আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > ২০১৭: বিক্ষোভ প্রতিবাদের বিশ্বে আইএস পতনের স্বস্তি 

২০১৭: বিক্ষোভ প্রতিবাদের বিশ্বে আইএস পতনের স্বস্তি 

২০১৭: বিক্ষোভ প্রতিবাদের বিশ্বে আইএস পতনের স্বস্তি 

আহমেদ এফ রুমী:

বছরের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরয়েলের রাজধানী হিসবে স্বীকৃতি দেয়ায় দেশে দেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভের ঝড় ওঠে। এর আগে ইরাক সিরিয়ায় আইএস পতনে স্বস্তি পেয়েছে বিশ্ববাসী। সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপেছে বহু দেশ। বিশ্ব দেখেছে ট্রম্প ও উত্তর কোরিয় নেতা কিম জং উনের যুদ্ধাংদেহী চেহারা। রুশ-ট্রাম্প আতাতের বিতর্ক ছিলো বছর জুড়ে।

হঠাৎ করেই জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিকে উত্তপ্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু প্যালেস্টাইনিরাই নন, প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে গোটা বিশ্ব। এক পর্যায়ে ট্রাম্পের বিপক্ষে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সেৌদি আরব।

বিতর্ক যেনো ট্রম্পের সঙ্গী। ট্রাম্প-রুশ আতাত বিতর্কও ছিলো বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। মার্কিন নির্বাচন চলাকালে রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাতের ঘটনায় বড়সড়

বিপদের মুখে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীতে এ বিষয়ে তদন্তে দোষী

সাব্যস্ত হন   ট্রাম্পের প্রচারদলের আধিকারিক জর্জ পাপাডোপুলোস।

মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের বিষয়ে এফবিআইয়ের কাছে মিথ্যে তথ্য দিয়েছিলেন পাপাডোপুলোস। এফবিআই জানায়, জর্জ জেরায় স্বীকার করেছেন ট্রাম্পকে ক্ষমতায় আনতে চিরশত্রু রাশিয়া গোপনে মদত জুগিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিন্টনকে কী করে দমিয়ে দেওয়া যায়, সে ব্যাপারেও পরামর্শ দিয়েছে। যদিও রাশিয়া বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জলবায়ূ ইস্যুতে প্যারিস চুক্তি থেকে সরে এসে একগুয়েমি স্বভাবের পরিচয় দিয়েছেন ট্রাম্প। সমালোচিত হয়েছেন বিশ্ব নেতাদের কাছে।

উত্তর কোরিয় নেতার যুদ্ধাংদেহী চেহারা দেখেছে বিশ্ব। তাদের একের পর এক ক্ষেপণাত্র পরীক্ষায় উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ব নেতারা। বেশক’টি পরমাণু ক্ষেণপাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। দেশটির দাবি, তাদের কাছে নাকি হাইড্রোজেন বোমাও আছে!

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতেই পারে, তাই বলে তা যদি হয় পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র, তাহলে উদ্বেগের মাত্রা চরমে পৌঁছায়। বিশ্বের অনেক দেশের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র আছে কিন্তু পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র আছে হাতেগোনা কয়েকটি দেশর কাছে।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার শুরু সেই ১৯৮৪ সাল থেকে। সেই থেকে গত ৩৩ বছরে প্রায় দেড়শ’রও বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। তবে উত্তর কোরিয়াকে শায়েস্তা করতে বছর জুড়ে  নানা রকম হুমকি ধামকি দিয়ে গেছেন মার্কিন প্রসিডেন্ট ট্রাম্প।

বিশ্বব্যাপী উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলাও ছিলো এ বছরের আলোচিত ঘটনার একটি। চলতি বছরের মে মাসে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের

নামীদামী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালায় ‘ওয়ানাক্রাই’ নামের একধরণের ম্যালওয়্যার।

এতে ৩ লাখ কম্পিউটার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়।ক্ষতিগ্রস্থ এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিলো ব্যাংক, হসপিটাল ও কর্পোরেট কোম্পানি। ওই সাইবার হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে মার্কিন প্রশাসন।

ওয়ানাক্রাই নিয়ে তদন্ত চালানো এক কর্মকর্তা জানান, উত্তর কোরিয়ার পক্ষে এই হামালা চালায় লেজারাস গ্রুপ নামে একটি হ্যাকার দল।

এ বছর বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে পানামা পেপার্স। বহু ক্ষমতাধর ব্যক্তির কর ফাঁকির চিত্র উঠে আসে ওই পেপার্সে। পানামা পেপার্স কেলঙ্কারিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে নওয়াজ শরীফের পদত্যাগ ছিল বছরের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি। দুর্নীতির অভিযোগে পাকিস্তানের আদালত নওয়াজ শরীফকে দেশ পরিচালনায় অযোগ্য ঘোষণা করায় গত ২৮ জুলাই পদত্যাগ করেন তিনি। ২০১৫ সালের আলোচিত পানামা পেপার দুর্নীতি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তানের

প্রধানমন্ত্রীকে সরকারী কোন দপ্তর পরিচালনার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

নওয়াজ শরীফের কন্যা মরিয়ম এবং তার স্বামী সাফদার, অর্থমন্ত্রী ইসহাকদার এবং অন্যান্যদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে পানামা পেপার্স দুর্নীতির মামলা হয়েছিল।

সেৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক করা হয় প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালালসহ বেশক’জন সাবেক মন্ত্রীকে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী কমিটি তাদের আটক করে।

কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে সেৌদি আরব ও তার মিত্ররা। অবরোধ তুলে নিতে শর্ত দেয়া হলেও মাথা নত করেনি ধনী দেশ কাতার।

ইয়েমেনে যুদ্ধ চালাচ্ছে সেৌদি আরব। বছরজুড়েই রক্তাক্ত হয়েছে ইয়েমেন।

এ বছরও জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে বিশ্ব। ইউরোপের বিভিন্ন শহরেই হয়েছে বেশিরভাগ হামলা। এ বছরের মার্চ মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ইউরোপের  সাতটি শহরে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। কিছু হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটস (আইএস)। কিছু হামলা আবার ব্যক্তিগত। স্পেনের মাদ্রিদ, ইংল্যান্ডের ফ্রাংকফুর্ট, লন্ডন, ফ্রান্সের প্যারিস, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস, ফ্রান্সের নিস, স্পেনের বার্সেলোনা– একের পর এক ভয়াবহ হামলার শিকার ইউরোপ।

তবে ইরাক-সিরিয়া থেকে আইএসের বিদায় ঘন্টা বেজে যাওয়াটা স্বস্তির বিষয়। ইরাকি বাহিনী আইএস হঠিয়ে দিয়েছে। আবার সিরয়ায়ও আইএসের পতন ঘটেছে। সিরিয়ার রাকা ছিলো আইএস এর শক্তিশালী ঘটি। সেখান থেকেও পিছু হটেছে জঙ্গিরা। এখন সিরয়ার ছোট্ট কিছু পকেটে তাদের অবস্থান রয়েছে।

কাতালুনিয়ার স্বাধীনতার দাবিতে স্পেনের বার্সেলোনা ছিলো উত্তাল। কাতালুনিয়া রাজ্যটি বড়লোকদের রাজ্য। স্পেনের অর্থনীতির বড় একটি অংশ যোগান দেয় কাতালুনিয়া। বহুদিন থেকেই স্বাধীনতার দািব জানিয়ে আসছিলো কাতালুনিয়ানরা। গণভোটে স্বাধীনতার পক্ষেই রায় দেয় জনগণ। স্বাধীনতা ঘোষণা পর কাতালোনিয়ার নেতা পুজদেমন্ডের বিরুদ্ধে গ্রফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তিনি দেশ ছেড়ে পালান।

গত বছর বেশ কিছু বিপর্যয়ে কেঁদেছে মানুষ। লন্ডনের গ্রিনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে মারা যায় ৭৯ জন। যুক্তরাষ্ট্রে একটি ভবনে আগুনে পুড়ে মারা যায় ১২জন। আর মুম্বাইয়ে জন্মদিনের পার্টিতে আগুন লেগে ১৫ জন দগ্ধ হয়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস-বণ্যায় প্রান হারায় বহু মানুষ।

উপমহাদেশের রাজনীতিতে কংগ্রেসের দায়িত্বে এসেছেন রাহুল গান্ধী। ১৬ ডিসেম্বর কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন মা সোনিয়া গান্ধীর কাছ থেকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে