আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আইন-মানবাধিকার > শ্রমিক স্বার্থে দেশে আরো দুটি শ্রম আদালত

শ্রমিক স্বার্থে দেশে আরো দুটি শ্রম আদালত

মুজিবুল হক চুন্নু

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

সিলেট ও রংপুরে আরও দুটি শ্রম আদালত স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। শ্রমিকদের ন্যায় বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতেই এ উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।

সচিবালয়ে বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

জ্যঁ ল্যাম্বার্ডের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ইইউয়ের প্রতিনিধি দল শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমরা আরও দুটি লেবার কোর্ট (শ্রম আদালত) বাড়াচ্ছি, যাতে শ্রমিকরা বিচারের সুযোগ পায়। নতুন দুটি লেবার কোর্টের একটি হবে সিলেটে আরেকটি রংপুরে।”

বর্তমানে দেশে সাতটি শ্রম আদালত রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় একসঙ্গে তিনটি লেবার কোর্ট আছে। এগুলো নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের জন্য আলাদা আওতাভিত্তিক করা সেবিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।

“অর্থাৎ কোর্টটাকে শিফট করা… গাজীপুরের শ্রমিক ঢাকায় এসে বিচার পাওয়া খুব ডিফিকাল্ট জিনিস।”

ইইউয়ের প্রতিনিধি দল গার্মেন্টস কারাখানা পরিদর্শনের অবস্থা, শ্রম আইন সংশোধন, ইপিজেড শ্রম আইন প্রণয়ন ও নারীদের ক্ষমতায়নের বিষয়ে জানতে চেয়েছে বলে শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান।

“আমরা বলেছি কারখানা পরিদর্শনের কাজ শেষ করেছি, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স কাজ শেষ করেছে। এখন আমাদের নিজস্ব সংস্কার সেল আছে, মিটিং হবে তারপর আমরা কাজ করব।”

চুন্নু বলেন, “ইপিজেড চালুর সময় ট্রেড ইউনিয়ন চালু করা যাবে না বলে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন হয়েছে। এখন সর্বশেষ শ্রম আইনের আদলে একটা ইপিজেডের জন্য আলাদা একটা শ্রম আইন করা হচ্ছে, এটা আগে ছিল না, সেটা সংসদে গিয়েছে। সেটার উপর আইএলও কিছু অবজারভেশন দিয়েছে।

“আমরা নজিরবিহীনভাবে সেটা পার্লামেন্ট থেকে প্রত্যাহারের পর পরিমার্জন করে ফের পার্লামেন্টে পাঠিয়েছি। এসব অগ্রগতি আমরা তুলে ধরেছি।”

বাংলদেশে নারীদের ক্ষমতায়ন কতদূর এগিয়েছে শ্রম সচিব সে বিষয়ে প্রতিনিধ দলকে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন বলেও জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শ্রম খাত নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কাছে একটি ড্রাফট পাঠানো হয়েছিল। তারা সেটার উপর পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী অধিবেশনে শ্রম আইনটি সংশোধন করতে পারব।

“এখন সিস্টেম আছে কোনো ফ্যাক্টরিতে ট্রেড ইউনিয়ন করতে গেলে ৩০ শতাংশ শ্রমিকের সমর্থন লাগবে। এটা আমরা কমাচ্ছি। চারটি স্লাব করে এটা আমরা কমাচ্ছি।”

চুন্নু জানান, বর্তমানে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ৭০০টিতে পৌঁছেছে, আরও কয়েকশ গঠনের প্রক্রিয়াধীন।

“আইএলও চায় ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড, সেটা কী আমাদের দেশে সম্ভব? আজকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলকে আমাদের কর্মকর্তারা বলেছেন, একজন মালিক ঢাকা থেকে ফ্যাক্টরি শিফট করে নিয়েছে ঢাকার বাইরে, কোটি কোটি টাকা লেগেছে। তোমাদের ক্রেতারা তো মূল্য কমিয়েছে, আমরা একটা ইথিক্যাল প্রাইস চাই। এ বিষয়ে তোমাদের ক্রেতাদের অনুরোধ কর।”

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আফরোজা খানসহ শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে