আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খুলনা > আগামী নির্বাচনেও নৌকার পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আগামী নির্বাচনেও নৌকার পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

যশোরের কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শেখ হাসিনা

প্রতিচ্ছবি যশোর প্রতিনিধি:

বিগত নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘অতীতের মতো আগামী নির্বাচনেও নৌকার পাশে থাকুন। আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছি, আগামীতেও করবো।’

আজ রবিবার বিকেলে যশোরের কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির  বক্তৃতাকালে তিনি এ আহ্বান জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতি আহ্বান, আবারও আমাদের নৌকায় ভোট দেবেন, সেটাই আপনাদের কাছে আমি চাই। নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে সেবা করার সুযোগ দেবেন।

এসময় জনসভায় অংশ নেওয়া জনতাকে হাত তুলে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার সাড়া দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। জবাবে জনতাও একযোগে হাত তুলে সাড়া দেন আওয়ামী লীগ সভাপতিকে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দুই ছেলে দেশের মানুষের টাকা মেরে বিদেশে পাচার করেছে। ধরা পড়েছে আমেরিকায়, সিঙ্গাপুরে। এটা শুধু আমরা বলি না। আমেরিকার সংস্থার লোক এসে সাক্ষী দিয়ে যায়। আমরা সেই টাকা ফেরত এনে জনগণের উন্নয়নে কাজ করছি।

‘তাদের মা-ও কম যায় না। এতিমের জন্য টাকা এসেছে বিদেশ থেকে, সেগুলোও মেরে খেয়েছেন। যারা এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে। লুটপাট-দুর্নীতি করেছে, তারা আবার কোন মুখে কথা বলে?’

বিএনপির বিগত দিনের আন্দোলনে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে ৫৮২টি স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছিল তারা। প্রিসাইডিং অফিসারদের হত্যা করেছিল। ২৭ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করেছে।

খালেদা জিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ৯২ দিন অফিসে বসে থাকলো, সরকার উৎখাত না করে নাকি ঘরে ফিরবে না। তার নির্দেশে জ্বালাও-পোড়াও কর্মকাণ্ডে মানুষ পুড়ে মারা গেছে। ট্রাক-বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা, এটা কোন ধরনের রাজনীতি- আমি বুঝি না। এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ যারা করে, তারা মানুষের কল্যাণে কিভাবে কাজ করবে?

জনসভা মঞ্চে পৌঁছেই যশোরের উন্নয়নে ১৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১২টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তৃতায় এ প্রকল্পগুলোর কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এসময় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন জনতার উদ্দেশে।

বলেন, কেবল আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশ এগিয়ে যায়। আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছি। ৮৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ পেছন দিকে চলে যায়। তারা অদ্ভূতভাবে ক্ষমতায় আসে, ভুতের মতো দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যায়। আমরা রাস্তা বানাই, তারা কেটে ফেলে। আমরা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বাড়াই, তারা কমিয়ে ফেলে। আমরা উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও শান্তি চাই। তারা দুর্নীতি, খুন ও লুটপাটের রাজনীতি করে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক অভিযোগ তুললো পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যাপারে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। আমি জাতির পিতার কন্যা। দুর্নীতি করতে ক্ষমতায় আসিনি। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এসেছি। কোনো দুর্নীতি হয়নি। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রমাণ করতে পারিনি। ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজেদের টাকায় পদ্মা করবো। ইনশাল্লাহ আমরা এখন পদ্মা সেতু গড়ে তুলছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনককে হত্যার পর এ দেশ পরিণত হয়েছিল হত্যা, ক্যু, কারফিউর দেশ। লুটপাটের রাজত্বে কায়েম করা হয়েছিলো এ দেশে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা কারফিউ জারি করে দেশ চালাতো। জিয়া কারফিউ দিয়ে ভীতিকর পরিবেশে দেশ চালাতেন।’

‘জিয়ার গণতন্ত্র ছিলো যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে। যে যুদ্ধাপরাধীরা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, এ দেশের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করেছে, পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছে, নৃশংসভাবে গণহত্যা চালিয়েছে, সেই যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করে পুরস্কৃত করাটা ছিল জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র।’

২১ বছর পর এভাবে দেশ চালানো হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসি। এরপর দেশের উন্নয়ন কাজ শুরু করি। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফের লুটপাট শুরু করে। তারা বাংলা ভাই-জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশে কোনো রক্তপাত দেখতে চাই না। আমরা চাই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। একসময় জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল তারা। ৭ মার্চের ভাষণ পর্যন্ত বাজাতে দেয়নি। অথচ এই ভাষণকে বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে সম্মান দেওয়া হয়েছে। আজকে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদা পেয়েছে।

সকালে হেলিকপ্টারযোগে প্রধানমন্ত্রী যশোরে পৌঁছান। সেখানে তিনি অংশ নেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে। এরপর মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে যান।

দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে যশোর জেলা শহরে দলীয় জনসভা করলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যদিও, তিন বছর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় নির্বাচনের পরে অভয়নগরের মালোপাড়ায় নির্যাতিতদের দেখতে ওই মাসের ২৩ তারিখ প্রধানমন্ত্রী যশোরে আসেন।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে