আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > এবার মাদ্রাসা শিক্ষকদের আমরণ অনশনের ঘোষণা

এবার মাদ্রাসা শিক্ষকদের আমরণ অনশনের ঘোষণা

মাদ্রাসা শিক্ষকদের আমরণ অনশনের ঘোষণা

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

নিবন্ধন পাওয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশন পালনের ঘোষণা দিল বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতি। দাবি পূরণের লক্ষে গত আট দিন ধরে ধর্মঘট পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে আমরণ অনশনে ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির পর আমরণ অনশনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এমপিওভুক্তির আশ্বাস নিয়ে ঘরে ফেরেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীরা।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির অবস্থান ধর্মঘট [১]

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ছাড়া আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আমরা প্রাণ দেবো তবু আন্দোলন থামাবো না। আর তাই আজ থেকে আমরণ অনশন শুরু করব।

এর আগে রবিবার বেলা একটার দিকে সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের নতুন প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীকে স্মারকলিপি দেন। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, ১৯৯৪ সালে জারি হওয়া একটি পরিপত্রে রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে বিগত সরকারগুলোর আমলে ধাপে ধাপে বেতন বাড়তে থাকে। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো বেতন বাড়েনি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির অবস্থান ধর্মঘট [২]

২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি বর্তমান মহাজোট সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করে। কিন্তু ইবতেদায়ী মাদ্রাসাতেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি একই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সরকারের সব কাজে অংশগ্রহণ করে। অথচ মাস শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ২৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পায়। কিন্তু ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা তেমন কোনও বেতন ভাতা পান না। তবুও তারা শিক্ষকতা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাত্র ১৫১৯টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ২৫০০ টাকা, সহকারী শিক্ষক ২৩০০ টাকা ভাতা পান। বাকি মাদ্রাসা শিক্ষকরা এত বছর ধরে বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত। এটা অমানবিক এবং শিক্ষকদের অবমাননা ছাড়া কিছুই না।

সারা দেশে নিবন্ধিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ১৮ হাজার ১৯৪টি হলেও চালু আছে ১০ হাজারের মতো। এসব মাদ্রাসায় শিক্ষক আছেন প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার ৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষক সরকার থেকে কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকেরা মাসে আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকেরা পান ২ হাজার ৩০০ টাকা। অন্যরা সরকার থেকে কোনো বেতন-ভাতা পান না।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে