আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ২০১৭: নীরব রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী রিহার্সেল

২০১৭: নীরব রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী রিহার্সেল

২০১৭: নীরব রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী রিহার্সেল

ইদ্রিস আলম:

বিদায় নিচ্ছে ২০১৭। বছরজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ছিলো শান্তিপূর্ণ। ছিলো নির্বাচনী রিহার্সেল। নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ করেছে এ বছরই দায়িত্ব নেয়া কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। বছর শেষে রংপুর সিটিতে উৎসবমূখর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে খুশি দেশবাসী। রাজনীতিতে পাল্টা পাল্টিও কম হয়নি। ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের অকাল মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোক।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০১৮’র শেষ অথবা ২০১৯’র শুরুতেই হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই প্রস্তুত হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ফেব্রুয়ারিতে শপথ নেয়ার পরই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করে কমিশন। ঘোষণা করে নির্বাচনী পথনকশা।

এরপরই রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন যখন দায়িত্ব নেয় তখন প্রতিক্রিয়াটা ভালো ছিলো না বিএনপির। তবে শেষ পর্যন্ত সংলাপে যোগ দেয় বিএনপি।

সংলাপে অংশ নিয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বহু প্রস্তাব দেয়। মূলত: নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চায় প্রায় সব ক’টি দল। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের প্রস্তাব দিলেও বিপক্ষে অবস্থান নেয় বিএনপি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শেষে সুশীল সমাজের কাছ থেকেও আসে বেশ কিছু প্রস্তাব।

বসে নেই রাজনৈতিক দলগুলো। ভিতরে ভিতরে তারাও প্রস্তুত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এখনও ঘটা করে কিছু না বলেলেও এরই মধ্যে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী জোট গড়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

আরেক সাবেক রাষ্ট্রপতি বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে সামনে রেখে যুক্তফ্রন্ট নামে নতুন জোট গড়া হয়েছে। বদরুদ্দেোজা চৌধুরীর সাথে আছেন জাসদের আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দকী ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।

বছরে শেষ দিকে রংপুর সিটি নির্বাচন ছিলো বর্তমান কমিশনের জন্য একটি পরীক্ষা। সে পরীক্ষায় বেশ ভালোভাবেই উতরেছে ইসি। কোনো রকম নির্বাচনী সহিংসতা, জালভোট, অনিয়মের কোনো চিত্রই ছিল না এই নিার্বাচনে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও ইসিকে একশতে একশ’ দিয়েছেন।

নির্বাচনে সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগের সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারান জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এই জয়ে শক্ত ঘাটি রংপুরে আবারো উজ্জীবিত হয়েছে জাতীয় পার্টি।

এর আগে বছরের শুরুর দিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচিত হন বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু।

রাজনীতিতে পাল্টা-পাল্টিও কম হয়নি। আওয়ামী লীগের সমাবেশের পর পাল্টা সমাবেশ করে বিএনপি। আবার নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও ছিলো বছরজুড়ে। বিভিন্ন সমাবেশে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবারও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছেন। ঠিক তেমনি বিএনপি চেয়ারপার্সন ছাড়াও অন্য নেতারাও বিএনপির পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। যদিও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে আসছে দলটি।

এ বছর হরতাল হয়নি বললেই চলে। তবে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হরতাল করে বামদলগুলো।

ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের অকাল মৃত্যু বিষাদ ছড়িয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তাঁর মৃত্যুতে শূণ্য হয়েছে মেয়র পদ। এরইমধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করতে এরইমধ্যে জনসংযোগ শুরু করেছেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। আর তাবিথ আউয়ালে ভরসা রাখবে বিএনপি। নির্বাচন করবেন ব্যান্ডদল মাইলসের শাফিন আহমেদও। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই উত্তর সিটির ভোট করবে কমিশন।

আগামী বছর হবে তাই নির্বাচনের বছর।

ইএ/এ আর/ডিডিআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে