আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > চট্টগ্রাম > মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন!

মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন!

প্রত্যাবাসনে নতুন জটিলতা, এখনই ফিরছেনা রোহিঙ্গারা

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে না। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যকার স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী তা মঙ্গলবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় আয়োজন অসম্পূর্ণ থাকায় তা শুরু হচ্ছে নানা বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম। তবে শিগগিরি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসন

তিনি বলেন, তারা প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, তবে প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু হতে আরও সময় লাগবে। তবে ঠিক কবে নাগাদ রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো শুরু হবে সে ব্যাপারেও তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি আবুল কালাম।

তিনি বলেন, “যাদের ফেরত পাঠানো হবে তাদের তালিকা তৈরি হয়নি। ভেরিফিকেশন ও ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপনের কাজও বাকি রয়েছে।”

আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা যদি প্রত্যাবাসন কে একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি তা হলে একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা যে, কোন নীতির ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে, দ্বিতীয় হলো কাঠামোগত প্রস্তুতি ও তৃতীয় হলো শারীরিক বা মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু করা।

এদিকে, নিজ দেশে ফিরে যাবার আগে নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা চেয়েছে রোহিঙ্গারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ফিরে যেতে রাজি নয় তারা।

Rohynga

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন -আর আর সি’র তথ্যানুয়ায়ি গেলো ২৫ আগষ্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫শ রোহিঙ্গা।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের নেপিদোয় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবস্থাপত্র সই করে মিয়ানমার। ওই ব্যবস্থাপত্র সইয়ের দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শুরুর কথা ছিল। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্যে গত ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় এক বৈঠকে দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে প্রত্যেক দেশের ১৫ জন করে সদস্য নিয়ে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করা হয়। গত ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি নেপিদোয় জেডব্লিউজির প্রথম বৈঠকে মাঠপর্যায়ে প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট করে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ নামে দু’দেশের মধ্যে আরও একটি ব্যবস্থাপত্র সই হয়।rohingya

এরপর ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কারিগরি কমিটির আহবায়ক ও কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম। তিনি জানান, এখনো অনেক কাজ বাকি থাকায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে দেরি হচ্ছে।

এদিকে, নিজ দেশে ফিরে যাবার আগে নিরাপত্তা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা চেয়েছ রোহিঙ্গারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে যেতে রাজি নয় তারা।

অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে তৃতীয়দিনের মতো উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত ইয়াং হি লি। এসময় রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন তিনি।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে