আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > তুমি নারী; আর তোমার মাত্র একটি দিন!

তুমি নারী; আর তোমার মাত্র একটি দিন!

 

নারী দিবস

জোহরা সিজন:

‘তুমি (নারী) থেমে গেলে থেমে যাবে সব’…

বেগম রোকেয়ার শিক্ষার ছোঁয়ায় প্রথমবারেরমতো ঘরের বাইরে পা রাখে ‘অবরোধবাসীনি’ বাঙালি নারী। সময়ের কাল খেঁয়ায় শিক্ষিত নারী যোগ্যতার মাপকাঠিতে পুরুষের পাশে নাম লেখায় উপার্জনে। ঘরে-বাইরে শুরু হয় তার দীপ্ত বিচরণ। কিন্তু পুরুষের লোলুপ চাহনী, হেয় করার নীন্যমন্যত, লিঙ্গ বৈষম্যের যুক্তিহীন প্রলাপ নারী বিচরনকে আজো করতে পারেনি অবাধ, নির্ভিক।

রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্র এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গাগুলোতে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, যৌতুক প্রথা এগুলো সংবাদ মাধ্যমে নিত্য পাওয়া কিছু স্বাভাবিক ঘটনা।

১৯০৮ সালে প্রথমবারের মত নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমে আসে প্রায় ১৫হাজার নারী। উপযুক্ত সম্মানী, কর্মসময় কমিয়ে আনা সহ বিভিন্ন অধিকার আদায়ে সেদিন আন্দোলনে নেমেছিল মেয়েরা। এ আন্দোলনের রূপ রেখায় জন্ম নেয় একটি দিবস।

পরের বছরই ফেব্রুয়ারির শেষ রবিবার প্রথমবারের মতো পালিত হয় জাতীয় নারী দিবস। যার নেপথ্যে ছিল আমেরিকান সোশ্যালিস্ট পার্টি।

১৯১০সালে ১৭টি দেশের শতাধিক নারী একটি দিনকে নারী দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান জানায়। এর এক বছর পরই অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলো নারী অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে উঠে এবং বিশ্বব্যাপী নারী দিবস পালনের আহ্বান জানায়।

নারী দিবসের রঙ হিসেবে বেছে নেয়া হয় বেগুনী’কে। বেগুনী রঙ নারীর সততা এবং মর্যাদার পরিচায়ক। তাই বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বেগুনী রঙের পোশাক পরিধান করে নারী দিবস পালন করেণ নারীরা।

এই দিবস কে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, অফিসে নারীদের জন্য ছোট-খাটো উপহারে সম্মান জানানো হয়।

তবে দিবসটি কি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ? প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানে কি নারীরা যথাযথ নিরাপত্তা বা সুযোগ-সুবিধা এবং প্রাপ্য অধিকারগুলো ভোগ করছে, যার জন্য এই নারী দিবসের সূচনা হয়েছিল?

নারী উদ্যোক্তা এমরাজিনা টেকনোলজিস-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং পাইওনিয়ারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এমরাজিনা আই খান এর মতে, ‘কর্মক্ষেত্রে নারী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাটা অনেক বড় ব্যাপার। অপরদিকে পরিবারের ক্ষেত্রে ‘মূল পরিবর্তনটা পরিবার থেকেই আসা উচিত । কারণ পরিবার যদি বদলে যায় তাহলে সমাজ বদলে জাবে। আর একটি দেশের পরিবর্তন আনতে সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। পুরো ব্যাপারগুলো যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে একজন নারী নিজের, পরিবারের এবং পক্ষান্তরে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।’

emrazina

আরেক নারী উদ্যোক্তা অনলাইন ফ্যাশনহাউজ গুটিপোকা এবং ব্যাড হ্যাবিটের প্রতিষ্ঠানা ও ডিজাইনার এবং প্রিয়.কমের সহ-সম্পাদক আফসানা সুমী’র ভাষ্য নারীকে হতে হবে স্বাধীন। তার ভাষায়, ‘নিজেকে ভালোবাসলে, নিজের চাওয়া আর দক্ষতার জায়গাগুলো জানা থাকলে সফল হওয়ার পথটা অনেক সহজ হয়ে যায়। নিজের সিদ্ধান্ত ভুল হোক, তবু নিজে নিন।’

sumi

তবে অন্য অনেক দিবসের মতো এ দিনটিও দুভাগে বিভক্ত। উচ্চ আর নিম্ন আয়ে। দিন মজুর, নিম্নবিত্ত নারীদের মাঝে নেই নারী দিবসের কোন তাৎপর্য। পরিশ্রমী এই নারীদের মাঝে নেই এই দিবস পালনের ফুরসত। সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ক্লান্তিভরা চোখের ঘুমই যেন তাদের সব।

নারীদের সার্বিক পরিচালনার বিষয়গুলো হাঁ-ধর্মী হলেও আনাচে-কানাচে বা প্রকাশ্যেও দেখা মিলে না-ধর্মী অনৈতিক আচরণগুলোর।

প্রশ্ন উঠবেই এই কর্পোরেট লোক দেখানো নারী দিবস কি তার যথাযথ গুরুত্ব নিয়ে হাজির হচ্ছে? দেখা কি মিলছে দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরনের কোন আমূল পরিবর্তনের? সবমিলে বিবেকে বিদ্ধ এ কেমন ‘নারী দিবস’!

 

জেএস/এমএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

Leave a Reply

উপরে