আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > মতামত-চিন্তা > সুশিক্ষিত জাতি বিনির্মাণে শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য

সুশিক্ষিত জাতি বিনির্মাণে শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য

সুশিক্ষিত জাতি বিনির্মাণে শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য

শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক বিকাশের নাম শিক্ষা। “Education is the harmonic development of body mind and soul”। এ বিকাশ ঘটানোর কাজটা যিনি করেন তাঁকেই বলে শিক্ষক। একাডেমিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রধানত আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই হয়ে থাকে। আর এ কাজটির সার্বিক দায়িত্ব পালন করে থাকেন শ্রেণি শিক্ষক। তাই একজন শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব অপরিসীম। কবি সুর্নিমল বসু বলেছেন, “বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র।”

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষক শিক্ষার মেরুদণ্ড এবং প্রশিক্ষণ শিক্ষকের মেরুদণ্ড। তাই নিয়মিত In house training বিভিন্ন বিষয়ে একজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় থাকতে হয় এবং গভীরভাবে নিয়মিত পড়াশোনার মধ্যে দিন কাটাতে হয়। শিক্ষার্থীদেরকে নোট, গাইড, সাজেশন থেকে দূরে রেখে জ্ঞানের ভান্ডার পাঠ্য বই থেকে নিবিড়ভাবে পড়ালেখার অনুপ্রেরণা জাগাতে হয়। একমাত্র শিক্ষকই পারেন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন জাগানোর কাজ করতে। ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালাম বলেছেন “স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, স্বপ্ন হল সেটাই যেটা পুরনের প্রত্যাশা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।’

শিক্ষকই মূলত এ স্বপ্ন দেখানোর কাজটি করে থাকেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে- Schools are not knowledge shop and teachers are not information mongers. অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জ্ঞানের বিপনীকেন্দ্র নয় এবং শিক্ষকরা জ্ঞানের ব্যবসাও করেন না।

এ জন্যই প্রয়োজন একজন গুণগত মান সম্পন্ন সুশিক্ষিত শিক্ষক। একদিন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্কুল পরির্দশনে গিয়ে ছাত্রদের প্রশ্ন করলেন; ‘বলতো দিন- রাত্রি কিভাবে হয়? ছাত্ররা জবাব দিল সূর্য উঠলেই দিন হয় আর চাঁদ উঠলেই রাত হয়। তখন তিনি শিক্ষককে প্রশ্ন করলেন আপনি বলেন তো? জবাবে শিক্ষক বললেন, কেন, সাত ঘোড়ার রথে চড়ে সূর্যদেব পূর্ব আকাশে উঠলে দিন হয়। আর সারাদিন পর সূর্যদেব পশ্চিম আকাশে চলে গেলে রাত হয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বললেন সে তো পুরাণের কথা। আপনি আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির কথা কিছু শোনেন নি?’

সেদিন বিদ্যাসাগর মহাশয় উপলব্ধি করলেন যে শুধু বিদ্যালয় স্থাপন করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। দরকার উপযুক্ত শিক্ষক। একটি জনগোষ্ঠিকে জন সম্পদে রুপান্তরিত করার প্রধান অস্ত্র হলো সুশিক্ষা ও মানসম্মত শিক্ষা। আর এ পবিত্র দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষকরা। মেধাহীন ও অযোগ্য শিক্ষক কোনোভাবেই শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করতে পারেন না। একমাত্র আদর্শ শিক্ষকরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার কারিগর।

একজন আদর্শ শিক্ষক পোশাক-পরিচ্ছদ পেশা বা কর্মে নিজ দায়িত্বের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষন করবেন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতি সম্মান ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আহত করে এমন আচরন থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলেই কেবল শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আস্থাশীল অভিভাবক হতে পারবেন। কেবল শিক্ষকই পারেন শিক্ষার্থীদের মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে। এখানে অভিভাবকদের হতে হবে প্রকৃত বন্ধু ও যোগ্য পরামর্শ দাতা এবং তাদের থাকতে হবে শিক্ষার্থীদের বিষয়গুলো সহজেই মেনে নেয়ার মানসিকতা।

জলকণা, আলো বাতাস যেমন পৃথিবীকে মোহনীয় করে তুলেছে। ফুলে ফলে আনন্দে পৃথিবীকে প্রাণবন্ত করে রেখেছে । তেমনই একজন আদর্শ শিক্ষকই পারেন তাঁর শ্রেণি কক্ষটিকে প্রাণবন্ত করে রাখতে। বর্তমান সময়ে কিছু কিছু শিক্ষক নিয়মিত পড়াশুনা করেন না বলেই পাঠ্য বইয়ের বিষয় বস্তুকে সহজে, সুন্দর আর সাবলিল ভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরতে বা উপস্থাপন করতে পারেন না। তাই শিক্ষার্থীরাও আনন্দ পায় না।

এ আনন্দহীন শিক্ষা তারা সহজেই ধারন করতে পারে না। কেননা আনন্দহীন শিক্ষা শিক্ষাই নয়, এটা বিষের চেয়েও ভয়ংকর। শিক্ষা গ্রহন করা ও  আত্মস্থ করার আগ্রহ ইচ্ছা শক্তিকে বিকল করে দেয়। শিক্ষার বিষয়বস্তুকে উদাহরণ উপমা ও সহজ বোধ্য শব্দ চয়নের মাধ্যমে আনন্দদায়ক করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশন করতে হয়। এটাই একজন সৎ , আদর্শ আর গুণমান সম্পন্ন শিক্ষকের কাজ।

একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষকের সঠিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ঐ শ্রেণির সকল কার্যক্রম। একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষকই শ্রেণির প্রাণ। সে ক্ষেত্রে শ্রেণি শিক্ষকের সঠিক কার্যক্রমের উপরই নির্ভর করে শ্রেণির সফলতা ও বিফলতা। এ সফলতার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সকল শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা। একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষক তার নিজস্ব চিন্তা, চেতনা, ব্যক্তিত্ব, মেধা, যোগ্যতা, মননশীলতা আর আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ঐ শ্রেণির শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

শ্রেণি শিক্ষক শিক্ষার্থীর নিকট কখনও হবেন আদর্শ শিক্ষক, কখনও একজন প্রকৃত বন্ধু, কখনও হবেন একজন পিতা, কখনও হবেন একজন আদর্শ পথ প্রদর্শক, কখনও একজন অভিনেতা, কখনও গায়ক, কখনও হবেন সৃজনশীল আধুনিক কারিগর। একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষককে হতে হবে উত্তম চরিত্রের অধিকারী, বিনয়ী, নিরপেক্ষ, দৃঢ় চেতা ও সত্যবাদী। তিনি তার অনুপম চরিত্র মাধুর্য দিয়ে শিক্ষার্থীর মন জয় করবেন। তিনি হবেন নিজস্ব স্বকীয়তায় অভিনেতা শিক্ষক, শিক্ষার্থীর নিকট এক অনুসরনীয় আদর্শ।

একজন শ্রেণি শিক্ষকের থাকতে হবে সৃজনশীল ক্ষমতা, নতুন কিছু সৃষ্টি করার অদম্য পিপাসা। তিনি  শিক্ষক সুলভ আচরণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মনের মাঝে আসন করে নিবেন। একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্বস্ত বন্ধুর মত আচরন করবেন যেনো শিক্ষার্থীরা সমস্যা গুলো বন্ধুর মতই তাঁর নিকট তুলে ধরার সুযোগ পায়। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীর সুখে-দুঃখে, সাফল্য-ব্যর্থতায় সকল সময় পাশে থাকবেন। একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীর আচরন দেখে তার মনের ভাষা বুঝতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে তাঁর স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা  শ্রেণিতে ভুল থেকেই শিখতে আসে। তাই শিক্ষার্থী ভুল করবে বা অন্যায় আচরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে শিক্ষক কখনও রাগ বা অভিমান করবেন না। শিক্ষার্থী যে ভুল বা অন্যায় আচরণ করছে একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষক তাকে মার্জিত ভাষায় স্নেহের সাথে অভয় দিয়ে অত্যন্ত কোমলতার সাথে  বুঝিয়ে দিবেন। ধৈর্যশীলতা হবে একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষকের প্রধান গুন। শ্রেণি কক্ষে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ভাবেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ভাব দেখাবেন না।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এ তিন পক্ষের সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ হয়। সে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করতে সক্ষম হয়। এ ক্ষেত্রে  একজন শ্রেণি শিক্ষকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পিছিয়ে পরা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের সাথে সময়ে সময়ে যোগাযোগ রক্ষা করবেন। অভিভাবক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবেন এবং অভিভাবকের কোনো গঠনমূলক পরামর্শ থাকলে তা গ্রহন করবেন। কোন শিক্ষার্থী শ্রেণিতে অনিয়ম বা শৃংখলা ভঙ্গ করলে শ্রেণি শিক্ষক তা অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সহায়তা করবেন।

চরম ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক অবক্ষয়ের এ  সময়ে একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষকের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষক শিক্ষার্থীর নৈতিক চরিত্র উন্নয়নে সকল প্রচেষ্টা চালাবেন। চরিত্র মানব জীবনে এক অমূল্য সম্পদ। একজন চরিত্রবান, ন্যায়নিষ্ঠ, পরোপকারী, সত্যবাদী, অকুতোভয়, সময়ানুবর্তী, আদর্শবান ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও জাতীয় জীবনে সভ্যতার মূল্যবোধ জাগাতে পারেন। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের পরিবার, সমাজ ও জাতীয় নেতৃত্ব দিবে, তাই শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠনে সমাজের প্রতীক সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসাবে একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

বর্তমান যুগে আধুনিক শিক্ষা উপকরণসহ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। হাতে তৈরী উপকরণস্বল্প মূল্যের শিক্ষা উপকরণসহ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষক বিশ্বমানের পাঠদান উপহার দিতে পারেন। যাতে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন পাঠে আনন্দ পায়, স্কুল মুখী হয় অন্যদিকে সর্বোপরি পাঠে আগ্রহ অনুভব করে এবং পাঠটা স্থায়ী হয়। একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষককে সর্বদা আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান রাখতে হবে, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরী করা জানতে হবে এবং মাল্টিমিডিয়ার সাহায্যে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার যোগ্যতা অবশ্যই অর্জন করতে হবে। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক বই, শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করতে হবে যেমন- ম্যাপ, চার্ট, গ্লোব, পেনা, মডেল পোস্টার পেপার হাতে তৈরী মাটির উপকরণ, ছবি, হাতের নাগালে বিভিন্ন গাছ-পালা ফুল, ফল, লতাপাতা ইত্যাদি। শিক্ষা উপকরণ গুলির যথাযথ ব্যবহারের পর সেগুলো আবার সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করাও একজন আদর্শ শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষককে তাঁর পেশাগত মান উন্নয়নের জন্য সময়ে সময়ে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে আয়োজিত শিক্ষক প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহন করতে হবে। প্রয়োজনে নিজ প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত In House Training এ অংশগ্রহনের মাধ্যমে শিক্ষক তাঁর পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে পারেন। শিক্ষক তার সহকর্মীর সাথে শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে আলোচনা করে কোনো বিষয়ে অস্পষ্ট ধারনা থাকলে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। পরস্পরের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অনেক অজানা বিষয়ে জানতে পারেন। এবং নিজেদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়াতে পারেন। একজন শ্রেণি শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করবেন সে বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট ধারনা থাকতে হবে। একটি বিমূর্ত বিষয়কে শিক্ষার্থীর সামনে বর্তমান করে তুলবেন একজন শিক্ষক। একজন আদর্শ শিক্ষককে শ্রেণিতে পাঠদানের পূর্বে তাঁর পাঠদানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিজে অধ্যয়ন করে সুস্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করবেন এবং এটি হবে যেকোনো শিক্ষকের জন্য চলমান প্রক্রিয়া।

বিশ্ব এখন আমাদের হাতের মুঠোর মধ্যে তাই একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষককে হতে হবে একজন প্রকৃতির ছাত্র। তিনি নিজ দেশের শিক্ষা নীতি সম্পর্কে যেমন জানবেন তেমনই জানবেন শিক্ষণ শেখানো প্রক্রিয়া সম্পর্কে। তাহলেই তিনি সফল শিক্ষক হিসাবে শ্রেণিতে কার্যকরি পাঠদান করতে পারবেন।

হাসপাতাল যেমন দেহের সুস্থতা দান করে তেমনই পাঠাগার বা লাইব্রেরি গুলো জ্ঞানের পরিপূর্ণতা দান করে, জ্ঞানকে শাণিত করে, সমৃদ্ধ করে। লাইব্রেরি হল জ্ঞানের ভান্ডার। তাই সময় পেলেই পাঠাগারে নিবিড় ভাবে পড়া লেখা করতে হবে। দৈনিক পত্রিকা সহ সাথে আইসিটি ব্যবহারে দক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠাগারে পত্র-পত্রিকা সহ বই পুস্তক পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষণ-শেখানো কার্যক্রমের মধ্যে মূল্যায়ন হলো একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা কী পরিমান সফলকাম হয়েছে তা শ্রেণি শিক্ষক নিরুপন করতে পারেন। অন্যদিকে মূল্যায়ন এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ এবং আচরনিক উন্নতি পরিমাপ করতে পারেন। মূল্যায়ন বিষয়টি তাদের নিকট ভীতিকর হিসাবে উপস্থিত হয়ে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ যাতে বাধা গ্রস্থ না হয় একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষক সেদিকে নজর রাখবেন। মূল্যায়নের ফলাফলে যদি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন না করে তবে পাঠদানে নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

শ্রেণিতে একজন আদর্শ শ্রেণি শিক্ষকের ভূমিকা হবে যুদ্ধ ক্ষেত্রে সেনাপতির মত। সেনা প্রধানের উপর যেমন যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ভর করে তেমনই একজন সফল শিক্ষকের উপর জাতির সফলতা নির্ভর করে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে জাতির নেতৃত্ব দিবে। তাই এ কচি কাঁচা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে শিক্ষার উদ্দীপনা সৃষ্টিতে শ্রেণি শিক্ষক হবেন এক সুনিপুণ আধুনিক কারিগর। একজন সফল সেনাপ্রধান।

পরিশেষে বলা যায় জাতি বিনির্মাণে একজন আদর্শ শিক্ষককের ভূমিকা ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা যায় না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে যখন নামি-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, শিক্ষক, সেনাপ্রধান, বিমান বাহিনীর প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান তখন শিক্ষকের মন ভরে উঠে, চোখে আনন্দের অশ্রু চলে আসে। এটিই হোক আজকের বিশ্বায়নের যুগে একজন শ্রেণি শিক্ষকের মূল আদর্শ।

সুশিক্ষিত জাতি বিনির্মাণে শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্যলেখক: মো: মকছেদ আলী দেওয়ান

একাডেমিক কনসালটেন্ট

সিআরডি স্কুল, জয়পুরহাট

সাবেক প্রধান শিক্ষক, এমটিআরটি, আরটি,

গণিত, সেকায়েপ, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, ঢাকা

 এমটি গণিত, ওয়ার্ল্ড ভিশণ, এডিপি,

জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, ধামইরহাট, গোদাগাড়ী

যোগাযোগ: ফেসবুক

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে