আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় যা বললেন খালেদা

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় যা বললেন খালেদা

খালেদা জিয়ার বক্তব্যের চুম্বক অংশ:

  • সাংবাদিকরা সত্য বলেন এতে জনগন অধিকার সচেতন হচ্ছে তাই ডিজিটাল আইন নামে কালো আইন করতে হয়।
  • জামাত-আওয়ামী লীগের সেই ১৭৩ দিন হরতালের দাবি সফল করতে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার উঠিয়ে দিতে হয়।
  • প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হয়।
  • পত্রিকায় যা দেখছি তাতে বোঝা যাচ্ছে সঠিক রায় দেয়ার সুযোগ নেই।
  • নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেও নির্বাচনের এক বছর আগ থেকে জনগনের কাছে ‘ওয়াদা’র হিড়িক পড়ে।
  • আসলে ভয়ে আছে আওয়ামী লীগ।
  • বিএনপির সঙ্গে রয়েছে জনগণ, পুলিশ, সশ্বস্ত্র বাহিনী ও দেশের বাইরে থাকা প্রবাসিরাও।
  • জনগণকে ন্যায্যমূল্যে কিছু দেয়ার কথা সরকার ভাবে না।
  • আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অতীতেও পারেনি ভবিষ্যতেও লাভ হবে না।
  • নির্বাচনে বিএনপির ছয় শর্ত।
  • একা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ।
  • সবার খবর রেখেছি যারা বেঈমানি করেননি তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

আদালতে চলমান মামলা ও বিচার ব্যবস্থা ছাড়াও আসন্ন নির্বাচন ও তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নীল নকশা, সাম্প্রতিক ডিজিটাল আইন, তত্বাবধায়ক সরকার, প্রশাসনকে ব্যবহার ও ব্যাক্তি বিশেষে চাপ প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট মানুষকে হয়রানীসহ বেশকিছু অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর রোডের হোটেল লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত দলের নির্বাহী কমিটির সভায় উদ্বোধনী ভাষণে এসব প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশের ক্রান্তিকাল চলছে। আমরা এখানে সভা করতে চাইনি। কিন্তু কেন সভা করতে দেয়া হলো না। বিএনপি সবচেয়ে বড়দল। তারপরও বলবেন দেশে গণতন্ত্র আছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি যেখানেই থাকি না কেন আপনাদের সঙ্গেই আছি। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কেউ কিছু করতে পারবে না। অতীতেও পারেনি ভবিষ্যতেও পারবে না। ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। সময় এসছে, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমাদেরকে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে।’

নিজের রায় সম্পর্কে বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘পত্রিকায় যা দেখছি তাতে বোঝা যাচ্ছে সঠিক রায় দেয়ার সুযোগ নেই। সঠিক রায় দিলে কি পরিণতি হয় তা তো দেখেছেন। তারেক রহমানের রায় দেয়ার পর বিচারককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। যারা নিজেদের গণতান্ত্রিক বলছেন, তারা অস্ত্রের মুখে জোর করে মিথ্যা তথ্য দিতে বাধ্য করছে। এদের মধ্যে আর মঈন-ফখরুদ্দিনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

তিনি বলেন, ডিজিটাল আইনের নামে নতুন কালাকানুন করা হচ্ছে। সাংবাদিকরা সত্য কথা বলে। সেইকথাগুলো যখন মানুষ শুনে তখন জনগণের অধিকার হরণ করতে নতুন আইন করা হচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, তারা বলছে নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে। প্রচার করে বেড়াচ্ছে। নৌকা এমন ডোবা ডুবছে যে তোলার জন্য এত আগে ভোট চাইতে হচ্ছে, হাত তুলে ওয়াদা করাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আবার আগের মতো গুম-খুন, নির্যাতন চালিয়ে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতির তৈরা করা হচ্ছে। বাড়িবাড়ি গিয়ে ধরে নেয়া হচ্ছে নেতাকর্মীদের। তারা জানে বিএনপির সম্পর্ক জনগণের সঙ্গে। তাই মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে পারলে সুবিধা।

খালেদা জিয়া বলেন, সর্বোচ্চ আদালত বলছে নিম্ন আদালত সরকারের কব্জায়। পত্রিকায় যা দেখছি তাতে বোঝা যাচ্ছে সঠিক রায় দেয়ার সুযোগ নেই। সঠিক রায় দিলে কী পরিণতি হয় তা তো দেখেছেন। তারেক রহমানের রায় দেয়ার পর বিচারককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অপরাধ নেই। সেখানে কিসের বিচার হবে। কিন্তু তারা জোর করে বিচার করতে চায়।

বিএনপি নেত্রী বলেন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করতে চায়। এটা কোনো দেশে নেই। নিজস্ব দলীয় লোকদের প্রশাসনে বসানো হচ্ছে। তারা মনে করে নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে সহযোগিতা করবে। কিন্তু তারা যদি একটু নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করার তাহলে কারো কোনো কথা শুনবে না। কারণ তারা এদেশের নাগরিক। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান থেকে উঠিয়ে দেয়া হলো। কিন্তু এটা তো আমাদের দাবি ছিল না। আওয়ামী লীগ ও জামাতের দাবি ছিল। তারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে দিয়েছিল।

পুলিশও চায় নিরপেক্ষ গণতন্ত্র থাকুক। কিন্তু তাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া। নির্দেশ পালন না করলে পরিণতি ভালো হবে না।

খালেদা জিয়া

বিএনপির সঙ্গে জনগণ, পুলিশ, সশ্বস্ত্র বাহিনী আছে। যারা বাইরে আছে তারাও আমাদের সঙ্গে আছে। তাই বিএনপির কোনো ভয় নেই। ভয়ে আছে আওয়ামী লীগ।

দুর্নীতি মামলায় দুদকের আইনজীবীর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের পিপিকে মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সময়েও দেখেছি। এখনো আছে। তাকে দোষ দিব না। হয়তো তাকেও বাধ্য হয়ে এমনভাবে কথা বলতে বা স্বর উচ্চারণ করতে হয় যাতে যারা শোনার তারা যেন বুঝে নির্দেশ কোথা থেকে আসছে। সে কারণে হয়তো নিজে একটু জোরোসোরে কথা বলে নিজের পজিশন ঠিক রাখে।

তিনি বলেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি চলছে। জনগণকে ন্যায্যমূল্যে কিছু দেয়ার কথা সরকার ভাবে না।

এর পর নিজ দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা মনে করছেন আমি খবর রাখি না। আমি সবার খবর রেখেছি। যারা বেঈমানি করেননি তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে। যারা বেঈমানি করবে, এক পা এদিকে আরেক পা অন্যদিকে রাখেন তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে না।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। তখন যারা সঙ্গে ছিলেন যাদের ত্যাগ ছিল তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ছয়টি শর্ত দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শর্তগুলো হলো, ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, ভোটকেন্দ্রে জনগণের আসার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে, ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে, ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

তিনি বলেন, মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে অস্ত্রের মুখে গুম-খুন নির্যাতন চালিয়ে আওয়ামী লীগ দেশকে ভয়ভীতির রাজ্যে পরিণত করেছে। এখন দেশ ও নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে আওয়ামী লীগ কিভাবে নির্বাচনে একা পার হবে। নৌকা নিয়ে তারা খুব চিন্তিত।

এম এম

আরো জানতে পড়ুন

নির্বাচনে যেতে খালেদা জিয়ার শর্ত

‘ন্যায়বিচার’ পাওয়া নিয়ে খালেদার আশঙ্কা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে