আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গনে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি

বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গনে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রস্তুতি চলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৩তম আসরের

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রস্তুতি চলছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৩তম আসরের। আগামী ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন মাসব্যাপী এ মেলার। এরই মধ্যে মেলা প্রাঙ্গণে চলছে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। তবে দেশের বৃহত্তম এ বাণিজ্যিক আয়োজনের মূল মাস্টারপ্ল্যানে তেমন কোনো নতুনত্ব নেই। গতানুগতিকভাবেই এর আয়োজন ও ব্যবস্থাপনার কাজ তদারকি করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

তবে এবার মেলার সাজসজ্জায় একটু ভিন্নতা আনা হচ্ছে। প্রধান ফটক সাজানো হচ্ছে পদ্মা সেতুর আদলে। এছাড়া সুন্দরবন ইকোপার্ক স্থাপনের জন্য একটি আলাদা স্থান রাখা হয়েছে পূর্বদিকে। মেলার কেন্দ্রে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের আকার দ্বিগুণ করা হয়েছে। এসব নতুন সংযোজন হলেও মেলা ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো থাকবে বরাবরের মতোই।

এ প্রসঙ্গে ইপিবির সচিব ও মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান আবু হেনা মোরশেদ জামান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ইপিবি মেলা আয়োজন করছে। ফলে মেলাটি এখন একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে। ফলে মূল ব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজন নয়। তবে আমরা এ বছর ডিজিটাইজেশন ও দেশের সাফল্যের প্রতিফলনের দিকে একটু গুরুত্ব দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রফতানিমুখী বিভিন্ন খাতের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রতিবছর বাণিজ্যমেলার আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ইপিবি। এ মেলা থেকে প্রতিবছর কয়েকশ কোটি টাকার রফতানি আদেশ আসে। গত বছর বাণিজ্যমেলা থেকে ২৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকার রফতানি আদেশ এসেছিল। তাছাড়া ১১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার পণ্য বেচাকেনা হয়েছিল। এবার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার অবস্থা ভালো থাকায় আরও বেশি রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

মেলা প্রসঙ্গে আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও ইপিবির ডেপুটি ডিরেক্টর (অর্থায়ন) মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘এবার ছোট-বড় মিলে ৫৪০টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল থাকছে মেলায়। এর মধ্যে ১৭টি দেশ থেকে মোট ৪৩টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।’

প্রাপ্ত তথ্যমতে, রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফার্নিচার, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক, হালকা প্রকৌশলসহ নানা খাতের ছোট-বড় কোম্পানি অংশ নিচ্ছে মেলায়। দুই মাস আগেই ইপিবি বিভিন্ন ধরনের প্যাভিলিয়ন ও স্টল বরাদ্দের জন্য জামানতসহ দরপত্র আহ্বান করে। তাতে জামানত দিয়ে প্যাভিলিয়নের জন্য আবেদন করেছিল শতাধিক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে লটারির মাধ্যমে ৬৫ প্রতিষ্ঠানকে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন (পিপি) বরাদ্দ দেওয়া হয় এ মাসের শুরুর দিকে।

মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ডিসেম্বরের প্রথম মাসেই বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সর্বশেষ ১২ ডিসেম্বর দেওয়া হয়েছে ছোট স্টলগুলোর বরাদ্দ। অনেক প্রতিষ্ঠানই বরাদ্দ ও পজিশন পেয়ে সাজসজ্জার কাজ শুরু করেছে। সরেজমিন মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, পুরোদমে চলছে বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণকাজ।

সূত্রমতে, ৬৫টি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ছাড়াও ৩৫টি প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন (পিএমপি), ১৫টি সাধারণ প্যাভিলিয়ন (জিপি), ২৬টি সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়ন (জিএমপি), তিনটি রেস্টুরেন্ট, ৭২টি প্রিমিয়ার স্টল, ২৫২টি সাধারণ স্টল ও ২২টি ফুডস্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এসএমই ফাউন্ডেশন, জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনকে (বিজেএমসি) সংরক্ষিত প্যাভিলিয়ন দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মিল্ক ভিটা, কারা অধিদফতর, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, এএসএপি হেলদি ফুড লিমিটেডের জন্য মিনি প্যাভিলিয়ন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

বিদেশিদের জন্যও রাখা হয়েছে প্রতিবারের মতো আলাদা প্যাভিলিয়ন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরই মেলা উš§ুক্ত করা হবে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ক্রেতাসাধারণের জন্য। কেন্দ্রীয়ভাবে মেলার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সেনিটারি ব্যবস্থাপনা করা হয় ইপিবির উদ্যোগে কেন্দ্রীয়ভাবে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা দায়িত্ব পালন করছে।

 

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে