আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > মানবিকতায় অনন্য, বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা

মানবিকতায় অনন্য, বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা

রাকিব হোসেন:

নেতৃত্বের দৃঢ়তা, সাহস আর সততায় অনন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই সাহসী নেতৃত্বে দেশ এগিয়েছে বহুদুর। উন্নতির সব গ্রাফেই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল। আর মিয়ানমার সেনাদের বুটের তলায় যখন পিষ্ঠ হচ্ছে মানবতা ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন শেখ হাসিনা। তাইতো তিনি মাদার অব হিউম্যানিটি। প্রতিচ্ছবির দৃষ্টিতে তাই বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব শেখ হাসিনা।

লাল-সবুজের ছোট্ট দেশটার মাথায় জনসংখ্যার বোঝা। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন জনশক্তি হিসেবে।

ফিরে যাচ্ছি আগস্টে। ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে রোহিঙ্গাদের ওপর শুরু হয় বার্মিজ সেনাবাহিনীর গণহত্যা। জীবন বাঁচাতে জল জঙ্গল পেরিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি জমায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা। প্রথম দিকে চরম ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ। কূটনৈতিকভাবে সংকট মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে ৬ লাখ রোহিঙ্গাকেও খাওয়াতে পারবো। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বুকে জড়িয়ে নেন তিনি। বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়ানোয় বিশ্ব তাঁকে আখ্যা দেয় ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ (মানবতার জননী)।

ইউএনএইচসিআর- এর শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেছেন, শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ যে মমত্ববোধ দেখিয়েছে, তা তিনি তার কর্মজীবনে কখনো দেখেননি। তার সবটুকু বানীতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সক্ষমতার চিত্র ফুটে ওঠে।

সমব্যাথিত শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনার মানবিকতা, নেতৃত্ব, ধৈর্য ও সাহসে বিমোহিত  অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইন ক্যানবেরার অধীনে পরিচালিত, পিস অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান ড. হেনরিক উরডাল। তিনি মনে করেন, ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকেই ‘বিশ্ব শান্তির নেতা’র মর্যাদা দেয়া উচিত। সত্যিকার অর্থেই যদি শান্তিতে অবদানের জন্য কোনো পুরস্কার থাকে, তাহলে সে পুরস্কার পাবার একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি শেখ হাসিনা।’

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে কফি আনান কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নসহ তিনি সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা প্রস্তাব রাখেন। তাঁর ওই পাঁচ দফা প্রস্তাব হয়ে ওঠে মানবিক বিশ্বের কন্ঠস্বর। শেখ হাসিনার ভাষণের পরই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পক্ষে সরব হয় গোটা বিশ্ব।

যখনই কোনো দুর্যোগ এসেছে শেখ হাসিনা তখনই দাঁড়িয়েছেন কবলিতদের পাশে। হাওরে ফসল হারিয়ে মানুষ যখন দিশেহারা তখন তাদের আশা দেখিয়েছন শেখ হাসিনা। উত্তরের বানভাসী মানুষের পাশেও দাঁড়ান তিনি।

শেখ হাসিনার সততা প্রশ্নাতীত। বিশ্বের সৎ নেতাদের তালিকায় তিনি তৃতীয়। ফোর্বস ম্যাগাজিন জরিপে বিশ্বের ৪৭তম ক্ষমতাধর নারী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফরচুনে প্রকাশিত তালিকায়, বিশ্ব সেরা ৫০ নেতার মধ্যে শেখ হাসিনা দশম স্থানে। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটেছে।

কানাডার আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী মেরী ক্লদ বিবেউ বলেছেন, শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে দক্ষিণ এশিয়ার স্তম্ভ। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এ্যাফেয়ার্স সাময়িকীতে মানবজাতির উন্নয়ন ও কল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক চিন্তা, গবেষণা, উদ্ভাবন, সৃষ্টি এবং আকর্ষণমূলক কাজের জন্য বিশ্বের যে ১০০ শীর্ষ ব্যক্তির তালিকা করা হয় সেখানে শেখ হাসিনার অবস্থান ১৩তম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৩০টি পুরস্কার ও পদক অর্জন করেছেন।

তার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন ৭ দশমিক ১১। তার পরিকল্পনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ১০০ ইকোনমিক জোন।

সব ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে শেখ হাসিনার সাহসী সিদ্ধান্তেই পদ্মার বুকে মাথা তুলেছে ষোলো কোটি বাঙালির স্বপ্নের পদ্মাসেতু। পাশাপাশি চার লেন মহাসড়ক, উড়ালসড়ক এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। কাজ শুরু হয়েছে মেট্রারেলেরও।

শেখ হাসিনা স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখান। তাইতো বাংলাদেশ পাচ্ছে নিজস্ব স্যাটেলাইট। শিগগিররই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যাবে মহাকাশে। ফোর-জি যুগে প্রবেশ করছে দেশ।

যখন ক্ষমতা নিয়েছিলেন দেশ তখন অন্ধকারে। সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেশকে আলোর পথে আনেন শেখ হাসিনা। বিদ্যুতের অনেক বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে তাঁর হাত দিয়েই। রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সাহস কেবল তিনিই দেখাতে পারেন।

শেখ হাসিনার পরিকল্পনাতেই বাংলাদেশ এখন প্রায় সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল। আইটি খাত থেকে বড় আয়ের স্বপ্নও দেখছে বাংলাদেশ।

ভিশন ২০২১ নিয়ে বাস্তবতার দেয়াল ঘেঁসে প্রতিকুলতাকে পিছনে ফেলে একটু একটু গড়েছেন ছোট্র সোনার ডিজিটাল বাংলাদেশ।

আজ বাঙ্গালি গর্বভরে বলতে পারে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ। আর এটা সম্ভব হয়েছে জাতির জনকের রক্তের যোগ্য উত্তরাধিকার শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে।

আর এইচ/এমএম/ডিডিআর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে