আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে কাবিখা কর্মসূচি বাতিলের দাবি

দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে কাবিখা কর্মসূচি বাতিলের দাবি

জাতীয় সংসদ

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যে কারণে বাড়ছে সুদের হার। অন্যদিকে কম টাকা বিনিয়োগ করে লাভের বড় অংশ নিচ্ছে ব্যাংকের মালিকরা। রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এসব কথা বলেন।

বৈঠকে কাবিখা কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানিয়ে কমিটির সদস্যরা বলেন, এ মুহূর্তে ৪০ দিন, ১০০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচির দরকার নেই। এ কর্মসূচিতে পুরোটাই দুর্নীতি-অনিয়ম হয়। এসব বাদ দিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।

বৈঠকে আরও বলা হয়, আগামী বাজেটে স্বচ্ছতার সঙ্গে অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষায় ব্যয় বাড়লেও গুণগত মান বাড়ছে না। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে অনেক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নামে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের যে কোনো দেশের চেয়ে আমাদের দেশে ভাতায় দুর্নীতি কম। এটা সম্ভব হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্রের সুবাদে। কারণ ইচ্ছা করলেই যুবক বা ভুয়া কোনো ব্যক্তি এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে না। টিআর-কাবিখা বন্ধের বিষয়ে চিন্তা করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষিমন্ত্রী এর ঘোর বিরোধী। তবে যেহেতু এখন নতুন দাবি উঠেছে, সামনের বাজেটে সেটা বিবেচনা করা যেতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী অর্থবছরের বাজেট উচ্চাভিলাষী হবে না। নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেয়া হবে না। আগের বছরের ধারাবাহিকতায় এ বাজেট হবে। পাশাপাশি বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো চমক থাকবে না। স্বাভাবিকভাবে বেশি বরাদ্দ যাবে মানবসম্পদ উন্নয়নে। আর সম্ভাব্য এ বাজেটের আকার হতে পারে ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। খাত হিসেবে বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতা মেনে পরিবহন ও জ্বালানি খাত গুরুত্ব পাবে।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষা খাত প্রতি বছরই বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে। এর সদ্ব্যবহার হচ্ছে কিনা তদারকি দরকার। কারণ দেশে উচ্চশিক্ষার পরিস্থিতি খুবই করুণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ও মাস্টার্স শিক্ষা গুণগতভাবে দেশের অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে।

আবদুর রাজ্জাক আরও বলেছেন, দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চালের দাম সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ টাকা হতে পারে। এর বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি চালের উৎপাদন মূল্য ২২-২৩ টাকা। এর সঙ্গে দুই দফায় ৫ টাকা করে ১০ টাকা মুনাফা যোগ হবে। এতে খুচরা মূল্য হবে ৩০-৩২ টাকা।

এর আগে বৈঠকে চালের দাম ৪০ টাকার নিচে নামবে না বলে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে আবদুর রাজ্জাক এসব কথা বলেন।

বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বলে বৈঠকে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, এডিপি বাস্তবায়নের হার অনেক ভালো। প্রথম ছয় মাসে ৩৫ শতাংশের বেশি অর্জন হয়েছে। অর্থাৎ বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতা সামনের বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এমপি। অনুষ্ঠানে অর্থ সচিব মুসলিম উদ্দিন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে