আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > ময়মনসিংহ > জয়নুলের ১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে নানা আয়োজন

জয়নুলের ১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে নানা আয়োজন

জয়নুলের ১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে নানা আয়োজন

প্রতিচ্ছবি ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

জয়নুল আবেদীনের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা সভা, জয়নুল শিশু চারুপীঠের শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন, লোকমেলা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর সভাপতি শিল্পী হাশেম খান। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন- “জয়নুল মাটি, মানুষ, গাছপালা, নদীর ছবি বেশী আঁকতেন। যখন কোন বাড়ীতে পিঠা বানানো হতো তিনি তখন সেগুলোর নকশা নিয়ে আসতেন কারণ তিনি শিল্পকলাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি ছবি এঁকে বিশ্বব্যাপি পরিচিতি লাভ করেন”।

অন্যরা বলেন, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের ছবি তিনিই আঁকেন যা সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের যে নকশা তার স্বপ্ন দেখেছিলেন শিল্পাচার্য। আপনারা শিশুদের শিল্পকলা সংক্রান্ত অনুষ্ঠানগুলিতে নিয়ে আসবেন, কারণ তাঁরা শিল্পকলা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে রুচিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। আমি অনুরোধ করব আপনাদের মধ্যে যে শিল্পসত্ত্বা রয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে। ময়মনসিংহ শহরের জেলার যে ব্যান্ডিং করা হয়েছে তার লোগোতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ও কবি কাজী নজরুল ইসলামের ছবি রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সুনির্দেশনায় এবং সম্মানিত অতিথিদের আন্তরিক সহযোগিতায় আজকের এই অনুষ্ঠান স্বার্থক হয়েছে।

জয়নুল আবেদীনের জীবন ও কর্মের উপর বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ

এছাড়া ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যানের মাঝে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর মাননীয় সদস্য স্থপতি রবিউল হুসাইন, শিল্প ও সহায়ক কেন্দ্র, বিসিক এর উপ-মহাব্যবস্থাপক জনাব নীহার রঞ্জন দাস, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাঙলা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর আফজাল রহমান এবং আলোকচিত্র শিল্পী জনাব এম এ তাহের। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগ্রহশালার উপ-কীপার জনাব মুকুল দত্ত। এছাড়াও ময়মনসিংহের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ ও শিশু শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে বিভিন্ন সময়ে সংগ্রহশালায় আয়োজিত ০৪ (চার)টি প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোরদের মোট ৫৪ (চুয়ান্ন) টি পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ। শিল্পী হাশেম খান শিশু-কিশোরদের সাথে নিয়ে একটি চিত্রকর্ম অংকন করেন। যা আগত অতিথি ও শিশুদের ব্যাপক আনন্দ দেয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ জয়নুল শিশু চারুপীঠের শিক্ষার্থীদের ০৭ (সাত) দিনব্যাপি চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। যা আগামী ০৪ জানুয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০:৩০টা থেকে সন্ধ্যা ৫:৩০টা পর্যন্ত এবং ২১ ডিসেম্বর ২০১৭খ্রি. থেকে শুরু হওয়া লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭খ্রি. পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০:০০টা থেকে রাত ৮:০০টা পর্যন্ত চলবে। পরে শিশুদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা/ই এ/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে