আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা!

বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা!

বাবার হত্যাকারিদের ক্ষমা করলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা!
সিঙ্গাপুরে আইআইএল অ্যালামনাই এর আলোচনায় কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী

প্রতিচ্ছবি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অন্যায়ের সঙ্গে যুদ্ধে নামলে শত্রু তৈরী হবেই। আর অনেক সময়ই এর শেষটা হয় জীবনের ওপর হুমকি নিয়ে। রাজনৈতিক পরিবারে যাদের বেড়ে ওঠা ছোট বেলায়ই এ কঠিন সত্যিটা জানা হয়ে যায় তাদের। ক্ষমতার মসনদে বসে এরপরও খুব কম লোকই পারেন পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ না নিয়ে থাকতে। তবে এখানেই আলাদা গান্ধী পরিবারের দুই সন্তান।

ক্ষমার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন তার দুই সন্তান রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

শনিবার সিঙ্গাপুরে আইআইএম-এর অ্যালামনাইতে দেয়া ভাষণে আবেঘন কন্ঠে কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমরা জানতাম বাবা নিহত হবেন। আমরা জানতাম আমার ঠাকুমা নিহত হবেন। রাজনীতিতে অন্যায় শক্তির সঙ্গে লড়াই করলে আপনাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। এটা স্পষ্ট। অনেক বছর ধরে আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমরা খুবই ক্ষুব্ধ ছিলাম। কিন্তু আমি ও প্রিয়াঙ্কা তাদের পুরোপুরি ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি কোনও রকম হিংসা পছন্দ করি না।’

অনেক বছর বাবার খুন নিয়ে কষ্ট পাওয়ার ক্ষোভ থাকলেও এখন তারা দুই ভাই বোনই খুনিদের ক্ষমা করেছেন। রাহুল জানিয়েছেন, হিংসা পছন্দ করেন না বলেই তারা খুনের নির্দেশদাতা এলটিটি প্রধান প্রভাকরণের মৃত্যুতেও কষ্ট পেয়েছেন।

রাহুল গান্ধী বলেন, ‘রাজনীতিতে এমন কিছু শক্তি রয়েছে যা দেখা যায় না। কিন্তু তারা বেশ ক্ষমতাবান। আর সেই শক্তিগুলোর সঙ্গেই লড়াই করতে হয়।’ ভারতের কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের কারণ যাই হোক, আমি কোনও ধরনের সহিংসতা পছন্দ করি না।’

রাহুলের বাবা ও দাদী নিজেদের মৃত্যু সম্পর্কে আগেই তাকে আভাস দিয়ে রেখেছিলেন বলেও জানান তিনি। সেদিনের স্মৃতিগুলো স্মরণ করে কংগ্রেস প্রধান বলেন, ‘ঠাকুরমা আমাকে বলেছেন তিনি মৃত্যুর পথে হাঁটছেন। বাবাও একই কথা বলেছেন।’

ঘরের শত্রুই যে বিভিষন এ সত্য ইন্দিরা ও রাজীব গান্ধীর হত্যায় আবারও প্রমান হয়েছিল। যাদের সঙ্গেই বেড়ে উঠেছেন রাহুল। একসময় ছোট রাহুল-প্রিয়াঙ্কা সঙ্গে ব্যাডমিন্টনও খেলতো এই খুনিরা।

তার ভাষায়, ‘ঠাকুরমা নিহতের সময় আমার বয়স ছিল ১৪ বছর। ঠাকুরমাকে যারা হত্যা করেছে তাদের সঙ্গে আমি ব্যাডমিন্টন খেলতে অভ্যস্ত ছিলাম। এরপর বাবা খুন হলেন। ফলে আপনি বিশেষ পরিবেশে থাকবেন…, আমি মনে করি সকাল, দুপুর, রাতে ১৫ জন দ্বারা বেষ্টিত হয়ে থাকা কোনও বিশেষ সুবিধা নয়। আমার মনে হয়, এর মোকাবিলা করা খুব কঠিন বিষয়।’

কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘টিভিতে প্রভাকরণের (রাজীব গান্ধীর খুনি) মৃত্যুর খবর দেখে দুটি বিষয় অনুভব করলাম। প্রথমত মনে হলো, কেন তারা লোকটিকে এভাবে অপমানিত করছে। দ্বিতীয়ত, প্রভাকরণ ও তার সন্তানদের জন্য আমার আসলেই খারাপ লাগছিল।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ২১শে মে দক্ষিণ ভারতে এক নারী এলটিটি কর্মীর আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন রাজীব গান্ধী। নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার সময় তার ওপর এক তামিল গেরিলা এই আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। তার আগে ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে খুন হন ইন্দিরা গান্ধী।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

এমএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে