আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

বাম দিক থেকে সোনালী ব্যাংক, রূপালি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করেছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় গভর্নর ফজলে কবিরের আহ্বানে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জরুরি বৈঠকে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের দায়িত্বে থাকা এবং ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীগণ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

নিয়োগ পরীখা বাতিল হওয়া আটটি ব্যাংক হলো- সোনালী ব্যাংক, রূপালি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আট ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার, অফিসার ও ক্যাশ অফিসার পদে নিয়োগের এই সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগকে। এক ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের এই এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে পৌনে ১১ লাখ প্রার্থীর মধ্যে থেকে আটটি ব্যাংকের মোট সাত হাজার ৩৭২টি শূন্য পদে কর্মকর্তা নিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু এমসিকিউ পরীক্ষার দিন রাজধানীর মিরপুরে শাহ আলী মহিলা কলেজে পাঁচ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থীর বসার পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। ফলে শত শত পরীক্ষার্থীকে বসার জায়গা দিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা কলেজটির জানালা-দরজা ভাঙচুর করে। বাধ্য হয়ে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে ২০ জানুয়ারি শুধু ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দেয়।

এই পাঁচ হাজার ৬০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক হাজার ৬০০ জনের পরীক্ষা মিরপুরে শাহ আলী মহিলা কলেজে এবং ৪০০০ জনের পরীক্ষা মিরপুর বাংলা কলেজে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর ১২ জানুয়ারির পুরো পরীক্ষা বাতিলসহ নয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে পরীক্ষার্থীরা।

গত সোমবার আন্দোলনরত অবস্থায় দৈনিক বাংলা মোড় থেকে দুজন চাকরি প্রার্থীকে পুলিশ আটক করে। এরপর দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, আটককৃতদের ১২ ঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেয়াসহ ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল না করলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবে।

পরীক্ষায় সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে আলোচনা করতে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি এবং ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে আজ বৈঠকে বসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বৈঠকে আগের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে