আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ত্রাণ নিয়ে চাঁদাবাজি: স্বামীসহ নারী ইউপি মেম্বার আটক, চেয়ারম্যান পলাতক

ত্রাণ নিয়ে চাঁদাবাজি: স্বামীসহ নারী ইউপি মেম্বার আটক, চেয়ারম্যান পলাতক

ত্রাণ নিয়ে চাঁদাবাজি: স্বামীসহ নারী ইউপি মেম্বার আটক, চেয়ারম্যান পলাতক

প্রতিচ্ছবি সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ত্রাণ নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক ইউপি সদস্যের স্বামীকে আটক করেছে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. শাহাবউদ্দিন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কাতার ভিত্তিক একটি সংগঠনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৮৯৬ জনকে ত্রাণ সহায়তা দেয় সংগঠনটি। ত্রাণ সহায়তার মধ্যে জনপ্রতি প্রায় দুই হাজার টাকার সমপরিমাণ চাল, ডাল, ছানা, তেল, খেজুরসহ বিভিন্ন প্রকার পণ্য ছিল।

চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ রায়, সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে ত্রাণগ্রহীতাদের তালিকা প্রণয়ন করেন। আমার মতো অনেক ইউপি সদস্যকে ত্রাণ বিতরণের কথা জানানো হয়নি।

তিনি জানান, প্রায় দুই-তিন হাজার টাকার ত্রাণ দেয়া হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে লামাগাঁও গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামের অসহায় কৃষকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ করে টাকা হাতিয়ে নেন ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ও লামাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাফসা বেগমের স্বামী কয়েস মিয়া ও তার লোকজন।

ত্রাণ না পেয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে লামাগাঁও বাজারে সংঘবদ্ধ উত্তেজিত জনতা কয়েস মিয়াকে আটক করেন। আটক স্বামীকে উদ্ধার করতে গিয়ে ইউপি সদস্যা হাফসা বেগমও উত্তেজিত জনতার হাতে আটক হন।

স্থানীয় লোকজন জানান, এলাকার ১০ জন মেম্বার ও তাদের দালালদের মাধ্যমে প্রত্যেক কার্ডগ্রহীতাদের কাছ থেকে ত্রাণ বিতরনের দোহাই দিয়ে চেয়ারম্যান নিজে নগদ পার্সেন্টিজ গ্রহন করেন।

চিহ্নিত দালালরা হল- খোকন মিয়া, কালাম, তপন বাবু, সারোয়ার, আব্দুর রউফ, লিটন মিয়া, শ্যামনূর,আব্দুল হাইয়্যুম,সাইফুল ইসলাম ও জুবায়ের প্রমুখ। এরা চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রত্যেকের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়ে তালিকায় নাম উত্তোলন করে।

ত্রাণ বিতরন শুরু হলে ত্রাণ প্রদানকারীদের বক্তৃতার একপর্যায়ে সকল ত্রাণ গ্রহীতারা কর্তৃপক্ষকে জানান,তাদের কাছ থেকে চেয়ারম্যানের কথা বলে মেম্বার ও তাদের দালালরা নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঘটনাস্থলে আসার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানকে কল করা হলে তিনি সুকৌশলে পালিয়ে যান।

অভিযোগের ব্যাপারে চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন,যারা আমার নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আদায় করেছেন বলে শুনা যাচ্ছে তারা আমার ঘনিষ্ট কেউ নয় তারা আমার ভোটার। আমি তাদেরকে কখনও বলিনি কারো কাছ থেকে আমার নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা আদায় করতে।

ইউপি সদস্যরা বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই মহিলা সদস্যা,তাদের স্বামী ও চেয়ারম্যানের দালালরা রিলিফ গ্রহনকারীদের কাছ থেকে নগদ ঘুষ নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তাহিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসআই তপন, এসআই আমীর ও এসআই ইমাম এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ফোর্স প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মাসুক মিয়াসহ লামাগাও এলাকাবাসী জানান,পুলিশ জনতা কর্তৃক আটককৃত ইউপি সদস্যা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে থানার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে