আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > গোপন সুড়ঙ্গ থেকে ‘পাতালপুরীর প্রবেশদ্বার’

গোপন সুড়ঙ্গ থেকে ‘পাতালপুরীর প্রবেশদ্বার’

মায়ান পিরামিড

প্রতিচ্ছবি ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:

‘গ্রেট মায়ান অ্যাকুফাইয়ার প্রজেক্ট’ নামে শুরু হচ্ছে ‘এল ক্যাস্তিলো’ নামক পিরামিডের খনন কাজ। চলতি মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে মেক্সিকোতে অবস্থিত প্রাচীন মায়া গোষ্ঠীর এই পিরামিডটির খনন কাজ।

প্রকল্পটির প্রধান হিসেবে কাজ করছেন মেক্সিকোর নৃতত্ত্ব প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বিশেষজ্ঞ প্রত্নতত্ত্ববিদ গিলারমো ডি আন্দা। তিনি জানান, খনন কাজটি সম্পন্ন হতে প্রায় ৩ মাস সময় লাগবে।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের তত্ত্বাবধানে ‘এল ক্যাস্তিলো’ নামক পিরামিডের অভ্যন্তরের গোপন সুড়ঙ্গটি খননের পরিকল্পনা চলছে। ৭৯ ফুট (২৪মিটার) লম্বা চতুষ্কোণ এই পিরামিডটি জটিল জ্যামিতিক নীতি মেনে তৈরি করা হয়। পিরামিডটির উপরে উঠার জন্য প্রতি পাশে ৯১টি করে মোট ৩৬৫টি সিঁড়ি রয়েছে।

মায়া জনগোষ্ঠী কয়েক শতাব্দী আগে সুড়ঙ্গটি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিকগণ সুড়ঙ্গটি খননের সিদ্ধান্ত নেয়। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে থাকা লুকায়িত জলাধার ‘সিনোট’ পুনরুদ্ধারের জন্য তারা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়। পানির নীচের এই রহস্যময় জলাধারটি মায়ান আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রস্থল ছিল। মেক্সিকোর ইয়োকাতান প্রদেশের পানির একমাত্র উৎস হল এই ‘সিনোট’। সিনোট ছাড়া মায়ান সভ্যতার টিকে থাকা  সম্ভবপর ছিল না। ধারণা করা হয়, এই জলাধারগুলো বাস্তবিক জীবনের চেয়ে মায়ান সভ্যতার সৃষ্টিতত্বকে উপস্থাপন করে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী মায়ানরা এই জলাধারে নিজেদের বিসর্জন দিত। তাদের বিশ্বাস এতে বৃষ্টি দেবতা চ্যাক -এর সন্তুষ্টি অর্জন হত।

ভুগর্ভস্থ জালাধার

প্রায় ১৬শ শতাব্দীতে স্প্যানিশরা মেক্সিকোতে পৌঁছায়। তখন মায়া গোষ্ঠীরা বিশ্ব সভ্যতার মধ্যে অন্যতম সভ্য জাতি হিসেবে পরিচিত ছিল। চিচেন ইটজা নামক শহরকে নিজেদের আয়ত্তে নেয়া ছিল তাদের সেরা প্রাপ্তি। গ্রেট মায়ান অ্যাকুফাইয়ার প্রজেক্টের প্রধান প্রত্নতত্ত্ববিদ গিলারমো ডি আন্দা জানান, “মায়ানদের জন্য এই সিনোটগুলো পাতালপুরীর প্রবেশদ্বারস্বরূপ ছিল”।

তিনি আরও জানান, “মায়া-র ধারণা আসে তিনটি প্রাথমিক নৈসর্গিক ধাপ থেকে- স্বর্গ, বিশ্ব এবং পাতালপুরী”। চিচেন ইটজা-তে চারটি দৃশ্যমান সিনোট ছিল, কিন্তু বছর দুয়েক আগে  আরেকটি লুকায়িত সিনোটের সন্ধান পাওয়া যায়। রেন স্যাভেজ সেগুরা নামের একজন মেক্সিকান বিজ্ঞানী লুকায়িত সিনোটের খোঁজ দেন, এর আগে কোন প্রত্নতাত্ত্বিকও দিতে পারেননি।

প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরে চিচেন ইটজা থেকে একটি ছোট পিরামিডের তলদেশ থেকে তারা একটি সুড়ঙ্গপথের খোঁজ পান। এটি ‘অসুয়ারি’ নামে পরিচিত। তারা আশা করছেন এই সুড়ঙ্গপথটি তাদেরকে ‘এল ক্যাস্তিলো’-র তলদেশে নিয়ে যাবে, যা একসময় পাথর দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল মায়া গোষ্ঠী।

                                                                                                                                              সূত্র: সিএনএন

জে এস/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে