আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > উদ্বোধনের অপেক্ষায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা

উদ্বোধনের অপেক্ষায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা

অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গন

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি-স্মরণ ও ভাষা শহিদদের রক্ত ঋণ শোধিবার প্রত্যয়ে আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮-এর পর্দা উঠছে আজ বৃহস্পতিবার। সাধারণত বইপ্রেমীদের নিকট তা পরিচিত অমর একুশে বইমেলা নামে। চিন্তাশীল পাঠক থেকে শুরু করে সাহিত্য প্রেমী, ফিকশন প্রেমী, বা শিশুতোষ গ্রন্থপ্রেমিক সবার প্রাণের খোরাক জোগায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

উদ্বোধনের অপেক্ষায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা

অঘোষিত রেওয়াজ অনুযায়ী এবারও বিকেল তিনটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা একাডেমি চত্বরে মাসব্যাপী এ গ্রন্থমেলার উদ্বোধন করবেন। বাংলা একাডেমি এই মেলার আয়োজন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী এদিন মেলার ওয়াই-ফাই সংযোগ ও ওয়েবসাইট এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনেরও উদ্বোধন করবেন। বইমেলা চলাকালে ২২ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা একাডেমির মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা যথারীতি আজ ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে। চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিকে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শব্দের তালে তালে তৈরি করা হচ্ছে এক একটি স্টল। কোথাও কোথাও স্টলের অবয়ব ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে- এখন চলছে বুক সেলফ তৈরির কাজ। সেটিতেই আবার রঙের কাজ করছেন কেউ কেউ। নিজ স্টলে বইয়ের পসরাও সাজিয়েছেন অনেকে। মেলা শুরুর ঠিক আগের দিন গতকাল বুধবার মেলা প্রাঙ্গনের দৃশ্যটা ছিল এমনই। মেলার ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ পরিসরে বসবে এবারের বইমেলা। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট জায়গায় হবে মেলার আয়োজন। থাকছে কঠোর নিরাপত্তা। যার কারণে মেলায় কোনো ধরনের ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না দর্শনার্থীরা।

অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রস্তুতি

মেলা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে মোট ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৩৬টি ইউনিট এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৮৩টি ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মোট ১৫ হাজার ৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৫টি প্যাভিলিয়ন। এর বাইরে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩৬টি লিটল ম্যাগাজিনকে।

বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমি সম্মুখস্থ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৫ লাখ বর্গফুট জায়গায়। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১২টি চত্বরে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

গত বছর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মোট ৪০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৩টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। আর প্যাভিলিয়ন ছিল ১৫টি।

অমর একুশে গ্রন্থমেলার, ২০১৮ । সংবাদ সম্মেলন

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় আয়োজন এটি। এমন একটি আয়োজনের জন্য আমাদের অপেক্ষার জন্য অন্ত থাকে না। তিনি বলেন, এবার মেলা চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। সেই সঙ্গে মেলার পাশাপাশি ২২ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ আটটি দেশের ১৫ জন কবি-লেখক-বুদ্ধিজীবী অংশ নেবেন। সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ফ্রান্স, স্পেন, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ আটটি দেশের ১৫ জন কবি-লেখক-বুদ্ধিজীবী অংশ নেবেন।

এছাড়া ২ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৪টায় মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সেমিনার। এবারের মেলার বাংলা একাডেমি চত্বর উৎসর্গ করা হয়েছে মরহুম কথাসাহিত্যিক শওকত আলীকে। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ১২টি চত্বরের মধ্যে থাকবে শহীদ আলতাফ মাহমুদ চত্বর, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক চত্বর, অধ্যাপক অজিত কুমার গুহ চত্বর, শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দীন হোসেন চত্বর, শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহ চত্বর, শহীদ নূর হোসেন চত্বর, শহীদ মুনীর চৌধুরী চত্বর, শহীদ আসাদ চত্বর, শহীদ কবি মেহেরুন্নেসা চত্বর, লোকশিল্পী রমেশ শীল চত্বর, ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক আবদুল হাই চত্বর।

সময় প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ বলেন, সব ঠিক থাকলে গতবারের মতো এবারের মেলাও সফল হবে। রাজনৈতিক সংঘাতই মেলা আয়োজনের জন্য বড় বাধা। আমরা আশাবাদী, মেলার সাফল্যে সবাই সহযোগিতা করবে। প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে গেয়ে উঠবে মাতৃভাষার গান।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে