আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > টানা জয়ের পর পরাজয়ের মুখ দেখলো যুবারা

টানা জয়ের পর পরাজয়ের মুখ দেখলো যুবারা

টানা দুই জয়ের পর পরাজয়ের মুখ দেখলো যুবারা

প্রতিচ্ছবি ক্রীড়া ডেস্ক:

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান হয়ে ওঠা হলো না যুবাদের। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে টানা দুই জয়ের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারলো বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডে যুব বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটে হারলো বাংলাদেশ যুবদল। আজ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিংটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিলো।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ যুবদলের অধিনায়ক সাইফ হাসান। কিন্তু ৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় দল। সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪৯.২ ওভারে ১৭৫ রান করে যুব টাইগারা।

ইংল্যান্ড এই সল্প পুঁজি তারা করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৯ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পরে তবে ব্রুকের ৮৪ বলে ১০২ ও উডসের ৫৭ বলে ৪৮ রানের ঝড়ো ইনিংসে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারালো ইংল্যান্ড। কিন্তু এ ম্যাচের আগেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।

এর আগে, প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুভ সূচনা করে পিনাক ঘোষ। চার দিয়ে ইনিংস শুরু করে দারুণ কিছু করার আভাষ দিচ্ছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয় ওভারে লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের ফলে সেই স্বপ্ন ভেস্তে যায়। দলীয় ৬ রানে প্রথম উইকেট হারায় যুব টাইগাররা।

এরপর ক্রিজে এসে জ্বলে উঠতে পারেননি অধিনায়ক সাইফ হাসান। স্লিপে একবার ক্যাচ দিয়ে জীবন ফিরে পেলেও বড় করতে পারেনি ইনিংস। ২.৩ ওভারে ৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পরে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে অফস্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে ইথান ব্যাম্বারের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়ে মাঠ ছাড়েন নাইম শেখ।

তখন এ চাপের সময় আগের ম্যাচে বাংলাদেশকে লড়াকু পুঁজির ভিত গড়ে দেওয়া দুই ব্যাটসম্যান তৌহিদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন ধ্রুব যোগ দেন ক্রিজে।

দলের বিপর্যয়ে দেখে শুনে খেলে রান বের করতে চেষ্টার সর্বোচ্চটা করতে থাকেন এই দুই ব্যাটসম্যান। এমতাবস্থায় আবারও আম্পায়ারের ভুল শিকারের খেসারত দিতে হয় যুব টাইগারদের।

দলীয় ২৭ রানে স্পর্ষ্টভাবে ব্যাটে লেগে হৃদয়ের প্যাডে আঘাত হানে বল তবে আঙ্গুল উঁচু করে আউটের সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়ার।

২৭ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে এরপরে লড়ে যান আফিফ ও বিপ্লব। পঞ্চম উইকেট জুটিতে মূল্যবান ৯৪ রান যোগ করেন তারা।

আফিফ ৬০ বল খেলে আসরে টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন। দলের রানের চাকা সচল রেখে খেলতে থাকেন। ইনিংসের ৩২তম ওভারে এসে বিপ্লবকে ফেরান উড। সেই ওভারেই ৬৩ রান করে আফিফ আউট হলে ছয় বলের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে আবারো চাপে পরে বাংলাদেশ।

এরপর ইনিংসের শেষ দিকে নমব উইকেট জুটিতে হাসান মাহমুদ ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ৩১ রানের জুটিতে ৪৯.২ ওভারে অল-আউট হওয়ার আগে ১৭৫ রানের রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। মাহিদুলের ব্যাট থেকে আসে ২০ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা স্বস্তিতে ছিলো না ইংলিশরা। মাত্র ৪৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন অধিনায়ক ব্রু ও উডস। ব্রু ১০২ ও  উডস ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: সাত উইকেটে জয়ী ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ইনিংস: ১৭৫ (৪৯.২ ওভার)

(পিনাক ঘোষ ৪, মোহাম্মদ নাঈম ১, সাইফ হাসান ১, তৌহিদ হৃদয় ১২, আফিফ হোসেন ৬৩, আমিনুল ইসলাম ৩১, মহিদুল ইসলাম অঙ্কন ২০, নাঈম হাসান ১, কাজী অনিক ৮, হাসান মাহমুদ ২৩, টিপু সুলতান ০*; এথান বাম্বার ৩/১৯, ডিলন পেনিংটন ১/২৬, টম স্ক্রিভেন ১/২৯, হ্যারি ব্রুক ০/৯, উইল জ্যাকস ০/২৫, লুক হলম্যান ১/৩৬, ইউয়ান উডস ৩/২৬)।

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ ইনিংস: ১৭৭/৩ (২৯.৩ ওভার)

(সাভিন পেরেরা ৭, টম ব্যান্টন ৯, হ্যারি ব্রুক ১০২*, উইল জ্যাকস ৮, ইউয়ান উডস ৪৮*; হাসান মাহমুদ ১/২৭, কাজী অনিক ১/১৯, নাঈম হাসান ১/৩৬, টিপু সুলতান ০/৪২, আফিফ হোসেন ০/৩৫, সাইফ হাসান ০/১৩, তৌহিদ হৃদয় ০/৫)।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে