আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন, বনি কাপুরকে জিজ্ঞাসাবাদ

শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন, বনি কাপুরকে জিজ্ঞাসাবাদ

শ্রীদেবী ও বনি কাপুর

প্রতিচ্ছবি বিনোদন ডেস্ক:

বলিউডের কিংবদন্তী অভিনেত্রী শ্রীদেবীর (৫৪) মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়েও হলো না শেষ! ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী বলা হয়েছিল, মদ্যপ অবস্থায় বাথটাবে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে তার। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পর মৃত্যু ঘিরে রহস্য বাড়ছে। দুবাই পুলিশ সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

বনি কাপুরকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি হোটেল স্টাফদের বিবৃতিও নেয়া হয়েছে। এছাড়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে হোটেল লগ, শ্রীদেবীর ফোন কল লিস্ট এবং শ্রীদেবীর সব মেডিকেল রেকর্ড।

শ্রীদেবীর ময়নাতদন্ত রিপোর্টে পানিতে ডুবে মৃত্যুর কথাই বলা হয়েছে। রক্তে মিলেছে অ্যালকোহল। তবে খালিজ টাইমস জানিয়েছে, হৃদরোগে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়নি। আবার এখনও এই মৃত্যুর পেছনে ‘ক্রিমিনাল মোটিভ’ বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপরেও জন্ম নিয়েছে তার মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন।

শ্রীদেবীর কাছের মানুষরা বলছেন তিনি মদ পান করতেন না। মাঝেমধ্যে ওয়াইন খেতেন, সেটাও পরিমিত। ভারতের সমাজবাদী পার্টির নেতা অমর সিং দাবি করেছেন, শ্রীদেবী মদ্যপান করতেন না। ডেথ সার্টিফিকেটে বলা হয়েছে সংজ্ঞা হারিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। যার কারণ ওয়াইন হতে পারে না।

তবে হঠাৎ করে এমন ‘বেতাল’ হলেন কি করে যে বাথটাবের পানিতে পড়ে গিয়ে সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে পারলেন না। আরও নানা প্রশ্ন নিয়ে এই মৃত্যুর তদন্তে নেমেছে দুবাই পুলিশ।

প্রশ্ন উঠছে কেমন করে শ্রীদেবী বাথটাবের পানিতে পড়ে গেলেন? তিনি নিজেই পড়ে গেলেন নাকি কেউ ফেলে দিয়েছিলো এই সুপারস্টারকে? এছাড়াও প্রশ্ন উঠছে, সামান্য উচ্চতার একটা বাথটাবে কী করে ডুবে গেলেন পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি উচ্চতার এই অভিনেত্রী!

রিপোর্ট বলছে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় শ্রীকে সারপ্রাইজ দেবেন বলে আসেন বনি। দুবাইয়ের যে হোটেলে শ্রীদেবী ছিলেন, তার ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বনির এন্ট্রি। এরপর দুজনের কাউকেই ঘর থেকে বেরোতে বা ঢুকতে দেখা যায়নি।

বনি কাপুরের কাছ থেকে জুমেইরা টাওয়ারের কর্মীরা ডাক পান সাড়ে ৭টা নাগাদ। এরপর ঠিক রাত ৯টায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। তারপর শ্রীদেবীকে নিয়ে যাওয়া হয় রশিদ হাসপাতালে। চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে কেন এই দেরি?

দেরি প্রসঙ্গে বনি কাপুরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি শ্রীদেবীর ঘরে যখন ঢোকেন তখন শ্রী ঘুমোচ্ছিলেন। বনি তাঁকে জাগান। তার পরের ১৫ মিনিট দুজনে গল্প করেন। তারপর শ্রী-কে ডিনারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি হয়েই শ্রীদেবী রেডি হওয়ার জন্য গোসল করতে যান। ১৫ মিনিট পরও বাথরুম থেকে কোনো শব্দ না পেয়ে সন্দেহ হয় বনির।

তিনি প্রথমে শ্রীকে ডাকেন। তারপর বাথরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। দুবাই পুলিশকে দেওয়া বনির বয়ান অনুযায়ী, শ্রীদেবী তখন অজ্ঞান অবস্থায় বাথরুমে পড়ে। বনি তার সংজ্ঞা ফেরানোর চেষ্টা করেন। খবর দেন হোটেল কর্মীদের। তারাই চিকিৎসক ও পুলিশকে খবর দেন।

প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে বাকি সময়টুকু কি করছিলেন বনি? তার দেয়া হিসাব মেলালে ঘরে ঢোকার ৪০ মিনিটের মধ্যেই তিনি দরজা ভেঙে শ্রীদেবীকে উদ্ধার করেন। সিসিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী সেসময় ৬টা ১০ মিনিট বাজার কথা। তারপরও কর্মীদের খবর দিতে কেন প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় নিলেন বনি কাপুর?

দুদিন আগেও নিশ্চিতভাবে বলা ‘হার্ট অ্যাটাক’ শব্দটি এখন একবারও বলা হচ্ছে না। বাথরুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল। তাই বিষয়টি খুন নয়। তবে কি আত্মহত্যা? স্বামী-মেয়ে ফিরে আসার পরও দুদিন দুবাইয়ের হোটেলে কেন ছিলেন এই অভিনেত্রী? হতে পারে বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন তিনি।

এদিকে, আমিরাতের আইন অনুসারে হাসপাতালের বাইরে যেকোনও মৃত্যু হলেই সেখানে ময়নাতদন্ত বা ফরেনসিক অনুসন্ধান বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়ায় অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে বলেই শ্রীদেবীর পরিবার চাওয়া সত্ত্বেও তার মরদেহ গত রবিবার ভারতে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।

মধ্যপ্র্যাচ্যের দুই সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এবং খালিজ টাইমস সূত্রে জানাগেছে, নন্দিত এই তারকার মরদেহ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। যতক্ষণ পুলিশ বিষয়গুলো সম্পর্কে নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ শ্রীদেবীর মরদেহও ভারতে ফিরতে দেয়া হচ্ছে না তদন্তের সুবিধার্থে।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে