আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > লাইফ-স্টাইল > পিঠে পুলির ‘সাগরানা’

পিঠে পুলির ‘সাগরানা’

 সাগরানা

ছদমা আক্তার:

পৌষ মাসের শেষদিনটিকে পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি বলা হয়। সূর্য ধনু রাশি থেকে এদিন মকর রাশিতে প্রবেশ করে তাই এই নাম। সূর্যের গতি দুই প্রকার, উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়ণ। মাঘ মাসে সূর্য উত্তরায়ণে প্রবেশ করে এবং আষাঢ় পর্যন্ত থাকে, বাকি ছ’মাস দক্ষিণায়ণে থাকে। মাঘে সূর্যের উত্তরায়ণে প্রবেশ এটা মনে হয় পূরাণের মত, কারণ উত্তরায়ণে প্রবেশের পর থেকে দিন বড় হতে থাকে এবং রাত ছোট, কিন্তু দিন বড় হওয়া তো ডিসেম্বরের ২১ তারিখ থেকেই শুরু হয়ে যায়। আরও একটা খটকা, আর সাতদিন পরেই তো কুম্ভ রাশি শুরু হবে এবং একটা রাশির সময়কাল এক মাস, তবে সূর্য কিভাবে মকরে প্রবেশ করে?? আমি এর উত্তর জানিনে,আপনারা কেউ জানেন?

আচ্ছা এসব খটোমটো বিষয় থাক, আমরা বরং আমাদের ঐতিহ্যে ফিরি। মকর সংক্রান্তি বাঙালিদের জন্য একটি বিশেষ পার্বণ, আর বাঙালিদের উৎসব মানেই খাওয়া-দাওয়া। শীতের দিন বলে পিঠেটাই তাই বোধহয় খাওয়া হয়,সাথে চলে দিনে ঘুড়ি উড়ানো। আমি যেহেতু বাঙালি তাই স্বাভাবিকভাবে খাবারের ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব থাকবে এবং পিঠে হলে তো কথাই নেই। আরও একটা ব্যাপার,আমার বাড়ি বরিশাল এবং পিঠের জন্য বরিশালের (অন্য রান্নার জন্যও অবশ্য) সুনাম রয়েছে। সুতরাং পক্ষপাত একটু বেশিই।

বরিশালের একটা ঐতিহ্য হলো বিয়ের সময় বড় থালায় করে বিভিন্ন ধরণ ও নকশার, (কখনো কখনো তা ১০০ ছাড়িয়ে যেত), শুকনো পিঠে জামাইয়ের সামনে দেয়া হয়। একে ” সাগরানা” বলে। ছোট বেলায় দেখতাম বিয়ের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই পিঠে বানানো শুরু হত। টিন নামক একধরণের পাত্র পাওয়া যেত (এখন আর দেখি না), অন্য সময়ে মুড়ি রাখা হত বলে মুড়ির টিন বলা হত,তাতে সেই পিঠা সংরক্ষণ করা হত। এই সাগরানার লোভে অনেকে আগে বরিশালে বিয়ে করতে চাইত। এখন এসব কষ্টকর ব্যাপার প্রায় উঠেই গেছে,তার জায়গা দখল করেছে নাচ-গানের অনুষ্ঠান। পিঠে এখন শুধুমাত্র হলুদের দিন বর বউয়ের সামনের টেবিলের শোভা বাড়ানোর জন্যই করা হয়। আমাদের ঐতিহ্যগুলো আমরা ভুলতে বসেছি, হায় আফসোস!!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে