আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > ঝিনাইদহে জঙ্গি অভিযান, নিহত ২

ঝিনাইদহে জঙ্গি অভিযান, নিহত ২

১৮ : ৪৪, ৭ মে, ২০১৭

police20170507101746

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক
সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ঝিনাইদহের মহেশপুরের বজরাপুর এলাকায় জঙ্গি আস্তানা অভিযান ‘অপারেশন সাউথ পউ’ (Operation South Paw)। জঙ্গি শামীমকে গ্রেফতারের পরই পুলিশ নব্য জেএমবির এ আস্তানার খবর পায় বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম।
রবিবার বেলা ৪টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টাওে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জঙ্গি শামীম মহেশপুর আস্তানার খবর দেয়। তার তথ্য অনুযায়ী রবিবার ভোরে সেখানে অভিযান চালায় সিটিটিসি। শামীম নব্য জেএমবির সদস্য। হলি আর্টিজানের হামলাকারী নিব্রাশসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গি ঝিনাইদহে অবস্থানকালে তাদের থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতো শামীম। সে জেএমবির সদস্য ছিল পরে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয়।’

b59266d35a2c0a1d1d7cdb46e67428ba-5797c73002c11
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘৫ মে শামীমকে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেফতার করে ঢাকায় আনা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ ভোরে সিটিটিসি ঝিনাইদহে ওই আস্তানায় অভিযান চালায়। মহেশপুর থানার ওসি আহমেদ কবিরসহ কয়েকজন ওই আস্তানায় ঢুকলে সুইসাইডাল ভেস্ট পরা এক জঙ্গি তাকে জাপটে ধরে। ওই সময় জঙ্গিকে লাথি মেরে সরিয়ে বের হয়ে আসেন ওসি। এরপরই গোলাগুলি শুরু হয়। এ সময় এক জঙ্গি আত্মঘাতী হয় এবং আরেক জঙ্গি গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেও মারা যায়। জঙ্গিদের ঘটানো বিস্ফোরণে সিটিটিসির এক কর্মকর্তাসহ পুলিশের তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।’
নিহত ও গ্রেফতারের ব্যাপাওে তার ভ্যাষ্য, ‘এই অভিযানে দুই জঙ্গি মারা গেছে। বাড়িওয়ালা জহুরুল ইসলাম ও তার ছেলে জসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
এর আগে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদও সাংবাদিকদের একই ধরনের তথ্য দেন।
উল্লেখ্য, রবিবার সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলায় একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের সদস্যরা। অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন সাউথ প’ বা দক্ষিণের থাবা। প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অভিযানে ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরি রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। বাড়ির ভেতর থেকে ১৫টি জিহাদি বইও উদ্ধার করা হয়েছে।

police020170507102352
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ৩০ জন এবং খুলনা রেঞ্জের পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), র্যা বসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৪০০ সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন।
অপারেশন ‘সাউথ প’ (দক্ষিণে থাবা) সমাপ্ত ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ জানান, বাড়িটিকে জঙ্গিদের বোমা তৈরির কারখানা বলা যেতে পারে। এই বাড়িতে তিন-চার জন জঙ্গি ছিল। তারা আগেই পালিয়ে গেছে। এই জঙ্গিদের সবাই জেএমবি ও নব্য জেএমবির সদস্য। এই বাড়িতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিভাগীয় পর্যায়ের লোকজন আসা যাওয়া করতো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে