত লড়েছে বাংলাদেশ।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে