আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > ইকোনোমিস্টের ‘কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার’ তালিকায় বাংলাদেশ

ইকোনোমিস্টের ‘কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার’ তালিকায় বাংলাদেশ

ইকোনোমিস্টের ‘কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার’ তালিকায় বাংলাদেশ

প্রতিচ্ছবি ডেস্ক:

দ্য ইকোনমিস্ট এর ২০১৭ সালের ‘কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা হতে পারতো বাংলাদেশের নাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাম এলো ফ্রান্সের। তবে এ খেতাব জয়ে বাংলাদেশের খুব ভালো সম্ভাবনা ছিল বলেই জানিয়েছে তারা।

২০১৩ সাল থেকে প্রত্যেক ক্রিসমাসে দ্য ইকোনমিস্ট “বছরের সেরা দেশ” বেছে নিয়ে এই প্রকাশনা প্রকাশ করে। বছরের সেরা দেশগুলোর এ অবস্থানে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স ছাড়াও স্থান পেয়েছিল কেবল আর্জেন্টিনা ও দক্ষিণ কোরিয়া।

এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের কারণ হিসেবে তারা তুলে ধরেছে ৬ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে আশ্রয় দানের বিষয়টি।

ইকোনোমিস্ট ম্যাগাজিনে বলা হয়, আমরা স্বীকার করেছিলাম যে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের আশ্রয় আর চিকিৎসা অসম্মানজনক ছিল। কিন্তু  ভবিষ্যতে এটি কতটা খারাপ হবে তা নিয়ে ভাবতে ব্যর্থ হয়েছি। এ বছর ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বার্মার সেনাবাহিনীর ধর্ষণ ও নির্যাতন এড়িয়ে গ্রামগুলো থেকে পালিয়ে যায় এবং আমরা বাংলাদেশকে তাদের অনেককে গ্রহণ করার জন্য সাধুবাদ জানাই।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

যাইহোক, অর্থনীতিবিদরা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বেছে নেননি। এর কারন হিসেবে বলা হয়, ‘যদি নাগরিক স্বাধীনতা নষ্ট না করে এবং ইসলামপন্থীদের ভয় দেখানো না হত তবে এ খেতাব জয়ে তাদের (বাংলাদেশ) যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল।’

রোহিঙ্গা আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ একটি মহান ও মানবতার কাজ করছে আর সে কারণেই বাংলাদেশকে ২০১৭ সালের কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার বলেই মনে করতে চেয়েছে তারা।

ইকনোমিস্ট আরও বলেছে, বাংলাদেশ নামের দেশটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং দারিদ্র নিরসনে চমকপ্রদ ভূমিকা রাখছে।

তবে বাংলাদেশের কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত উপাধিটি চলে যায় ফ্রান্সের কাছে।

এবারের তালিকায় স্থান পাওয়া দেশগুলো নিয়ে তারা বলেন, আমরা এমন একটি দেশ খুঁজছিলাম, যারা মাত্র দুই-এক মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে,এবং বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল অবস্থান করে নিয়েছে।

দ্য ইকোনোমিস্ট দাবি করে, এটি অর্থনীতির কোন ঘটনাপঞ্জি নয়। বরং এটি উৎকর্ষতা এবং উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতার মধ্যে বিরাজমান প্রতিদ্বন্দিতায় অংশগ্রহণ করে। এটি মুক্ত বাজার, বিশ্বায়ন, মুক্ত অভিবাসন এবং সামাজিকভাবে মুক্ত বিষয়সমূহকে সমর্থন করে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ দ্য ইকনোমিস্ট মিয়ানমারকে ‘কান্ট্রি অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছিলো। এ বছরের ঘোষণার মুখবন্ধে পত্রিকাটি সেই ঘোষণাকে একটি ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছে। তখন দেশটি সামরিক জান্তার হাত থেকে গণতন্ত্রের পথে হাঁটা শুরু করেছিলো বলেই ওই উপাধি দিয়েছিল পত্রিকাটি। কিন্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দেশটির বর্তমান সরকারের অত্যাচার নিপীঁড়নের কথা এখন সবার জানা।

সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট

এস এইচ / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে