আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > ‘খেলাপি ঋণের টাকায় তিনটি পদ্মাসেতু করা সম্ভব’

‘খেলাপি ঋণের টাকায় তিনটি পদ্মাসেতু করা সম্ভব’

আবুল মাল আবদুল মুহিত

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির জন্য সরকারের দায় স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকারের ‘জারিজুরির’ কারণে খেলাপি ঋণ যত বেড়েছে, তা দিয়ে তিনটি পদ্মাসেতু তৈরি করা সম্ভব।

শনিবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত ২৫ জানুয়ারি সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ১০ বছরেই ৬৫ হাজার কোটি টাকা মেরে দেয়া এক হাজর ৯৫০ জনের তালিকা দিয়েছেন জাতীয় সংসদে। এর বাইরে অবলোপন করা ঋণ মিলিয়ে খেলাপির পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দিয়ে তিনটি পদ্মাসেতু করা সম্ভব।

সোনালী ব্যাংকের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে আমার মনে হয় সরকারও কিছুটা দায়ী। কারণ আমাদের অধীনে যে ছয়টি ব্যাংক রয়েছে, সেগুলোর ওপর আমরা কিছুটা জারি-জুড়ি করি। যেহেতু সোনালী ব্যাংক আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যাংক, সেক্ষেত্রে এই ব্যাংকটির ওপর আমাদের জারি-জুড়ি একটি বেশি পড়ে।’

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। যা তার আগের বছর ছিল ১০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের নানা চেষ্টা সত্ত্বেও এক বছরে বেড়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সরকারের অধীনে থাকা ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, সে দিকটা বিবেচনা করা হচ্ছে।’

সভাপতির বক্তব্যে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল বলেন, ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড়াতে তারা সার্বিক চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানকে পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমে গ্রাহকের কেওয়াইসি (নো ইউর কাস্টমার) ফর্ম ভালোভাবে চেক করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত. ঋণ বিতরণের আগে ভালোভাবে প্রকল্প বিশ্লেষণ। যদি তা করতে পারেন তবে প্রকল্প সুন্দর হবে।’

সোনালী ব্যাংকের লোকসানি শাখাগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের শাখা এক হাজার ২১১ টি। এরমধ্যে ১৮১ টি শাখা লোকসানে রয়েছে। এসব লোকসানি শাখা বন্ধ করা খুবই কষ্টকর। তবে এখানে সমাধানের সুযোগও রয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুস রহমান, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল ও এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে