আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > লাইফ-স্টাইল > ইতিহাস ঐতিহ্যে দর্শনীয় স্থান

ইতিহাস ঐতিহ্যে দর্শনীয় স্থান

srimangal-overnight-tour-cover-600x338অসমিত অভি:

ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল। অজানা অনেক প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে দূর্লভ কিছু স্থাপনা। ঈদের ছুটিতে সিলেটে ঘুরতে গেলে শুধু চা বাগান কিংবা জলপ্রপাত না দেখে আরো ঘুরে আসতে পারেন দর্শনীয় এই স্থানগুলো।

নিম্মাই শিববাড়ি: 

আজ থেকে প্রায় ৫৫৩ বছর আগে ১৪৫৪ খ্রিস্টাব্দে শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা পরগনার শংকরসেনা গ্রামে নিম্মাই শিববাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দিতে বালিশিরা অঞ্চলের ত্রিপুরার মহারাজা রাজত্ব করতেন। প্রবল শক্তিশালী এ রাজার বিরুদ্ধে কুকি সামন্ত রাজা প্রায়ই বিদ্রোহ ঘোষণা করতেন। এরকম কোনো একদিন কুকি রাজার বিদ্রোহের সংবাদ পেয়ে মহারাজা একদল সৈন্য পাঠান বিদ্রোহ দমনের জন্য। তুমুল এ যুদ্ধে কুকি রাজা পরাজিত হলেও মহারাজার প্রধান সেনাপতি রণক্ষেত্রে নিহত হন। বিয়ের অল্প ক’বছরের মধ্যেই স্বামীহারা হন মহারাজার কন্যা নিম্মাই। তখনকার দিনে ভারতবর্ষে সহমরণ প্রথা চালু ছিল। কিন্তু রাজকন্যা সহমরণে রাজি না হয়ে স্বামী নিহত হওয়ার স্থানে এসে শিবের আরাধনা শুরু করেন এবং সিদ্ধিও লাভ করেন। তার নামেই শিববাড়ির নামকরণ করা হয় নিম্মাই শিববাড়ি। ঐতিহাসিক এই স্থানটি ধর্মীয় পৌরাণিক কাহিনী, সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আচার-আচরণে একটি অন্যতম তীর্থস্থানের মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত।

94300524যেভাবে যাবেন:

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে যেতে পারেন। ভাড়া নিবে জনপ্রতি ২৫-৩০ টাকা।

মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি:

মাগুরছড়ায় রয়েছে খাসিয়াপুঞ্জি। উঁচু পাহাড়ের ওপর বিশেষভাবে নির্মিত তাদের আবাস। খাসিয়া সম্প্রদায় গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বাস করে এখানে। প্রতিটি পুঞ্জিতে একজন করে মন্ত্রী (খাসিয়াদের হেডম্যান) থাকেন। তার অনুমতি নিয়ে পুঞ্জি এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু পান গাছের সারি চোখে পড়বে। সারি সারি উঁচু পাহাড়ি গাছগাছালি পরম মমতায় পানের লতাকে বুকে ধারণ করে আছে, যা অন্যরকম এক সৌন্দর্য। খাসিয়াপুঞ্জি ভ্রমণ করে আপনি সহজেই খাসিয়াদের স্বতন্ত্র এবং বিচিত্র জীবনধারা, কৃষ্টি, সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।

4278379146_9e0f4f870a_bযেভাবে যাবেনঃ শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে যেতে পারেন। ভাড়া নিবে ২০-৩০ টাকা।

মাগুরছাড়া পরিত্যক্ত গ্যাসকূপ:

১৯৯৭ সালের ১৪ জুন গভীর রাতে এ গ্যাসকূপে ড্রিলিংয়ের সময় অগ্নিবিস্ফোরণে আশপাশের খাসিয়াপুঞ্জি, চা বাগান, রেললাইন, সবুজ বনাঞ্চল সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই গ্যাসকূপটি এখন পরিত্যক্ত এবং সংরক্ষিত এলাকা। চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া। ৭ বছর ধরে এ এলাকাটিতে পুনরায় সজিবতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বন বিভাগ। আগুনে পোড়া গাছগুলো এখনো কালের সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে মাগুরছড়ায়। শ্রীমঙ্গল থেকে সড়কপথে এখানে আসতে নয়ন ভোলানো প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।

thumbnail_140392623852263530_52088900_9398যেভাবে যাবেনঃ শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে যেতে পারেন। ভাড়া নিবে ২০-৩০ টাকা।

জলপ্রপাত যজ্ঞকুঞ্জের ধারা:

শ্রীমঙ্গলের একমাত্র জলপ্রপাত যজ্ঞকুঞ্জের ধারা। এটি জাগছড়া চা বাগান এলাকায় অবস্থিত। জলপ্রপাত দেখতে আপনি শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মৌলভীবাজার রোড হয়ে কাকিয়া নেমে ডান দিকে জাগছড়া চা বাগান চলে যাবেন। অথবা শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ভাড়াউড়া চা বাগান হয়ে কাঁচা রাস্তায় জাগছড়া চা বাগানে কাউকে জিজ্ঞেস করে চলে যাবেন জাগছড়ার ১৪ নং সেকশনে। সেখানে চোখে পড়বে একটি ব্রিজ। ব্রিজের ডান পাশ দিয়ে ছড়ার পাড় ধরে একটু সামনে এগিয়ে গেলেই শুনতে পাবেন শোঁ শোঁ শব্দ। জনশ্রুতি রয়েছে- শ্রীমঙ্গলের কালাপুরে প্রাচীন বেলতলীতে দেবস্থান নির্মাণ করেন তৎকালীন রাজা। দেবস্থান নির্মাণকালে বিরাট যজ্ঞস্থানকে পরিষ্কার করে যে পয়ঃপ্রণালি সৃষ্টি হয়েছিল সেটাই জলপ্রপাতের আকার ধারণ করে, যা আজো যজ্ঞধারা বা যজ্ঞছড়া নামে কথিত রয়েছে।

15898252কোথায় থাকবেন: কোলাহল মুক্ত পরিবেশে থাকতে চাইলে উঠতে পারেন চা বাগানের ভিতর বিটিআরআই রেস্ট হাউজ অথবা টি রিসোর্টে। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরতলীতে চা বাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো রেস্ট হাউজ ও আবাসিক হোটেল। এখানে সিঙ্গেল, কাপল, গ্রুপ সব ধরণের রুম পাবেন। ভাড়া ৫০০০-১২,০০০ টাকা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে