আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > স্বাস্থ্য > পিরিয়ড চলাকালীন মেনে চলুন এই নিয়মগুলো

পিরিয়ড চলাকালীন মেনে চলুন এই নিয়মগুলো

how-to-ease-period-pain

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে হয়তো খুব বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন আপনি। সাধারণ কাজ কর্ম থেকে দূরে সরে যেতে পারলেই যেন বেঁচে যান। বাহিরে বের হতে , কাজে বা ক্লাসে যেতে অস্বস্তির সীমা থাকেনা। এই সময়ে নিজের চলাফেরাকে কম্ফোর্টেবল রাখতে কিছু জিনিস আপনি নিজেই মেনে চলতে পারেন। তাহলে পিরিয়ডের দিনগুলোতে থাকতে পারেন ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত।

সর্বপ্রথম আসে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কথা। সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার রাখতে হয় নিজেকে ও নিজের ব্যবহার্য জিনিসগুলো। খেয়াল রাখতে হবে জীবানুমুক্ত পোষাক পরিধানের ক্ষেত্রে। কাপড় ব্যবহার না করে প্যাড বা ট্যাম্পুন ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে ব্যবহৃত প্যাড যেন ছয়ঘন্টার বেশী সময় না থাকে। আর সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়। তাই হালকা গরম পানিতে লবন দিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ সারতে পারেন।

সেই বিশেষ দিনগুলোতে কাপড় কড়া রোদে শুকিয়ে নিবেন। পেটে ব্যথার প্রকোপ বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আর তা না হলে যথাসম্ভব বিশ্রাম নিতে চেষ্টা করুন। যদি প্রচুর পরিমাণ রক্তপাত হয় তাহলে আইসব্যাগ পেটে লাগালে রক্তপাত কমে। আর হটওয়াটার ব্যাগ লাগালে ব্যাথা কমে।

ঠান্ডা তরল জাতীয় খাবার বেশী বেশী খাবেন। খাবাবের ক্ষেত্রে মাছ ও ওমেগা ত্রি ফ্যাটি এসিড খাবার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। সবুজ সবজি খাবার পরিমাণ বাড়ান। আকুপাংচারের নিয়মে কিছু জয়েন্টে ম্যাসাজ করলেও দেহ ও মন কিছুটা রিলাক্স হয়।

livia-device-to-curb-period-pain-5

সিজ বাথ বলে একটি নিয়ম আছে। তাতে ৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়।

বাজারে যেসব প্যাড পাওয়া যায় তার মধ্যে নিজের পছন্দমত প্যাডটি কিনতে পারেন। তবে যেসব প্যাডে জেল জাতীয় উপাদান থাকে তা এড়িয়ে চলা ভাল। সাধারন তুলোর প্যাড ব্যবহার করার অভ্যেস করুন। যেকোন প্রকার কড়া সুগন্ধিজাতীয় সাবান বা বডিওয়াশ থেকে দূরে থাকুন।

আঁটসাঁট পোশাক না পড়ে ঢিলেঢালা পোষাক পড়ুন। ভারী কাজ না করাই ভাল এই সময়ে। অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এই সময়ে হরমোনজনিত জটিলতার কারণে মুখে ব্রণ বা অন্যান্য উপশম দেখা দিতে পারে। ভয় না পেয়ে অপেক্ষা করুন। অথবা ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

কিছু কিছু কারনে পিরিয়ডের টাইম বিলম্বিত হতে পারে। এর পিছনে কারণ খুঁজে বের করুন ও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন। নিম্নলিখিত কারণে পিরিয়ড বন্ধ থাকতে পারে। হঠাৎ জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ গ্রহন বন্ধ করে দিলে, মানসিক চাপের কারণে, শরীরের রক্ত কমে গেলে, হুট করে ওজন বেড়ে গেলে, জরায়ুর বিভিন্ন জটিলতার কারণে, যৌন সমস্যা থাকলে, টিউমার হলে ইত্যাদি, এছাড়াও যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের এমন অনিয়মিত পিরিয়ড হতে পারে। তবে এরকম সমস্যা খুব সাময়িক। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে এমন সমস্যা শুরু থেকেই  থাকে এবং সেটা কখনো ঠিক হয়না। সেটা খুব সাধারণ ব্যাপার। দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তবে যা কিছু আপনার কাছে অস্বাভাবিক মনে হবে তা নিয়ে আলোচনা করুন। পিরিয়দড নিয়ে কোন কুসংস্কারে বিশ্বাস করবেন না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে