আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ফোর-জি: সরকারের আয় ৫ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা

ফোর-জি: সরকারের আয় ৫ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা

ফোর-জি তরঙ্গ নিলামে সরকারের আয় ৫ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

ফোর-জি তরঙ্গের নিলাম এবং তরঙ্গের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার সুবিধা বিক্রি করে ভ্যাটসহ পাঁচ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা আয় করেছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা ক্লাবে ফোর জি তরঙ্গের নিলাম আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাজাহান মাহমুদ।

তিনি বলেন, নিলামে অংশ নিয়ে দেশের দুই অপারেটর বাংলা লিংক ও গ্রামীণফোন মোট তিন হাজার ৮৪৪ কোটি টাকায় ফোর জি তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়েছে। এছাড়া টু জি ও থ্রি জি সেবার জন্য বরাদ্দ করা তরঙ্গে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা দিয়ে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক ও রবির কাছ থেকে সরকার পেয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ দশমিক ০৮ কোটি টাকা।

দেশের চার অপারেটর ফোর জি তরঙ্গ নিলামে থাকার আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত নিলামে অংশ নিয়েছে শুধু গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর রবি তাদের হাতে থাকা তরঙ্গ প্রযুক্তি নিরপেক্ষতায় রূপান্তর করে ফোর জি সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আর বন্ধ হয়ে যাওয়া অপারেটর সিটিসেল নিলামে অংশ না নেওয়ায় তাদের পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভবনা আর থাকল না।

তরঙ্গের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার সুবিধা পেতে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক ফোর জি সেবায় আসতে চাইলে ওই সময়ের মধ্যে তাদের প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার সুবিধা নিতে হবে।

চারটি ব্লকে এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজে (প্রথম ব্লক- ৫ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ, দ্বিতীয় ব্লকে ৫ মেগাহার্টজ করে দুটি এবং দুই দশমিক ৪ মেগাহার্টজ আরেকটি ব্লক) এবং দুই হাজার ১০০ মেগাহার্টজের ৫টি ব্লকে ( প্রতি ব্লকে ৫  মেগাহার্টজ করে) এ নিলাম হয়।

এর মধ্যে গ্রামীণফোন শুধু এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ এবং বাংলালিংক দুই হাজার ১০০ মেগাহার্টজ ও এক হাজার ৮০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে অংশ নেয়। বাংলালিংক এক হাজার ১১৯ কোটি টাকায় ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং এক হাজার ৪৩৯ কোটি টাকায় ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের মোট ১০.৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কিনেছে।

আর গ্রামীণফোন ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকায় কিনেছে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ।

সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে- সব কাজ সেরে গ্রাহকপর্যায়ে ঢাকাসহ দেশের বড় বিভাগীয় শহরে সেবাটি সময়মতো চালু করা যাবে। বিটিআরসির ফোরজি নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব জেলা শহরে সেবাটি চালু করতে হবে; তিন বছরের মধ্যে সব উপজেলায়।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘২০ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোন অপারেটরদের হাতে ফোরজির লাইসেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হবে। এই দিন থেকে সেবা চালু করতে তারা কারিগরিভাবেও প্রস্তুত।’

নিলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ। এছাড়া বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে