আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন যেনো মৃত্যুপুরী

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন যেনো মৃত্যুপুরী

nepal airport

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে পাইলটদের জন্য যেন এক  আতঙ্কের স্থান। কেননা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিমানবন্দর গুলোর মধ্যে অন্যতম ত্রিভুবন বিমানবন্দর। এ রুটে উড়োজাহাজ ওঠা নামায় পাইলটদের কসতে হয় জটিল হিসাব-নিকাশ। তবুও পাইলটদের চৌকসতার সাথে উড়োজাহাজ চালিয়ে আসা যাওয়া করতে হয় সেখানে।

কেননা হিমালয় পর্বতমালার কারণে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় দেশ নেপাল। প্রতিদিন প্রচুর যাত্রী আসা যাওয়া করেন এখানে। পর্বত ছাড়াও প্রায়ই ঘন কুয়াশা ঘিরে ফেলে ত্রিভুবন বিমানবন্দরকে। তাই বিপদজনক হলেও এয়ারলাইন্সগুলো খুব সতর্কতার সাথে এখানে ফ্লাইট পরিচালনা করে, বিপত্তিতে পড়তে হয় পাইলটদের।

ত্রিভুবনে একাধিকবার ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইনসের এমন কয়েকজন পাইলট জানান,  সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। চারপাশের উঁচু পাহাড়-পর্বতে ঘেরা। এখানে উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে যেমন সতর্ক থাকতে হয়, তেমনি ওঠানোর সময় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হয়। এ রানওয়েতে নির্দিষ্ট স্থানে আবতরনে সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসি জানায়,  ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নেই অটোমেটিক ল্যান্ডিং সিস্টেম। ৩ কিলোমিটার দূর থেকে ত্রিভুবনের রানওয়ের দিকে লক্ষ রাখতে হয় পাইলটদের। ত্রিভুবনে বিমান অবতরণের সময় প্রধান বাধা একটি বিশাল পাহাড়,  যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। ত্রিভুবন বিমানবন্দরের নয় মাইল দূরে রয়েছে এই পাহাড়। এ জন্য এই রানওয়েতে কোনো উড়োজাহাজই সোজা অবতরণ করতে পারে না। ওই পাহাড় পেরোনোর পরপরই দ্রুত উড়োজাহাজ অবতরণ করাতে হয়। আর এই জটিল হিসাব নিকাশের কারণেই বারবার দেশটিতে বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটঠেছ।

এদিকে শুধু বিমান নয়, দেশটিতে বারবার হেলিকপ্টারও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে,  ত্রিভুবন হচ্ছে নেপালের একমাত্র ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এর ব্যবস্থাপনা অপর্যাপ্ত ও দুর্বল। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে একটি টুইন অটার টার্বোপ্রোপ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হলে এর ২৩ জন যাত্রীর সবাই প্রাণ হারান।

জানা যায়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নিয়মিত চলাচল শুরুর কিছুদিন পরই ১৯৭২ সালের মে মাসে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এ সময় একজন নিহত হয়েছেন।

১৯৯২ সালে থাই এয়ারওয়েজের একটি এয়ারবাস অবতরণের পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। মর্মান্তিকভাবে নিহত হন ১১৩ জন যাত্রীর সবাই। কয়েকমাস পরেই আরেকটি বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মারা যায় ১৬৭ আরোহীর সবাই।

এরকম আরও নানা দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে খারাপ আবহাওয়া ও নিচু মেঘমালার কারণে বুদ্ধ এয়ারের একটি বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। মারা যায় সকল যাত্রী।

২০১২ সালে সিতা এয়ারের একটি বিমান উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। এতে ১৯ জন আরোহীর সবাই মারা যান।

২০১৫ সালে তুর্কী এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ঘন কুয়াশার মধ্যে নামতে গিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়ে। ৩০ মিনিট ধরে এটি বিমানবন্দরের উপর উড়তে থাকে। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় নামতে পারলেও সেটি রানওয়ের থেকে ছিটকে মাঠের ঘাসের উপর চলে যায়। সৌভাগ্যক্রমে ২২৭ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার হন।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সবশেষ শোকগাঁথা রচনা করলো ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-২১১ ফ্লাইটটি।

প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের বেসরকারি বিমানসংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস ২১১ ফ্লাইটের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৫০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এসএইচ/এসএম / জেএস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে