আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আইন-মানবাধিকার > মানবতাবিরোধী অপরাধে সুধারামের ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধে সুধারামের ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা গণহত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নোয়াখালীর সুধারামের চারজনের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১ জনকে ২০ বছর কারাদন্ডের আদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে রায় অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী, জয়নাল আবদিন ও আব্দুল কুদ্দুস। আর ২০ বছর কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী হলেন- পলাতক আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুর। আরেক আসামি ইউসুফ আলী গ্রেপ্তার হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। সঙ্গে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল, প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা প্রমুখ। আর আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী তারিকুল ইসলাম, গাজী এইচএম তামিম, মাসুদ রানা প্রমুখ।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নোয়াখালীর সুধারামে ১১ জনকে হত্যা-গণহত্যার তিনটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১৬ সালের ২০ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ চারজনের বিচার শুরু হয়। ২০১৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

২০১৪ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে গত বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এ মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন। গত বছরের ৩১ আগস্ট তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওই দিনই প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।

২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম। ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রেফতার হন আমির আহম্মেদ ওরফে রাজাকার আমির আলী, জয়নাল আবদিন ও ইউসুফ আলী। পরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেফতার করা হয় আব্দুল কুদ্দুসকে।

ওই বছরের ১৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আবুল কালাম ওরফে এ কে এম মনসুরকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি বা গ্রেফতার হননি। মনসুর পালিয়ে থাইল্যান্ড চলে গেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছে প্রসিকিউশন।

এএস/এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে