আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিতে প্রথমবারের মতো অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিতে প্রথমবারের মতো অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ

(বামে) সাকিব আল হাসান ও (ডানে) মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

প্রতিচ্ছবি ক্রীড়া প্রতিবেদক:

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর টেস্ট দলের দ্বিতীয় বারেরমতো নেতৃত্বের আগে চোট আক্রান্ত সাকিব আল হাসান। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে তার চোট হঠাৎ সুযোগ এনে দিয়েছে সহকারি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কাছে। কারন পুরো টেস্ট সিরিজেই নাকি পাওয়া হচ্ছে না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে। আর তাতে প্রথমবারেরমতো জাতীয় দলের নেতা রিয়াদ।

তবে এভাবে নিশ্চই অধিনায়কত্ব পেতে চাননি মাহমুদউল্লাহ। আজ সংবাদ সম্মেলনে জানালেন সেটাও। সঙ্গে প্রতিপক্ষকে এক বিন্দু ছাড় না দেয়ার সঙ্গে জানিয়ে রাখলেন তার নেতৃত্বের মূলমন্ত্র হবে ‘মাথা ঠান্ডা রাখা’।

আচ্ছা একি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি? কারন রিয়াদ হয়তো ভুলে যাননি এভাবেই এমন অনাকাঙ্খিত এক ঘটনায় প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের নেতা হয়েছিলেন সাকিবও। সেই ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো মাশরাফি বিন মর্তুজাকে নেতা করে পাঠানো হয়েছিল ওয়েস্টইন্ডিজে। প্রথম টেস্টেই চোটে পড়লেন ম্যাশ। নেতৃত্ব কাঁধে নিয়ে ইতিহাস গড়লেন সাকিব। এরপর পাকাপাকি ভাবেই তার কাঁধে নেতৃত্বটা চাপিয়ে দিয়েছিল বোর্ড। এরপর শেষ কয়েক বছর তা ছিল মুশফিকুর রহিমের হাতে। সেখান থেকে ডিসেম্বরে ফের টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয় সাকিবের নাম।

কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বাঁ হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে ব্যথা পান তিনি। আঙুল ফেটে যায় এবং সেলাই পর্যন্ত করাতে হয়েছিল। এই চোটের কারণে সেই ম্যাচে তো খেলতেই পারেননি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল থেকেও ছিটকে পড়েন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। এবার শোনা গেল নতুন খবর, শুধু প্রথম টেস্টেই নয়, দ্বিতীয় টেস্টেও তার ফেরা নাও হতে পারে।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

বাংলাদেশ ক্রিকেটে বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক ডাক্তার দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘সাকিবের বাঁ হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে ব্যথা পেয়েছেন। মূলত ব্যথাটা সে আঙুলের জয়েন্টে। এ ধরনের ইনজুরি সারতে একটু সময় নেয়। আজই (মঙ্গলবার) হাতের প্লাস্টার খোলা হবে। আমরা চিন্তিত ভেতরের চোট নিয়ে। তাড়াতাড়ি খেলায় ফিরে আসতে গিয়ে যেন ভবিষ্যতে সমস্যা হয়, সেটা আমরা চাই না।’

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টেও খেলা নাও হতে পারে সাকিবের। আর টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে পারবেন কি না, সেটাও বোঝা যাচ্ছে না।

অবশ্য সাকিব বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন গত ডিসেম্বরে। সিরিজের প্রথম টেস্টে তিনি খেলতে না পারায় সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন। তাই টাইগার ভক্তদের মনে এখন একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে, কেমন করবেন অধিনায়ক রিয়াদ?

এর আগে টেস্ট দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজ ‘দলকে নেতৃত্ব দেয়া সব খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। হঠাৎ পাওয়া সুযোগটা এখন কাজে লাগাতে চান তিনি, ‘(অধিনায়কত্ব) যেভাবে পেয়েছি, সেভাবে পেতে চাইনি। সাকিব আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। ওকে হারানোটা আমাদের দলের জন্য একটা বিপর্যয়ই বলতে হবে। ও টপ ক্লাস খেলোয়াড়। ওকে না পাওয়াটা দলের জন্য ক্ষতিকর দিক। তারপরও দিন শেষে সবাই আমরা বাংলাদেশ দলকে প্রতিনিধিত্ব করছি। সবার জন্যই একটা সুযোগ, বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করা। সেদিক দিয়ে আমরা সবাই উজ্জীবিত।’

সাকিবের জন্য দুঃখবোধ থাকলেও সেটি খেলার মধ্যে নিতে চান না। মনে-প্রাণেই প্রতিজ্ঞা করে রেখেছেন শ্রীলঙ্কাকে এক বিন্দুও ছাড় না দেয়ার। মাহমুদউল্লাহর ভাষায়, ‘আমি যখন আমার নিজের কাজে থাকব, তখন কোনো কিছুতেই ছাড় দেব না। যেভাবেই হোক দলকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করব। সেটি শক্তভাবেই হোক কিংবা যেভাবেই হোক। সবদিক দিয়েই চেষ্টা করব। প্রথম কথা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। বাংলাদেশকে ভালো কিছু দিতে হবে। এটাই আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কত্বের মূলমন্ত্র ‘মাথা ঠান্ডা রাখা’। নিজের কাজের সুবিধার জন্যই এমনটা জরুরি বলে অভিমত তার, ‘আমার মনে হয়, অধিনায়কত্বের বড় একটা কাজ হচ্ছে মাঠের মধ্যে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আপনি যদি মাথা ঠান্ডা না রাখতে পারেন, তাহলে সেটা কঠিন হয়ে যাবে। মাথা ঠান্ডা না রাখলে সিদ্ধান্ত এদিক-সেদিক হয়ে যেতে পারে। আমি ঘরোয়া ক্রিকেটেও যখন অধিনায়কত্ব করি, তখন মাথা ঠান্ডা রাখি।’

এবার আংশিক নয় পুরো দায়িত্বই উঠছে তার কাঁধে, পূরণ হতে চলেছে স্বপ্ন। নিজেকে উজাড় করে দেয়ার আরও একটি উপলক্ষ তার সামনে। এমনিতে রিয়াদের পেশাদারিত্ব নিয়ে সংশয় নেই কারও। তাছাড়া দলের খেলোয়াড়দের ভেতর থেকে সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনতে বেশ দক্ষ বিপিএলের খুলান টাইটানস দলের এই অধিনায়ক।

সাকিব আল হাসান

স্বল্প পরিসরের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে বেশ সফল মাহমুদুল্লাহ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) একাধিকবার নেতৃত্বের কারণে হয়েছেন প্রশংসিত। এই আসরে মাশরাফি বিন মর্তুজার পর সবচেয়ে সফল অধিনায়ক তাকেই মনে করা হয়।

একদিনের ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আয়োজন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশনেও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে মাহমুদুল্লাহ। ২০১৩/১৪ মৌসুমে গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স এবং ২০১৪/১৫ মৌসুমে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে দুইবার চ্যাম্পিয়ন ও হয়েছেন মাহমুদুল্লাহ! মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ে আস্থার প্রতীক হয়ে একবার পেয়েছিলেন জাতীয় দলের সহকারীর দায়িত্ব। যদিও ফর্মে মন্দা দশা মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখিয়ে দেয় তাঁকে। সহ-অধিনায়ক হয়েও সেবার এশিয়া কাপের দল থেকে বাদ পড়ে যান ফর্মহীনতায়।

ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় বাংলাদেশের সাফল্যগুলোয় তিনি থেকে গেছেন পার্শ্ব চরিত্র হিসেবে। জিতে যাওয়া ম্যাচে তাঁর নিরীহ মেজাজের কিন্তু কার্যকর ইনিংসগুলো সামনে আসে নি। কিন্তু এগুলো রিয়াদের খেলায় বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং বিপিএলের গত কয়েকটি আসরে দেখা গেছে অধিনায়ক হিসেবে যেন আরও ধীর, স্থির আর শান্ত হয়ে যান রিয়াদ। নেতৃত্বের চাপ তাঁর ব্যাটে ফাটল ধরাতে পারে নি। বরং নেতৃত্বের দায়িত্ববোধ তাঁকে করেছে আরও বেশি পরিণত।

rajjak

তাই প্রথম টেস্টে তাঁর নেতৃত্বে ভালো করার অপেক্ষায় রয়েছে টিম বাংলাদেশ। পার্শ্ব চরিত্র থেকে এবার কেন্দ্রীয় চরিত্র হতে চলেছেন রিয়াদ, তাঁর ভক্তদের এমনটাই আশা।

সাকিব আল হাসান মানেই বাংলাদেশের দুই দিক ধরার তরী। বোলিং ও ব্যাটিং। সে না থাকা মানে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান ও একজন বিশেষজ্ঞ বোলার না থাকা। তাই তার ছিটকে যাওয়ায় দলে নতুন করে সুযোগ পেয়েছেন সানজামুল ইসলাম ও তানবীর হায়দার। স্পিন শক্তি বাড়াতে ডাকা হয় আব্দুর রাজ্জাককে। ফলে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর টেস্ট দলে ফিরলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ ২০১৪ সালে নিজের সর্বশেষ টেস্ট খেলা রাজ্জাক পুনরায় দলে ডাক পাওয়াকে যথার্থ প্রমাণে মরিয়া, নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণে দঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে আগে থেকেই আছেন আরও তিনজন বিশেষজ্ঞ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান।

চট্টগ্রামে সিরিজের প্রথম প্রথম টেস্ট শুরু হবে আগামীকাল বুধবার। চলবে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট হবে ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি। এর পর হবে দুটি টি-টোয়েন্টি। ১৫ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে ঢাকা ও সিলেটে।

প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দল : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (সহ-অধিনায়ক) তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, রুবেল হোসেন, নাঈম হাসান, সানজামুল ইসলাম এবং তানবীর হায়দার।

এসএম / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে